উদ্দীপকে বর্ণিত দুই খলিফার মধ্যে আব্বাসি খলিফা আল মনসুর আমার মতে অধিক কৃতিত্বের দাবিদার। আব্বাসি খলিফা আল মনসুর আব্বাসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন; যদিও আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ এ বংশের প্রথম নৃপতি ছিলেন। কারণ আল মনসুর তার অক্লান্ত পরিশ্রম, অদম্য সাহস, দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার দ্বারা নবপ্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যের ভিতর- বাইরের সকল বিদ্রোহ দমন করে আব্বাসি সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন। আল মনসুর খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর কঠোর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সাথে আব্দুল্লাহ আবু মুসলিম, সানবাদ, রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়, খোরাসানের বিদ্রোহ, কুর্দিস্তানের বিদ্রোহসহ বিভিন্ন ব্যক্তি, সম্প্রদায় ও স্থানের বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি ৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রোমানদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে জয়লাভ করেন। তার অন্যতম কীর্তি বাগদাদ নগরী স্থাপন। খলিফা আল মনসুর এতসব গোলযোগ দমন করলেও জনহিতকর কার্যে মোটেও পিছপা ছিলেন না। জনকল্যাণার্থে তিনি দেশের মধ্যে রাস্তাঘাট,পয়ঃপ্রণালি, সরাইখানা, মসজিদ ও হাসপাতাল নির্মাণ করেন। সে সাথে সাহিত্য, ইতিহাস, গণিত, চিকিৎসা, জ্যোতিষ ও হাদিসশাস্ত্রে উন্নয়নের জন্য গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেন। একথা ঐতিহাসিক সত্য যে, ফাতেমি বংশের প্রতিষ্ঠাতা উবায়দুল্লাহ আল মাহদী প্রায় আল মনসুরের অনুরূপ কার্য সম্পাদন করে। তবে এ দুই খলিফার রাজ্যের পরিধি, পরিস্থিতি, ভৌগোলিক গুরুত্ব ইত্যাদি মূল্যায়ন করে এটি স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, তুলনামূলকভাবে আল-মনসুরই অধিক কৃতিত্বের দাবিদার।