Chapter 1 : প্রাক-ইসলামি আরব Islamic History 1st paper

HSC Islamic History 1st paper এর Chapter 1 : প্রাক-ইসলামি আরব অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৪৬

প্রশ্ন

Islamic History 1st paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

এক সময় পৃথিবীতে দাস ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। শক্তিশালী দেশ তাদের কৃষিকাজের জন্য দরিদ্র দেশ থেকে অশিক্ষিত লোকদেরকে এনে কৃষিকাজে নিয়োজিত করত। এদের অক্লান্ত পরিশ্রমের দ্বারা ধনী দেশ কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। তবে তাদের কোনো ব্যক্তি স্বাধীনতা ছিল না। বরং তাদের উপর নির্যাতন করা হতো। তারা তাদের প্রভুর কথা মেনে চলতে বাধ্য হতো। মত প্রকাশের অধিকার না থাকায় এক সময় তারা দুভাগে বিভক্ত হয়ে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এ গৃহযুদ্ধের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য 'XX^{\prime} দেশের সরকার সংবিধান প্রণয়ন করে দাসদের স্বাধীনতা প্রদান করে। এ পদক্ষেপের ফলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

Rajshahi · 2017

হুদায়বিয়ার সন্ধি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তর

হুদায়বিয়ার সন্ধি ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে স্বাক্ষরিত হয়।
আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে ইসলামপূর্ব আরবের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ সময়কালকে বোঝায়। আইয়ামে জাহেলিয়া শব্দটি আরবি। এর বাংলা অর্থ অজ্ঞতা বা অন্ধকারের যুগ। মহানবি (স)-এর আবির্ভাবের পূর্বে আরবের প্রায় একশ বছর সময়কালকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়। এ সময় মানুষের মধ্যে কোনো প্রকার নৈতিকতা, সততা, দায়িত্বজ্ঞান ও শালীনতা ছিল না। অন্যায়-অনাচারে সমাজ ভরপুর ছিল। এ জন্য এ সময়কালকে আইয়ামে জাহেলিয়া বা অন্ধকারের যুগ বলা হয়।
উদ্দীপকে ইসলাম-পূর্ব আরবের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে প্রাক-ইসলামি যুগের আরবের দাস প্রথার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। দাস প্রথা প্রাচীন বিশ্বের একটি কুপ্রথা। এ প্রথায় দেখা যায়, বিভিন্ন প্রয়োজনে দাসদেরকে ক্রয়-বিক্রয় করা হতো। এরপর তাদের ওপর কারণে-অকারণে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। উদ্দীপকে এই দাস প্রথারই একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে, যা ইসলামপূর্ব আরবের কথাই মনে করিয়ে দেয়। ইসলামপূর্ব আরবে পণ্যদ্রব্যের মতো হাটে-বাজারে দাস-দাসী বিক্রি করা হতো। তাদের কোনো স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা ছিল না। দাস- দাসীদের ওপর নিষ্ঠুর আচরণ করা হতো। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাস-দাসীদের বিয়ে হতো, তবে তাদের সন্তান-সন্ততিও মনিবের দাস হিসেবে পরিগণিত হতো। তাদেরকে উপপত্নী হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। অমানবিক নির্যাতন সহ্য করে তাদের জীবনযাপন করতে হতো। উদ্দীপকেও দাসদের ওপর অনুরূপ নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এক সময় পৃথিবীতে দাসরা ছিল ইসলামপূর্ব আরবের ন্যায় অবহেলিত। তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে কিছু ছিল না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ইসলামপূর্ব আরবের দাস প্রথার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবস্থা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ ছিল ইসলামের ইতিহাসের অনুরূপ- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উক্ত ব্যবস্থা অর্থাৎ দাস প্রথা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপ ইসলামের ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দাস-দাসীরা আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের স্বাধীনতা হরণ করা বা অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। এ প্রেক্ষিতেই বর্তমান বিশ্বে দাস প্রথার বিলোপ ঘটেছে। তবে ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এ প্রথার বিরুদ্ধে মহানবি (স)-এর অবস্থানই সামনে চলে আসে। উদ্দীপকে 'XX^{\prime} দেশের গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষিতে সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে দাসদের স্বাধীনতা প্রদানের বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে 'XX^{\prime} দেশের দাসরা পূর্ণ মর্যাদা ও অধিকার ফিরে পায়। অথচ ইসলামের ইতিহাসে আজ থেকে ১৫০০ বছর আগেই মহানবি (স) দাস- দাসীদেরকে প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছিলেন। মহানবি (স) দাস প্রথাকে ঘৃণা করতেন এবং দাসমুক্তিকে উৎসাহিত করতেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, 'গোলামকে আজাদি দানের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর কাজ আল্লাহর কাছে আর কিছুই নেই।' তিনি বিদায় হজের ভাষণে (৬৩২ খ্রি.) দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দানের মাধ্যমে তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করেছিলেন। তিনি এ ভাষণে বলেছিলেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরকেও তাই খাওয়াবে। তোমরা যা পরবে, তাদেরকেও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতোই মানুষ।' মূলত মহানবি (স)-এর এরূপ ভূমিকা সারা বিশ্বের জন্যই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এর ফলেই আজ দাস প্রথার উচ্ছেদ সম্ভব হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের ইতিহাসের গৃহীত পদক্ষেপ দাস প্রথার বিলোপে উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

এক সময় পৃথিবীতে দাস ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। শক্তিশালী দেশ তাদের কৃষিকাজের জন্য দরিদ্র দেশ থেকে অশিক্ষিত লোকদেরকে এনে কৃষিকাজে নিয়োজিত করত। এদের অক্লান্ত পরিশ্রমের দ্বারা ধনী দেশ কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। তবে তাদের কোনো ব্যক্তি স্বাধীনতা ছিল না। বরং তাদের উপর নির্যাতন করা হতো। তারা তাদের প্রভুর কথা মেনে চলতে বাধ্য হতো। মত প্রকাশের অধিকার না থাকায় এক সময় তারা দুভাগে বিভক্ত হয়ে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এ গৃহযুদ্ধের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য 'XX^{\prime} দেশের সরকার সংবিধান প্রণয়ন করে দাসদের স্বাধীনতা প্রদান করে। এ পদক্ষেপের ফলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

