উদ্দীপকের বর্ণিত অঞ্চলের মতো প্রাক-ইসলামি আরবের অধিবাসীদের ওপরও ভৌগোলিক পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব ছিল।
আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের দেহ, মন, চরিত্র ও জীবনযাত্রার ওপর বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশের যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায়। শুষ্ক আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি, অনুর্বরতা প্রভৃতি প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ একদিকে যেমন আরব বেদুইনদের রুক্ষ ও দুঃসাহসিক জাতিতে পরিণত করেছে অপরদিকে তারা ধৈর্যশীল, কষ্টসহিষ্ণু ও পরিশ্রমী হয়েছে । উদ্দীপকের অঞ্চলটির অধিবাসীদের ওপরও ভৌগোলিক অবস্থার এ ধরনের প্রভাব দেখা যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তিনদিকে সমুদ্রবেষ্টিত সিঙ্গাপুর দেশটি একটি অনুর্বর অঞ্চল। এরূপ ভৌগোলিক অবস্থানের ফলে শহরের কিছু লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ পেলেও গ্রামের লোকদের পশুপালন বা মাছ শিকার ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। এমনকি তারা চুরি, ডাকাতি ও লুটতরাজ করতে বাধ্য হতো। অনুরূপভাবে প্রাচীন আরব উপদ্বীপের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতির প্রভাবে এর অধিবাসীরা সংগ্রামী হয়ে ওঠে। শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া এবং খাদ্য ও পানীয়ের অভাব আরবদের দুর্ধর্ষ ও সংঘাতময় জীবনযাত্রার দিকে প্ররোচিত করেছে। শহরবাসী আরবরা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত আরাম-আয়েশে জীবন পরিচালনা করলেও পশুচারণ ও পালনই ছিল আরব বেদুইনের প্রধান পেশা। এছাড়া আরব বেদুইনদের একটি দল কাফেলা লুটতরাজের মাধ্যমেও জীবিকা নির্বাহ করত। পশুপালন ও খাদ্যের সন্ধানে আরবদের প্রতিনিয়ত একস্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে হতো। এর ফলে তারা গোত্রবদ্ধ হয় এবং তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আসাবিয়া বা গোত্রপ্রীতি। অপরদিকে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাবে আরবদের মধ্যে মুক্ত চিন্তার উন্মেষ ঘটে, যা তাদেরকে কাব্যচর্চায় দারুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
উপরের আলোচনায় দেখা যায় যে, ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়া প্রাক-ইসলামি আরব অধিবাসীদের জীবন-জীবিকা ও আচার-আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।