উদ্দীপকে বর্ণিত চিত্রটি আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার যুগের সামাজিক অবস্থাকে নির্দেশ করছে।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বের প্রায় একশ বছর সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়। এটি ছিল অজ্ঞতা বা বর্বরতার যুগ। সভ্য সমাজের কোনো বৈশিষ্ট্য তখনকার মানুষের মধ্যে ছিল না। সুষ্ঠু, সুন্দর, সুশৃঙ্খল জীবন সম্পর্কে তারা একেবারেই অজ্ঞ ছিল। হত্যা, রাহাজানি, লুটতরাজ, নারী হরণ, জুয়া খেলা প্রভৃতি গর্হিত কাজে তারা লিপ্ত থাকত। তবে সামাজিক অধঃপতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে গেলেও তারা সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ এবং মানবীয় কিছু গুণাবলি ধারণ করেছিল। উদ্দীপকে বর্ণিত চিত্রটিও এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত প্রদান করছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সিয়েরা লিয়নে লুটতরাজ, ঘুম, হানাহানি, ধর্ষণ ইত্যাদি বিষয় ছিল নিত্য ঘটনা। তবে সমাজের এরূপ নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্যেও সেখানকার জনগোষ্ঠীর জাতীয় গান চর্চা হতো আপন গতিতে। এ অবস্থাটি মূলত প্রাক-ইসলামি আরবের অবস্থাকে নির্দেশ করে। আর সে সময়ের সামাজিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। প্রাক-ইসলামি আরব সমাজে নারী বা কন্যাশিশুদেরকে অভিশাপ মনে করা হতো। কন্যাসন্তানের বাবা হওয়াকে লজ্জাকর মনে করে তাদেরকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। অন্যদিকে নারীদের কোনো মর্যাদা ছিল না। তাদেরকে ভোগ্যপণ্য ছাড়া আর কিছুই ভাবা হতো না। আবার মদ, জুয়া ছিল তখনকার মানুষের নিত্য দিনের সাথী । ঐতিহাসিক খোদাবক্স এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন— মদ, নারী, জুয়া ছাড়া তারা একদিনও চলতে পারত না'। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অধঃপতনের দিকগুলো উদ্দীপকের দেশে চিত্রিত হয়েছে।