Rajshahi · 2017

হুদায়বিয়ার সন্ধি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তর

হুদায়বিয়ার সন্ধি ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে স্বাক্ষরিত হয়।
আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে ইসলামপূর্ব আরবের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ সময়কালকে বোঝায়। আইয়ামে জাহেলিয়া শব্দটি আরবি। এর বাংলা অর্থ অজ্ঞতা বা অন্ধকারের যুগ। মহানবি (স)-এর আবির্ভাবের পূর্বে আরবের প্রায় একশ বছর সময়কালকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়। এ সময় মানুষের মধ্যে কোনো প্রকার নৈতিকতা, সততা, দায়িত্বজ্ঞান ও শালীনতা ছিল না। অন্যায়-অনাচারে সমাজ ভরপুর ছিল। এ জন্য এ সময়কালকে আইয়ামে জাহেলিয়া বা অন্ধকারের যুগ বলা হয়।
উদ্দীপকে ইসলাম-পূর্ব আরবের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে প্রাক-ইসলামি যুগের আরবের দাস প্রথার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। দাস প্রথা প্রাচীন বিশ্বের একটি কুপ্রথা। এ প্রথায় দেখা যায়, বিভিন্ন প্রয়োজনে দাসদেরকে ক্রয়-বিক্রয় করা হতো। এরপর তাদের ওপর কারণে-অকারণে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। উদ্দীপকে এই দাস প্রথারই একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে, যা ইসলামপূর্ব আরবের কথাই মনে করিয়ে দেয়। ইসলামপূর্ব আরবে পণ্যদ্রব্যের মতো হাটে-বাজারে দাস-দাসী বিক্রি করা হতো। তাদের কোনো স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা ছিল না। দাস- দাসীদের ওপর নিষ্ঠুর আচরণ করা হতো। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাস-দাসীদের বিয়ে হতো, তবে তাদের সন্তান-সন্ততিও মনিবের দাস হিসেবে পরিগণিত হতো। তাদেরকে উপপত্নী হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। অমানবিক নির্যাতন সহ্য করে তাদের জীবনযাপন করতে হতো। উদ্দীপকেও দাসদের ওপর অনুরূপ নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এক সময় পৃথিবীতে দাসরা ছিল ইসলামপূর্ব আরবের ন্যায় অবহেলিত। তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে কিছু ছিল না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ইসলামপূর্ব আরবের দাস প্রথার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবস্থা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ ছিল ইসলামের ইতিহাসের অনুরূপ- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উক্ত ব্যবস্থা অর্থাৎ দাস প্রথা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপ ইসলামের ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দাস-দাসীরা আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের স্বাধীনতা হরণ করা বা অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। এ প্রেক্ষিতেই বর্তমান বিশ্বে দাস প্রথার বিলোপ ঘটেছে। তবে ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এ প্রথার বিরুদ্ধে মহানবি (স)-এর অবস্থানই সামনে চলে আসে। উদ্দীপকে 'XX^{\prime} দেশের গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষিতে সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে দাসদের স্বাধীনতা প্রদানের বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে 'XX^{\prime} দেশের দাসরা পূর্ণ মর্যাদা ও অধিকার ফিরে পায়। অথচ ইসলামের ইতিহাসে আজ থেকে ১৫০০ বছর আগেই মহানবি (স) দাস- দাসীদেরকে প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছিলেন। মহানবি (স) দাস প্রথাকে ঘৃণা করতেন এবং দাসমুক্তিকে উৎসাহিত করতেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, 'গোলামকে আজাদি দানের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর কাজ আল্লাহর কাছে আর কিছুই নেই।' তিনি বিদায় হজের ভাষণে (৬৩২ খ্রি.) দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দানের মাধ্যমে তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করেছিলেন। তিনি এ ভাষণে বলেছিলেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরকেও তাই খাওয়াবে। তোমরা যা পরবে, তাদেরকেও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতোই মানুষ।' মূলত মহানবি (স)-এর এরূপ ভূমিকা সারা বিশ্বের জন্যই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এর ফলেই আজ দাস প্রথার উচ্ছেদ সম্ভব হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের ইতিহাসের গৃহীত পদক্ষেপ দাস প্রথার বিলোপে উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জনাব আলী হায়দার সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি লক্ষ করলেন যে, জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সুরমা নদীর উভয় তীর প্লাবিত হয়। প্লাবনের ফলে উভয় তীরের ভূভাগ অত্যন্ত উর্বর হলেও বন্যায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ মহাসংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি সুরমা নদীর তীরে বাঁধ দেয়ার উদ্যোগ নেন এবং খাল কেটে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে কৃষিক্ষেত্রে উন্মোচিত হয় এক নতুন দিগন্ত। তবে শিল্পবাণিজ্য ও সংস্কৃতিতে সুনামগঞ্জ থাকে অবহেলিত।

Rajshahi · 2017

কোন শব্দ থেকে ব্যাবিলন শব্দের উৎপত্তি?

উত্তর

'বাব ইল' শব্দ থেকে ব্যাবিলন শব্দের উৎপত্তি।
জাজিরাতুল আরব বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জাজিরাতুল আরব বলতে আরব ভূখণ্ডকে বোঝায়। 'জাজিরা' আরবি শব্দ। এর অর্থ উপদ্বীপ। আর আরব একটি ভূখন্ডের নাম। সুতরাং জাজিরাতুল আরব অর্থ আরব উপদ্বীপ। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরব দেশ বিশ্বের সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এটি একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এর তিন দিক বিশাল জলরাশি এবং একদিক বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তর দ্বারা বেষ্টিত। এরূপ ত্রিভুজাকৃতির ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই আরব দেশকে জাজিরাতুল আরব বলা হয়।
উদ্দীপকের সুরমা নদীর সাথে ব্যাবিলনীয় কোন নদীর সামঞ্জস্য পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সুরমা নদীর সাথে মিসরীয় সভ্যতার নীল নদের সামঞ্জস্য রয়েছে। প্রকৃতির অপার দান নদী একদিকে যেমন মানুষের জীবন-জীবিকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে, তেমনি প্লাবন কিংবা বন্যায় নদীতীরবর্তী অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে নদী শাসনের যথাযথ কৌশল গ্রহণ করে এ ধরনের সংকট নিরসন করা সম্ভব হয়, যেমনটি লক্ষ করা যায় মিসরীয়দের বর্ষা মৌসুমে নীল নদে বাঁধ নির্মাণ করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থার মধ্যে। এভাবে পানি ধরে রেখে তা কৃষি কাজে ব্যবহার করায় মিসরীয়রা কৃষিক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিল। নীল নদকে কেন্দ্র করেই তারা সভ্যতার সূচনা করেছিল। উদ্দীপকে সুরমা নদীর এমন অবদানের চিত্রই লক্ষণীয়। বর্ষা মৌসুমে প্লাবন বা বন্যা দেখা দিলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সংকট উত্তরণে জেলা প্রশাসক জনাব আলী হায়দার সুরমা নদীতে বাঁধ দিয়ে এবং খাল কেটে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করেন, যা কৃষির ব্যাপক উন্নতিতে অবদান রাখে। একই পরিস্থিতি লক্ষ করা যায় প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায়। ইতিহাসে 'নীল কন্যা' নামে খ্যাত প্রাচীন মিসরে প্রতি জুন থেকে অক্টোবর মাসে বন্যায় বা প্লাবনে নীল নদের উভয় তীর প্লাবিত হতো। ফলে ফসলের প্রচুর ক্ষতি হতো। ফসলের ক্ষতি এড়াতে তারা নীল নদে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার কৌশল উদ্ভাবন করে। ফলে দেখা যায়, বন্যাশেষে নীল নদের উভয় তীর পলি মাটিতে ভরে যেত, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সুনামগঞ্জবাসীর জীবনে সুরমা নদীর অবদানের সাথে মিসরীয় সভ্যতায় নীল নদের অবদান সাদৃশ্যপূর্ণ।
জনাব আলী হায়দারের জেলার তুলনায় তোমার পঠিত সভ্যতাটি কোন অর্থে অধিক সমৃদ্ধ? যুক্তি দাও।

উত্তর

শিল্প, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করায় মিসরীয় সভ্যতা জনাব আলী হায়দারের জেলার তুলনায় অধিক সমৃদ্ধ। উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী জনাব আলী হায়দারের জেলাটি কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি অর্জন করলেও শিল্প, বাণিজ্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি দিক থেকে বেশ অবহেলিত। কিন্তু মিসরীয় সভ্যতায় এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। আধুনিক সভ্যতার মূলভিত্তি রচনাকারী মিসরীয়রা শিল্প, সংস্কৃতি, স্থাপত্য, ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তাদের অবদানের কাছে পরবর্তী প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল সভ্যতাই ঋণী। মিসরীয়রা স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জের ব্যবহারের সাহায্যে নানা প্রকার অলংকার ও আসবাবপত্র নির্মাণ করত। অস্ত্র-শস্ত্র তৈরিতে তারা অনেক পারদর্শী ছিল। সুতি, পশমি এমনকি নানা প্রকার কারুকার্যখচিত বয়ন তৈরিতেও তারা দক্ষ ছিল। শিক্ষা, সাহিত্য, দর্শন প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাদের অবদান ছিল অসামান্য, তারাই প্রথম লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে। 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) নামক চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। তাদের নির্মিত পিরামিডগুলো প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম ছিল। তাদের স্থাপত্য শিল্পের কলাকৌশল গ্রিক ও রোমান স্থাপত্য শিল্প ও মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় স্থাপত্য শিল্পকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। তাদের সাহিত্য ও দর্শন চর্চা ছিল ধর্মভিত্তিক। 'পিরামিড টেকস্টস' 'মেম্ফিস ড্রামা', 'রয়াল সান হিম', 'মৃতদের পুস্তক' ইত্যাদি তাদের সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এভাবে মিসরীয়রা শিল্প, সাহিত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে অবদান রেখে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। উদ্দীপকে বর্ণিত জেলা অর্থাৎ সুনামগঞ্জ সুরমা নদীর দানে ও নানা কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে মিসরীয়দের মতো কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু শিল্প, সংস্কৃতি, স্থাপত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে তারা কোনো অবদান রাখতে পারেনি। তাই উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি প্রমাণিত যে, সুনামগঞ্জের চেয়ে মিসরীয় সভ্যতা অধিক সমৃদ্ধ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জনাব আলী হায়দার সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি লক্ষ করলেন যে, জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সুরমা নদীর উভয় তীর প্লাবিত হয়। প্লাবনের ফলে উভয় তীরের ভূভাগ অত্যন্ত উর্বর হলেও বন্যায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ মহাসংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি সুরমা নদীর তীরে বাঁধ দেয়ার উদ্যোগ নেন এবং খাল কেটে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে কৃষিক্ষেত্রে উন্মোচিত হয় এক নতুন দিগন্ত। তবে শিল্পবাণিজ্য ও সংস্কৃতিতে সুনামগঞ্জ থাকে অবহেলিত।

