ইসলামের ইতিহাসে আল-আজিজের শাসনকাল ছিল গৌরবজনক। - উক্তিটি যথার্থ।
আল আজিজের শাসনামলে ফাতেমি শক্তি বাগদাদের আব্বাসি এবং কর্ডোভার উমাইয়া বংশের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে একমাত্র শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
আল আজিজ জনহিতকর কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি বহু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাসাদ নির্মাণ করেন। তিনি কায়রোতে ২ মিলিয়ন দিনার ব্যয়ে একটি রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেন। তিনি বাবুল নসরের সন্নিকটে এক বিরাট মসজিদ নির্মাণ করেন যা 'হাকিমের মসজিদ' নামে পরিচিত। খলিফা আল আজিজ রাজস্ব ক্ষেত্রে যথেষ্ট সংস্কার সাধন করেন। তিনি প্রথমে উত্তর আফ্রিকা ও মিশরে ওজারাত প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেনাবাহিনীকে সুনির্দিষ্ট হারে বেতন দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেন। ইবনে কিল্লিসকে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং তার মাধ্যমে রাজকোষ পূর্ণতা লাভ করে। খলিফা আল আজিজ প্রথম উত্তর আফ্রিকার বার্বারদের মোকাবিলা করার জন্য তুর্কি ও নিগ্রোদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী গঠন করেন। পরবর্তীকালে এ বাহিনীই ফাতেমি বংশের পতন ঘটায়। তার রাজত্বকালে কায়রোতে বহু স্থাপত্য শিল্প নির্মিত হয়। এগুলোর মধ্যে কাশরুর জাহার, কাশরুর বাহার, পারুল প্যাভেলিয়ন উল্লেখযোগ্য। তিনি সাম্রাজ্যের সর্বত্র সেতু, মসজিদ, সরাইখানা নির্মাণ করেন। এছাড়াও জাঁকজমক ও বিলাসী, খ্রিষ্টানদের প্রতি সহনশীল নীতি, কলা ও বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ও ব্যবসায় বাণিজ্যের প্রসারের ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল অপরিসীম।