Rajshahi · 2017

কোন শব্দ থেকে ব্যাবিলন শব্দের উৎপত্তি?

উত্তর

'বাব ইল' শব্দ থেকে ব্যাবিলন শব্দের উৎপত্তি।
জাজিরাতুল আরব বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জাজিরাতুল আরব বলতে আরব ভূখণ্ডকে বোঝায়। 'জাজিরা' আরবি শব্দ। এর অর্থ উপদ্বীপ। আর আরব একটি ভূখন্ডের নাম। সুতরাং জাজিরাতুল আরব অর্থ আরব উপদ্বীপ। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরব দেশ বিশ্বের সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এটি একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এর তিন দিক বিশাল জলরাশি এবং একদিক বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তর দ্বারা বেষ্টিত। এরূপ ত্রিভুজাকৃতির ভৌগোলিক অবস্থানের জন্যই আরব দেশকে জাজিরাতুল আরব বলা হয়।
উদ্দীপকের সুরমা নদীর সাথে ব্যাবিলনীয় কোন নদীর সামঞ্জস্য পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সুরমা নদীর সাথে মিসরীয় সভ্যতার নীল নদের সামঞ্জস্য রয়েছে। প্রকৃতির অপার দান নদী একদিকে যেমন মানুষের জীবন-জীবিকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে, তেমনি প্লাবন কিংবা বন্যায় নদীতীরবর্তী অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে নদী শাসনের যথাযথ কৌশল গ্রহণ করে এ ধরনের সংকট নিরসন করা সম্ভব হয়, যেমনটি লক্ষ করা যায় মিসরীয়দের বর্ষা মৌসুমে নীল নদে বাঁধ নির্মাণ করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থার মধ্যে। এভাবে পানি ধরে রেখে তা কৃষি কাজে ব্যবহার করায় মিসরীয়রা কৃষিক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিল। নীল নদকে কেন্দ্র করেই তারা সভ্যতার সূচনা করেছিল। উদ্দীপকে সুরমা নদীর এমন অবদানের চিত্রই লক্ষণীয়। বর্ষা মৌসুমে প্লাবন বা বন্যা দেখা দিলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সংকট উত্তরণে জেলা প্রশাসক জনাব আলী হায়দার সুরমা নদীতে বাঁধ দিয়ে এবং খাল কেটে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করেন, যা কৃষির ব্যাপক উন্নতিতে অবদান রাখে। একই পরিস্থিতি লক্ষ করা যায় প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায়। ইতিহাসে 'নীল কন্যা' নামে খ্যাত প্রাচীন মিসরে প্রতি জুন থেকে অক্টোবর মাসে বন্যায় বা প্লাবনে নীল নদের উভয় তীর প্লাবিত হতো। ফলে ফসলের প্রচুর ক্ষতি হতো। ফসলের ক্ষতি এড়াতে তারা নীল নদে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার কৌশল উদ্ভাবন করে। ফলে দেখা যায়, বন্যাশেষে নীল নদের উভয় তীর পলি মাটিতে ভরে যেত, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সুনামগঞ্জবাসীর জীবনে সুরমা নদীর অবদানের সাথে মিসরীয় সভ্যতায় নীল নদের অবদান সাদৃশ্যপূর্ণ।
জনাব আলী হায়দারের জেলার তুলনায় তোমার পঠিত সভ্যতাটি কোন অর্থে অধিক সমৃদ্ধ? যুক্তি দাও।

উত্তর

শিল্প, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করায় মিসরীয় সভ্যতা জনাব আলী হায়দারের জেলার তুলনায় অধিক সমৃদ্ধ। উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী জনাব আলী হায়দারের জেলাটি কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি অর্জন করলেও শিল্প, বাণিজ্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি দিক থেকে বেশ অবহেলিত। কিন্তু মিসরীয় সভ্যতায় এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। আধুনিক সভ্যতার মূলভিত্তি রচনাকারী মিসরীয়রা শিল্প, সংস্কৃতি, স্থাপত্য, ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তাদের অবদানের কাছে পরবর্তী প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল সভ্যতাই ঋণী। মিসরীয়রা স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জের ব্যবহারের সাহায্যে নানা প্রকার অলংকার ও আসবাবপত্র নির্মাণ করত। অস্ত্র-শস্ত্র তৈরিতে তারা অনেক পারদর্শী ছিল। সুতি, পশমি এমনকি নানা প্রকার কারুকার্যখচিত বয়ন তৈরিতেও তারা দক্ষ ছিল। শিক্ষা, সাহিত্য, দর্শন প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাদের অবদান ছিল অসামান্য, তারাই প্রথম লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে। 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) নামক চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। তাদের নির্মিত পিরামিডগুলো প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম ছিল। তাদের স্থাপত্য শিল্পের কলাকৌশল গ্রিক ও রোমান স্থাপত্য শিল্প ও মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় স্থাপত্য শিল্পকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। তাদের সাহিত্য ও দর্শন চর্চা ছিল ধর্মভিত্তিক। 'পিরামিড টেকস্টস' 'মেম্ফিস ড্রামা', 'রয়াল সান হিম', 'মৃতদের পুস্তক' ইত্যাদি তাদের সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এভাবে মিসরীয়রা শিল্প, সাহিত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে অবদান রেখে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। উদ্দীপকে বর্ণিত জেলা অর্থাৎ সুনামগঞ্জ সুরমা নদীর দানে ও নানা কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে মিসরীয়দের মতো কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু শিল্প, সংস্কৃতি, স্থাপত্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে তারা কোনো অবদান রাখতে পারেনি। তাই উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি প্রমাণিত যে, সুনামগঞ্জের চেয়ে মিসরীয় সভ্যতা অধিক সমৃদ্ধ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জাতিগত দাঙ্গায় সিয়েরা লিয়নের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। সামান্য স্বার্থহানি ঘটলেই তারা বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ফলে তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী সেখানে যুদ্ধ, নির্যাতন, অসাম্য দূর করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করছে।

Dhaka · 2017

মালা' কী?

উত্তর

প্রাক-ইসলামি আরবের রাজনৈতিক সংগঠন বা মন্ত্রণাসভা মালা নামে পরিচিত ছিল, যেটি মক্কায় বিবদমান গোত্রীয় ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করত।
সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

আরবের উকাজ মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতটি কবিতাকে সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বা 'সপ্ত ঝুলন্ত' কবিতা বলা হতো। প্রতি বছর মক্কার নিকটবর্তী উকাজের বার্ষিক মেলায় আরবের প্রখ্যাত কবিগণ কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করত। উকাজের বাৎসরিক সাহিত্য সম্মেলনে সাতটি কবিতাকে পুরস্কৃত করা হতো। সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে এ কবিতাগুলো মক্কায় কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। এ কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু ছিল প্রেম, যুদ্ধবিগ্রহ, বীরত্বপূর্ণ কাহিনি, বংশ গৌরব, আরব সমাজের আতিথেয়তা, স্বাধীনতা ইত্যাদি। এ কবিতাগুলোই সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা বা সাবায়ে মুয়াল্লাকাত নামে পরিচিত ছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত জাতিগত দাঙ্গার সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের কোন বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত গোত্রীয় দ্বন্দ্বের সাথে প্রাক-ইসলামি যুগের রাজনৈতিক অবস্থার মিল পাওয়া যায়। কোনো অঞ্চল বা রাষ্ট্রে একাধিক গোত্র বা দল থাকলে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য হওয়াটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে সামান্য বিষয় নিয়েই গোত্রে গোত্রে সংঘাত হতে পারে। আর গোত্রীয় সংঘাত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দেয়। ফলে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। যেমনটি প্রাক-ইসলামি আরব এবং উদ্দীপকের সিয়েরা লিওনে লক্ষ করা যায়। প্রাক-ইসলামি যুগে আরবে তুচ্ছ কারণেই গোত্রীয় কলহের সূত্রপাত হতো এবং এর জের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বংশানুক্রমে চলত। যেমন- মদিনার আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে 'বুয়াসের যুদ্ধ' এবং মক্কার কুরাইশ ও হাওয়াযিন গোত্রদ্বয়ের মধ্যে 'হারবুল-ফুজ্জার' যুদ্ধ (৫৮৪- ৫৮৮ খ্রি.) ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। অনবরত যুদ্ধ-বিগ্রহের এ সময়কে 'আইয়াম আল-আরব' বলা হতো। পানির নহর, তৃণভূমি ও গবাদি পশুকে উপলক্ষ করে এক গোত্রের সঙ্গে অপর গোত্রের যুদ্ধের সূত্রপাত হতো। উদ্দীপকেও সিয়েরা লিওনে সংঘাতের নেতিবাচক ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাতের কারণেই সেখানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছে। সুতরাং প্রাক-ইসলামি আরবের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থার সাথে সিয়েরা লিওনের জাতিগত দাঙ্গার তুলনা করা চলে।
উদ্দীপকের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের আলোকে আরব জীবনে ইসলামের ভূমিকা নিরূপণ কর।

উত্তর

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী যেভাবে সিয়েরা লিওনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে, ঠিক একইভাবে অরাজকতাপূর্ণ, বিশৃঙ্খল আরব সমাজে ইসলাম শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে। ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতার কোনো স্থান নেই। আর তাই আজ থেকে প্রায় ১৫০০ শত বছর পূর্বে বিশৃঙ্খল আরব সমাজে আবির্ভাব ঘটেছিল ইসলামের। আর এর ধারক ছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (স)। তিনি ইসলামের শাশ্বত ও সুমহান বাণী প্রচার করে নৈরাজ্যপূর্ণ আরব সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইসলামের এ অবদানেরই একটি খণ্ডচিত্র বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকায় পরিলক্ষিত হয়। সংঘাতপূর্ণ সিয়েরা লিওনে জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনী যুদ্ধ, নির্যাতন ও অসাম্য দূর করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। ইসলামও এমন বিপর্যন্ত আরব সমাজে সঠিক পথ প্রদর্শন করে সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিল। তৎকালীন আরবে গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগেই থাকত। হত্যা, খুন, রাহাজানি, লুটতরাজ প্রভৃতি অসামাজিক কাজে সমাজ নিমজ্জিত ছিল। কন্যাশিশু হত্যা, নারী নির্যাতন প্রভৃতি ছিল সমাজের নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। সমাজে নারীদের কোনো মর্যাদা ছিল না। তারা পণ্যসামগ্রী হিসেবে বাজারে বিক্রি হতো। কুসিদ প্রথার (চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের প্রচলন) বেড়াজালে সমাজে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল। গোত্রীয় দ্বন্দ্ব- সংঘাত এত প্রবল ছিল যে সামান্য কারণেই যুদ্ধ লেগে যেত। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবনের (Edward Gibbon) মতে, 'অজ্ঞতার যুগে আরবে প্রায় ১৭০০ যুদ্ধ-বিগ্রহ সংঘটিত হয়েছিল।' এরূপ অরাজকতাপূর্ণ সমাজে শান্তির মহান বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হন হযরত মুহাম্মদ (স)। তিনি ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে তিনি সমাজে বৈপ্লবিক সংস্কার সাধন করেন। সমাজ থেকে অসাম্য ও ভেদাভেদ দূর করে মানুষকে উপহার দেন ন্যায়নিষ্ঠ আদর্শ-সমাজ। তিনি সমাজে বিদ্যমান খুন-খারাবি, মদ্যপান জুয়াখেলা, সুদপ্রথা ইত্যাদি অনাচার দূর করেন। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে তাদেরকে মা, স্ত্রী, কন্যা হিসেবে সম্মানজনক অবস্থান দান করেন। গোত্রীয় দ্বন্দ্ব নিরসন করে তিনি সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে তিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করেন। উপর্যুক্ত আলোচনায় এটা প্রমাণিত যে, উদ্দীপকে বর্ণিত সিয়েরা লিওনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ইসলামের সুমহান আদর্শেরই আংশিক প্রতিফলন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জাতিগত দাঙ্গায় সিয়েরা লিয়নের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। সামান্য স্বার্থহানি ঘটলেই তারা বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ফলে তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী সেখানে যুদ্ধ, নির্যাতন, অসাম্য দূর করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করছে।

Dhaka · 2017

মালা' কী?

উত্তর

প্রাক-ইসলামি আরবের রাজনৈতিক সংগঠন বা মন্ত্রণাসভা মালা নামে পরিচিত ছিল, যেটি মক্কায় বিবদমান গোত্রীয় ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করত।
সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

আরবের উকাজ মেলায় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাতটি কবিতাকে সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বা 'সপ্ত ঝুলন্ত' কবিতা বলা হতো। প্রতি বছর মক্কার নিকটবর্তী উকাজের বার্ষিক মেলায় আরবের প্রখ্যাত কবিগণ কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করত। উকাজের বাৎসরিক সাহিত্য সম্মেলনে সাতটি কবিতাকে পুরস্কৃত করা হতো। সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে এ কবিতাগুলো মক্কায় কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। এ কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু ছিল প্রেম, যুদ্ধবিগ্রহ, বীরত্বপূর্ণ কাহিনি, বংশ গৌরব, আরব সমাজের আতিথেয়তা, স্বাধীনতা ইত্যাদি। এ কবিতাগুলোই সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা বা সাবায়ে মুয়াল্লাকাত নামে পরিচিত ছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত জাতিগত দাঙ্গার সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের কোন বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত গোত্রীয় দ্বন্দ্বের সাথে প্রাক-ইসলামি যুগের রাজনৈতিক অবস্থার মিল পাওয়া যায়। কোনো অঞ্চল বা রাষ্ট্রে একাধিক গোত্র বা দল থাকলে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য হওয়াটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে সামান্য বিষয় নিয়েই গোত্রে গোত্রে সংঘাত হতে পারে। আর গোত্রীয় সংঘাত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দেয়। ফলে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। যেমনটি প্রাক-ইসলামি আরব এবং উদ্দীপকের সিয়েরা লিওনে লক্ষ করা যায়। প্রাক-ইসলামি যুগে আরবে তুচ্ছ কারণেই গোত্রীয় কলহের সূত্রপাত হতো এবং এর জের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বংশানুক্রমে চলত। যেমন- মদিনার আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে 'বুয়াসের যুদ্ধ' এবং মক্কার কুরাইশ ও হাওয়াযিন গোত্রদ্বয়ের মধ্যে 'হারবুল-ফুজ্জার' যুদ্ধ (৫৮৪- ৫৮৮ খ্রি.) ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। অনবরত যুদ্ধ-বিগ্রহের এ সময়কে 'আইয়াম আল-আরব' বলা হতো। পানির নহর, তৃণভূমি ও গবাদি পশুকে উপলক্ষ করে এক গোত্রের সঙ্গে অপর গোত্রের যুদ্ধের সূত্রপাত হতো। উদ্দীপকেও সিয়েরা লিওনে সংঘাতের নেতিবাচক ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাতের কারণেই সেখানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছে। সুতরাং প্রাক-ইসলামি আরবের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থার সাথে সিয়েরা লিওনের জাতিগত দাঙ্গার তুলনা করা চলে।
উদ্দীপকের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের আলোকে আরব জীবনে ইসলামের ভূমিকা নিরূপণ কর।

উত্তর

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী যেভাবে সিয়েরা লিওনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে, ঠিক একইভাবে অরাজকতাপূর্ণ, বিশৃঙ্খল আরব সমাজে ইসলাম শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে। ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতার কোনো স্থান নেই। আর তাই আজ থেকে প্রায় ১৫০০ শত বছর পূর্বে বিশৃঙ্খল আরব সমাজে আবির্ভাব ঘটেছিল ইসলামের। আর এর ধারক ছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (স)। তিনি ইসলামের শাশ্বত ও সুমহান বাণী প্রচার করে নৈরাজ্যপূর্ণ আরব সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইসলামের এ অবদানেরই একটি খণ্ডচিত্র বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকায় পরিলক্ষিত হয়। সংঘাতপূর্ণ সিয়েরা লিওনে জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনী যুদ্ধ, নির্যাতন ও অসাম্য দূর করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। ইসলামও এমন বিপর্যন্ত আরব সমাজে সঠিক পথ প্রদর্শন করে সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিল। তৎকালীন আরবে গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগেই থাকত। হত্যা, খুন, রাহাজানি, লুটতরাজ প্রভৃতি অসামাজিক কাজে সমাজ নিমজ্জিত ছিল। কন্যাশিশু হত্যা, নারী নির্যাতন প্রভৃতি ছিল সমাজের নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। সমাজে নারীদের কোনো মর্যাদা ছিল না। তারা পণ্যসামগ্রী হিসেবে বাজারে বিক্রি হতো। কুসিদ প্রথার (চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের প্রচলন) বেড়াজালে সমাজে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল। গোত্রীয় দ্বন্দ্ব- সংঘাত এত প্রবল ছিল যে সামান্য কারণেই যুদ্ধ লেগে যেত। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবনের (Edward Gibbon) মতে, 'অজ্ঞতার যুগে আরবে প্রায় ১৭০০ যুদ্ধ-বিগ্রহ সংঘটিত হয়েছিল।' এরূপ অরাজকতাপূর্ণ সমাজে শান্তির মহান বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হন হযরত মুহাম্মদ (স)। তিনি ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে তিনি সমাজে বৈপ্লবিক সংস্কার সাধন করেন। সমাজ থেকে অসাম্য ও ভেদাভেদ দূর করে মানুষকে উপহার দেন ন্যায়নিষ্ঠ আদর্শ-সমাজ। তিনি সমাজে বিদ্যমান খুন-খারাবি, মদ্যপান জুয়াখেলা, সুদপ্রথা ইত্যাদি অনাচার দূর করেন। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে তাদেরকে মা, স্ত্রী, কন্যা হিসেবে সম্মানজনক অবস্থান দান করেন। গোত্রীয় দ্বন্দ্ব নিরসন করে তিনি সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবে তিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করেন। উপর্যুক্ত আলোচনায় এটা প্রমাণিত যে, উদ্দীপকে বর্ণিত সিয়েরা লিওনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ইসলামের সুমহান আদর্শেরই আংশিক প্রতিফলন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

হোয়াংহো নদীর তীরে প্রাচীন চীনা সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল। হোয়াংহোকে চীনের দুঃখ বলা হলেও এই নদী অধিবাসীদের জীবনে বিশাল ভূমিকা রাখে। সদ্য আবিষ্কৃত এক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে তাদের ধর্ম বিশ্বাসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেখানে একজন সম্রাটের কফিন পাথরের দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত করা আছে। কফিনের চারদিকে পাথরনির্মিত সশস্ত্র সৈন্যরা কঠোর পাহারায় নিয়োজিত।

Dhaka · 2017

পেপিরাস কী?

উত্তর

পেপিরাস হলো নীল নদের তীরে জন্ম নেওয়া নলখাগড়া জাতীয় এক ধরনের ঘাস বা উদ্ভিদ, যা দিয়ে মিসরীয়রা কাগজ আবিষ্কার করে।
মিসরীয়দের চিত্র লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দাও।

উত্তর

মিসরীয়রা চিত্রলিপিভিত্তিক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে সভ্যতার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছে। মিসরীয়দের লিখন পদ্ধতি 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) নামে পরিচিত। হায়ারোগ্লিফিক অর্থ পবিত্র লিপি। এটি ছিল একটি লিখিত ভাষা। এ ভাষায় নানাপ্রকার দ্রব্য, প্রাকৃতিক বিষয় প্রভৃতির ছবি আঁকা থাকত, যার মাধ্যমে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হতো। হায়ারোগ্লিফিক শিলালিপি প্রথমে তৈজসপত্র, ফলক এবং কবরের গায়ে খোদাই করা হতো। পরে মিসরে কাগজ আবিষ্কৃত হলে এতে এ লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। এ লিখন পদ্ধতি তিনটি রূপে বিকাশ লাভ করেছে। যথা: চিত্রভিত্তিক, অক্ষরভিত্তিক এবং বর্ণভিত্তিক। প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে প্রাচীন মিসরীয় লিপি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল।
উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর ভূমিকার মতোই কি নীল নদ মিসরীয় সভ্যতায় ভূমিকা রেখেছিল? ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর মতোই নীল নদ মিসরীয় সভ্যতার কৃষির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছিল। প্রাচীন সভ্যতাসমূহের মধ্যে মিসরীয় সভ্যতা অন্যতম। মিসরকে নীল নদের দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। কেননা মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। মিসরের ক্ষেত্রে নীল নদের এ অবদানই চীনের হোয়াংহো নদীর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। হোয়াংহোকে চীনের দুঃখ বলা হলেও চীনা সভ্যতার বিকাশে এ নদী বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। নদীর অববাহিকায় কৃষিকাজ ও প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা, ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবসা- বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও হোয়াংহো নদী অবদান রেখেছে। মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষ করা যায়। এ সভ্যতার বিকাশে নীল নদের ভূমিকা অতুলনীয়। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারী জনগণ পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ, পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করেছিল। আর এ ক্ষেত্রে তারা বেশ উপকৃতও হয়েছিল। ঘর-গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীল নদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মরুভূমিতে পরিণত হওয়া মিসর নীল নদের দানের ফলেই শস্য-শ্যামল ও সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত চীনা সভ্যতায় হোয়াংহো নদীর ভূমিকা মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রে নীল নদের অবদানেরই ইঙ্গিত বহন করে।
উদ্দীপকের আলোকে মিসরের ফারাও সম্রাটদের সমাধি সংরক্ষণের বিবরণ দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটের কফিন যেমন পাথরের দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে, তেমনি মিসরীয় সভ্যতায় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ মমি করে সংরক্ষণ করা হতো। মিসরীয়রা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। আর তাদের এ ধর্ম বিশ্বাসের ছাপ পড়েছিল স্থাপত্যিক নিদর্শনে। তারা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিল। আর পিরামিড ছিল তাদের স্থাপত্য শিল্পের অসাধারণ সৃষ্টি। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই তারা নির্মাণ করেছিল প্রকান্ড সৌধের এ পিরামিডগুলো। আর এ ধরনের বিশ্বাস থেকে নির্মিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কথাই উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকে সম্রাটের কফিন সুরক্ষিত রাখতে পাথরের নির্মিত সশস্ত্র সৈন্যের পাহারা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে মিসরীয়রা তাদের ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য পিরামিড নির্মাণ করেছিল। তারা বিশ্বাস করত ফারাওদের মৃত্যুর পর তাদের আত্মা স্বর্গে চলে যায় এবং সেখানে দেবতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু মৃত ফারাওদের শরীর পচে গেলে এক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এজন্য তারা মৃতদেহ প্রক্রিয়াজাত করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করত। এ মৃতদেহগুলোকে যেখানে কবর দেওয়া হতো, সেসব স্থান আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হতো। এসব কবরে দেওয়া হতো সিন্দুকভর্তি অমূল্য গহনা, ধাতব তৈজসপত্র, মুদ্রা, দামি কাপড় প্রভৃতি। মৃত ফারাওদের দেহ ও মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তার জন্য মিসরীয়রা বড় বড় পাথরখণ্ড কেটে পিরামিড নির্মাণ করত। এগুলো ছিল জ্যামিতিক ত্রিভুজের আকৃতিতে তেরি অতি উঁচু এক একটি সমাধিসৌধ। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক প্লান্টাজেনেট সমারসেট ফ্রাই (Plantagenet Somerset Fry)-এর বর্ণনা মতে, জোসের প্রথম ফারাওয়ের কবরে প্রথম পিরামিড গড়ে উঠেছিল। এর নাম ছিল 'স্টেপ পিরামিড'। পরিশেষে বলা যায়, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটদের কপিন এবং মিসরীয় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। তাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই পাথর দ্বারা মৃতদেহ সংরক্ষণের পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

হোয়াংহো নদীর তীরে প্রাচীন চীনা সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল। হোয়াংহোকে চীনের দুঃখ বলা হলেও এই নদী অধিবাসীদের জীবনে বিশাল ভূমিকা রাখে। সদ্য আবিষ্কৃত এক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে তাদের ধর্ম বিশ্বাসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেখানে একজন সম্রাটের কফিন পাথরের দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত করা আছে। কফিনের চারদিকে পাথরনির্মিত সশস্ত্র সৈন্যরা কঠোর পাহারায় নিয়োজিত।

Dhaka · 2017

পেপিরাস কী?

উত্তর

পেপিরাস হলো নীল নদের তীরে জন্ম নেওয়া নলখাগড়া জাতীয় এক ধরনের ঘাস বা উদ্ভিদ, যা দিয়ে মিসরীয়রা কাগজ আবিষ্কার করে।
মিসরীয়দের চিত্র লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দাও।

উত্তর

মিসরীয়রা চিত্রলিপিভিত্তিক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে সভ্যতার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছে। মিসরীয়দের লিখন পদ্ধতি 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) নামে পরিচিত। হায়ারোগ্লিফিক অর্থ পবিত্র লিপি। এটি ছিল একটি লিখিত ভাষা। এ ভাষায় নানাপ্রকার দ্রব্য, প্রাকৃতিক বিষয় প্রভৃতির ছবি আঁকা থাকত, যার মাধ্যমে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হতো। হায়ারোগ্লিফিক শিলালিপি প্রথমে তৈজসপত্র, ফলক এবং কবরের গায়ে খোদাই করা হতো। পরে মিসরে কাগজ আবিষ্কৃত হলে এতে এ লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। এ লিখন পদ্ধতি তিনটি রূপে বিকাশ লাভ করেছে। যথা: চিত্রভিত্তিক, অক্ষরভিত্তিক এবং বর্ণভিত্তিক। প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে প্রাচীন মিসরীয় লিপি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল।
উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর ভূমিকার মতোই কি নীল নদ মিসরীয় সভ্যতায় ভূমিকা রেখেছিল? ব্যাখ্যা দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর মতোই নীল নদ মিসরীয় সভ্যতার কৃষির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছিল। প্রাচীন সভ্যতাসমূহের মধ্যে মিসরীয় সভ্যতা অন্যতম। মিসরকে নীল নদের দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। কেননা মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। মিসরের ক্ষেত্রে নীল নদের এ অবদানই চীনের হোয়াংহো নদীর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। হোয়াংহোকে চীনের দুঃখ বলা হলেও চীনা সভ্যতার বিকাশে এ নদী বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। নদীর অববাহিকায় কৃষিকাজ ও প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা, ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবসা- বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও হোয়াংহো নদী অবদান রেখেছে। মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষ করা যায়। এ সভ্যতার বিকাশে নীল নদের ভূমিকা অতুলনীয়। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারী জনগণ পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ, পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করেছিল। আর এ ক্ষেত্রে তারা বেশ উপকৃতও হয়েছিল। ঘর-গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীল নদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মরুভূমিতে পরিণত হওয়া মিসর নীল নদের দানের ফলেই শস্য-শ্যামল ও সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত চীনা সভ্যতায় হোয়াংহো নদীর ভূমিকা মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রে নীল নদের অবদানেরই ইঙ্গিত বহন করে।
উদ্দীপকের আলোকে মিসরের ফারাও সম্রাটদের সমাধি সংরক্ষণের বিবরণ দাও।

উত্তর

উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটের কফিন যেমন পাথরের দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে, তেমনি মিসরীয় সভ্যতায় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ মমি করে সংরক্ষণ করা হতো। মিসরীয়রা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। আর তাদের এ ধর্ম বিশ্বাসের ছাপ পড়েছিল স্থাপত্যিক নিদর্শনে। তারা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিল। আর পিরামিড ছিল তাদের স্থাপত্য শিল্পের অসাধারণ সৃষ্টি। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই তারা নির্মাণ করেছিল প্রকান্ড সৌধের এ পিরামিডগুলো। আর এ ধরনের বিশ্বাস থেকে নির্মিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কথাই উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকে সম্রাটের কফিন সুরক্ষিত রাখতে পাথরের নির্মিত সশস্ত্র সৈন্যের পাহারা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে মিসরীয়রা তাদের ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য পিরামিড নির্মাণ করেছিল। তারা বিশ্বাস করত ফারাওদের মৃত্যুর পর তাদের আত্মা স্বর্গে চলে যায় এবং সেখানে দেবতা হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু মৃত ফারাওদের শরীর পচে গেলে এক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এজন্য তারা মৃতদেহ প্রক্রিয়াজাত করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করত। এ মৃতদেহগুলোকে যেখানে কবর দেওয়া হতো, সেসব স্থান আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হতো। এসব কবরে দেওয়া হতো সিন্দুকভর্তি অমূল্য গহনা, ধাতব তৈজসপত্র, মুদ্রা, দামি কাপড় প্রভৃতি। মৃত ফারাওদের দেহ ও মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তার জন্য মিসরীয়রা বড় বড় পাথরখণ্ড কেটে পিরামিড নির্মাণ করত। এগুলো ছিল জ্যামিতিক ত্রিভুজের আকৃতিতে তেরি অতি উঁচু এক একটি সমাধিসৌধ। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক প্লান্টাজেনেট সমারসেট ফ্রাই (Plantagenet Somerset Fry)-এর বর্ণনা মতে, জোসের প্রথম ফারাওয়ের কবরে প্রথম পিরামিড গড়ে উঠেছিল। এর নাম ছিল 'স্টেপ পিরামিড'। পরিশেষে বলা যায়, ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটদের কপিন এবং মিসরীয় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো। তাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই পাথর দ্বারা মৃতদেহ সংরক্ষণের পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সিন্ধু নদের তীরে প্রাচীনকালে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তাই সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা। নগরের ঘরবাড়ি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার চিহ্ন দেখে অনুমান করা হয় এই সভ্যতার নাগরিকরা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখত না। সুখ-সমৃদ্ধি তথা পার্থিব জীবনই তাদের আরাধ্য ছিল।

Rajshahi · 2018

হিলফুল ফুযুল অর্থ কী?

উত্তর

'হিলফুল ফুযুল' অর্থ শান্তিসংঘ।
হায়ারোগ্লিফিক্স কী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মিসরীয়দের উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতি 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) নামে পরিচিত। হায়ারোগ্লিফিক অর্থ পবিত্র লিপি। এটি ছিল একটি লিখিত ভাষা। এ ভাষায় নানাপ্রকার দ্রব্য, প্রাকৃতিক বিষয় প্রভৃতির ছবি আঁকা থাকত, যার মাধ্যমে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হতো। হায়ারোগ্লিফিক লিপি প্রথমে তৈজসপত্রে এবং কবরে মৃতের পরিচয়ের ফলক আকারে খোদাই করা হতো । পরে মিসরে প্যাপিরাস কাগজ আবিষ্কৃত হলে এতে এ লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। এ লিখন পদ্ধতি তিনটি রূপে বিকাশ লাভ করেছে। যথা: চিত্রভিত্তিক, অক্ষরভিত্তিক এবং বর্ণভিত্তিক। প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে প্রাচীন মিসরীয় লিপি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল। মিসরীয়রা চিত্রলিপিভিত্তিক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে সভ্যতার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছে।
উদ্দীপকের সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সাথে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার মিল রয়েছে। প্রকৃতির অপার দান নদ-নদীর বদৌলতে পৃথিবীতে অনেক সভ্যতার উত্থান ঘটেছে এবং বিকশিত হয়েছে। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এসব সভ্যতা কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতার মাধ্যমে উন্নত নাগরিক জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত সিন্ধু সভ্যতা এবং মিসরীয় সভ্যতা এ রকমই দুটি নদীকেন্দ্রিক সভ্যতার উদাহরণ। সিন্ধুনদকে কেন্দ্র করে প্রাচীনকালে একটি সভ্যতা গড়ে উঠেছিল যেটি সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত। আর এটি ছিল কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতা। অনুরূপভাবে মিসরের নীল নদকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর প্রথম সভ্যতা হিসেবে মিসরীয় সভ্যতার অগ্রযাত্রা শুরু হয়। মিসরীয়রা নীল নদের পানিকে সেচের জন্য ব্যবহার করে কৃষিতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করে। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারীরা পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন ও পশুপালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা প্রভৃতি বিষয়কে মাথায় রেখে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে। কৃষিকে কেন্দ্র করে তারা ধীরে ধীরে সেচ ব্যবস্থায় বাঁধ নির্মাণ কৌশল উদ্ভাবন করে। তাছাড়া বন্যায় নীল নদের উভয় তীর প্লাবিত হয়ে পলি মাটিতে ভরে যেত, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল। এভাবে মিসরীয়রা কৃষির ব্যাপক অগ্রগতির মাধ্যমে একটি কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতা গড়ে তোলে। তাই বলা যায়, নদীকেন্দ্রিক ও কৃষিভিত্তিক সভ্যতা হিসেবে সিন্ধু ও মিসরীয় সভ্যতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের জনসাধারণের সাথে উক্ত সভ্যতার জনসাধারণের জীবনপ্রণালীর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের জনগোষ্ঠীর সাথে প্রাচীন মিসরীয়দের জীবন প্রণালীর সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য উভয়ই পরিলক্ষিত হয়। মিসরীয় সভ্যতা প্রাচীন সভ্যতাসমূহের অন্যতম। নীলনদকে কেন্দ্র করে এবং কৃষির ওপর ভিত্তি করে এ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, যেমনটি সিন্ধ সভ্যতার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। বিশ্বাসের দিক দিয়ে মিসরীয়রা প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতা বলে পূজা করত। সূর্য ছিল তাদের প্রধান দেবতা। এছাড়া তারা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। কিন্তু সিন্ধু সভ্যতায় মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মিসরীয় সভ্যতার বিপরীত চিত্র চোখে পড়ে। উদ্দীপকে সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা হয়েছে। এটি ছিল একটি কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতা। অনুরূপভাবে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা নীল নদের তীরে গড়ে ওঠেছিল। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারীরা পানির প্রাপ্যতা, কৃষির উৎপাদন ও পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করে। এভাবে তারা একটি কৃষিভিত্তিক সভ্যতার গোড়াপত্তন করে যা সিন্ধু সভ্যতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে আরও বলা হয়েছে যে, সিন্ধু সভ্যতার লোকেরা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখত না। পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি তাদের আরাধ্য ছিল। অপর দিকে প্রাচীন মিসরীয়রা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখত। তারা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। তারা বিশ্বাস করত মৃত মানুষ কবরে গেলে তার দেহে আবার আত্মা ফিরে আসে। পৃথিবীতে তারা যে পাপ বা পুণ্য করছে দেবতা ওসিরিসের সামনে এর জবাবদিহি করতে হবে। এ সময় কৃতকর্মের বিচারের মাধ্যমে পুণ্যবানকে সুখময় স্থানে এবং পাপীকে অন্ধকার ঘরে নিক্ষেপ করা হবে। সূর্য দেবতা 'রা' তীব্র রশ্মি দিয়ে পাপীর দেহ ঝলসে দেবেন। মিসরীয়দের এরূপ ধর্মীয় বিশ্বাস সিন্ধু সভ্যতার লোকদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, নদীকেন্দ্রিকতা এবং কৃষির দিক দিয়ে সিন্ধু সভ্যতা ও মিসরীয় সভ্যতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও ধর্মীয় ক্ষেত্রে এ দুই সভ্যতার মানুষের বিশ্বাস পুরোপুরি ভিন্ন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সিন্ধু নদের তীরে প্রাচীনকালে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তাই সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা। নগরের ঘরবাড়ি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার চিহ্ন দেখে অনুমান করা হয় এই সভ্যতার নাগরিকরা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখত না। সুখ-সমৃদ্ধি তথা পার্থিব জীবনই তাদের আরাধ্য ছিল।

Rajshahi · 2018

হিলফুল ফুযুল অর্থ কী?

উত্তর

'হিলফুল ফুযুল' অর্থ শান্তিসংঘ।
হায়ারোগ্লিফিক্স কী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মিসরীয়দের উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতি 'হায়ারোগ্লিফিক' (Hieroglyphic) নামে পরিচিত। হায়ারোগ্লিফিক অর্থ পবিত্র লিপি। এটি ছিল একটি লিখিত ভাষা। এ ভাষায় নানাপ্রকার দ্রব্য, প্রাকৃতিক বিষয় প্রভৃতির ছবি আঁকা থাকত, যার মাধ্যমে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হতো। হায়ারোগ্লিফিক লিপি প্রথমে তৈজসপত্রে এবং কবরে মৃতের পরিচয়ের ফলক আকারে খোদাই করা হতো । পরে মিসরে প্যাপিরাস কাগজ আবিষ্কৃত হলে এতে এ লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। এ লিখন পদ্ধতি তিনটি রূপে বিকাশ লাভ করেছে। যথা: চিত্রভিত্তিক, অক্ষরভিত্তিক এবং বর্ণভিত্তিক। প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে প্রাচীন মিসরীয় লিপি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল। মিসরীয়রা চিত্রলিপিভিত্তিক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে সভ্যতার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছে।
উদ্দীপকের সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সাথে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার মিল রয়েছে। প্রকৃতির অপার দান নদ-নদীর বদৌলতে পৃথিবীতে অনেক সভ্যতার উত্থান ঘটেছে এবং বিকশিত হয়েছে। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এসব সভ্যতা কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতার মাধ্যমে উন্নত নাগরিক জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত সিন্ধু সভ্যতা এবং মিসরীয় সভ্যতা এ রকমই দুটি নদীকেন্দ্রিক সভ্যতার উদাহরণ। সিন্ধুনদকে কেন্দ্র করে প্রাচীনকালে একটি সভ্যতা গড়ে উঠেছিল যেটি সিন্ধু সভ্যতা নামে পরিচিত। আর এটি ছিল কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতা। অনুরূপভাবে মিসরের নীল নদকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর প্রথম সভ্যতা হিসেবে মিসরীয় সভ্যতার অগ্রযাত্রা শুরু হয়। মিসরীয়রা নীল নদের পানিকে সেচের জন্য ব্যবহার করে কৃষিতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করে। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারীরা পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন ও পশুপালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা প্রভৃতি বিষয়কে মাথায় রেখে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলে। কৃষিকে কেন্দ্র করে তারা ধীরে ধীরে সেচ ব্যবস্থায় বাঁধ নির্মাণ কৌশল উদ্ভাবন করে। তাছাড়া বন্যায় নীল নদের উভয় তীর প্লাবিত হয়ে পলি মাটিতে ভরে যেত, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল। এভাবে মিসরীয়রা কৃষির ব্যাপক অগ্রগতির মাধ্যমে একটি কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতা গড়ে তোলে। তাই বলা যায়, নদীকেন্দ্রিক ও কৃষিভিত্তিক সভ্যতা হিসেবে সিন্ধু ও মিসরীয় সভ্যতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের জনসাধারণের সাথে উক্ত সভ্যতার জনসাধারণের জীবনপ্রণালীর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকের জনগোষ্ঠীর সাথে প্রাচীন মিসরীয়দের জীবন প্রণালীর সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য উভয়ই পরিলক্ষিত হয়। মিসরীয় সভ্যতা প্রাচীন সভ্যতাসমূহের অন্যতম। নীলনদকে কেন্দ্র করে এবং কৃষির ওপর ভিত্তি করে এ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, যেমনটি সিন্ধ সভ্যতার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। বিশ্বাসের দিক দিয়ে মিসরীয়রা প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতা বলে পূজা করত। সূর্য ছিল তাদের প্রধান দেবতা। এছাড়া তারা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। কিন্তু সিন্ধু সভ্যতায় মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মিসরীয় সভ্যতার বিপরীত চিত্র চোখে পড়ে। উদ্দীপকে সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা হয়েছে। এটি ছিল একটি কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতা। অনুরূপভাবে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা নীল নদের তীরে গড়ে ওঠেছিল। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারীরা পানির প্রাপ্যতা, কৃষির উৎপাদন ও পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করে। এভাবে তারা একটি কৃষিভিত্তিক সভ্যতার গোড়াপত্তন করে যা সিন্ধু সভ্যতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে আরও বলা হয়েছে যে, সিন্ধু সভ্যতার লোকেরা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখত না। পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি তাদের আরাধ্য ছিল। অপর দিকে প্রাচীন মিসরীয়রা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখত। তারা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। তারা বিশ্বাস করত মৃত মানুষ কবরে গেলে তার দেহে আবার আত্মা ফিরে আসে। পৃথিবীতে তারা যে পাপ বা পুণ্য করছে দেবতা ওসিরিসের সামনে এর জবাবদিহি করতে হবে। এ সময় কৃতকর্মের বিচারের মাধ্যমে পুণ্যবানকে সুখময় স্থানে এবং পাপীকে অন্ধকার ঘরে নিক্ষেপ করা হবে। সূর্য দেবতা 'রা' তীব্র রশ্মি দিয়ে পাপীর দেহ ঝলসে দেবেন। মিসরীয়দের এরূপ ধর্মীয় বিশ্বাস সিন্ধু সভ্যতার লোকদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, নদীকেন্দ্রিকতা এবং কৃষির দিক দিয়ে সিন্ধু সভ্যতা ও মিসরীয় সভ্যতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও ধর্মীয় ক্ষেত্রে এ দুই সভ্যতার মানুষের বিশ্বাস পুরোপুরি ভিন্ন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

তিনদিকে সমুদ্রবেষ্টিত সিঙ্গাপুর দেশটি একটি অনুর্বর অঞ্চল। একসময় শহরের কিছু লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও গ্রামের লোকদের পশুপালন বা মাছ শিকার ছাড়া অন্য কোনো কাজের উপায় ছিল না। জীবন-জীবিকার জন্য তারা চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা ও লুটতরাজ করতে বাধ্য হতো।

Rajshahi · 2018

'জাজিরা' অর্থ কী?

উত্তর

'জাজিরা' অর্থ দ্বীপ বা উপদ্বীপ।
উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মরু অঞ্চলে যাতায়াতের প্রধান বাহন হওয়ায় উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়। আরবের অধিকাংশ অঞ্চলই মরুময়। আর উত্তপ্ত মরু অঞ্চলে উট চলাচলের একমাত্র উপযোগী প্রাণী। তাই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় মরুময় আরবে এটি সর্বাধিক গৃহপালিত প্রাণী। উট একবার পানি পান করে দীর্ঘদিন (শীতকালে প্রায় ২৫ এবং গ্রীষ্মকালে ৫দিন) ধরে রাখতে পারে । তাই মরুবাসীরা খাদ্য-পানীয় সংগ্রহ ও যোগাযোগের প্রধান বাহন এবং ক্রয়- বিক্রয়ের মাধ্যম হিসেবে উট ব্যবহার করে। এ কারণে একে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সিঙ্গাপুরের সাথে প্রাচীন আরবের ভৌগোলিক অবস্থার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত সিঙ্গাপুরের সাথে প্রাচীন আরবের ভৌগোলিক অবস্থার সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরব ভূখণ্ডটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। এ অঞ্চলটির তিন দিকে পানি ও একদিক স্থলবেষ্টিত। ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে এটি তিন ভাগে বিভক্ত হলেও এর অধিকাংশ অঞ্চল মরুময় ও অনুর্বর। উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলটিতেও এ ধরনের ভৌগোলিক অবস্থা দেখা যায়। উদ্দীপকে উল্লেখিত সিঙ্গাপুর দেশটি তিনদিক সমুদ্রবেষ্টিত এবং এটি একটি অনুর্বর অঞ্চল। আরব উপদ্বীপও তিনদিক সমুদ্রবেষ্টিত। এর পূর্বে পারস্য উপসাগর, পশ্চিমে লোহিত সাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর অবস্থিত। তাছাড়া ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে সমগ্র আরব উপদ্বীপ মরু, পাহাড়ি ও উর্বর অঞ্চল – এই তিন ভাগে বিভক্ত হলেও এর অধিকাংশ অঞ্চলই মরুময়। এ অঞ্চলটি মূলত সিরিয়ার মরুভূমি, আফ্রিকার সাহারা ও গোবি মরুভূমির একটি বিচ্ছিন্ন অংশ মাত্র। ফলে আরব উপদ্বীপের অধিকাংশ অঞ্চলই অনুর্বর ও চাষাবাদের অনুপোযোগী। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সিঙ্গাপুর এবং প্রাচীন আরব অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান একই সূত্রে গাঁথা।
উদ্দীপকের আলোকে প্রাক-ইসলামি আরবের অধিবাসীদের ওপর ভৌগোলিক অবস্থার প্রভাব মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকের বর্ণিত অঞ্চলের মতো প্রাক-ইসলামি আরবের অধিবাসীদের ওপরও ভৌগোলিক পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব ছিল। আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের দেহ, মন, চরিত্র ও জীবনযাত্রার ওপর বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশের যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায়। শুষ্ক আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি, অনুর্বরতা প্রভৃতি প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ একদিকে যেমন আরব বেদুইনদের রুক্ষ ও দুঃসাহসিক জাতিতে পরিণত করেছে অপরদিকে তারা ধৈর্যশীল, কষ্টসহিষ্ণু ও পরিশ্রমী হয়েছে । উদ্দীপকের অঞ্চলটির অধিবাসীদের ওপরও ভৌগোলিক অবস্থার এ ধরনের প্রভাব দেখা যায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তিনদিকে সমুদ্রবেষ্টিত সিঙ্গাপুর দেশটি একটি অনুর্বর অঞ্চল। এরূপ ভৌগোলিক অবস্থানের ফলে শহরের কিছু লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ পেলেও গ্রামের লোকদের পশুপালন বা মাছ শিকার ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। এমনকি তারা চুরি, ডাকাতি ও লুটতরাজ করতে বাধ্য হতো। অনুরূপভাবে প্রাচীন আরব উপদ্বীপের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতির প্রভাবে এর অধিবাসীরা সংগ্রামী হয়ে ওঠে। শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া এবং খাদ্য ও পানীয়ের অভাব আরবদের দুর্ধর্ষ ও সংঘাতময় জীবনযাত্রার দিকে প্ররোচিত করেছে। শহরবাসী আরবরা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত আরাম-আয়েশে জীবন পরিচালনা করলেও পশুচারণ ও পালনই ছিল আরব বেদুইনের প্রধান পেশা। এছাড়া আরব বেদুইনদের একটি দল কাফেলা লুটতরাজের মাধ্যমেও জীবিকা নির্বাহ করত। পশুপালন ও খাদ্যের সন্ধানে আরবদের প্রতিনিয়ত একস্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে হতো। এর ফলে তারা গোত্রবদ্ধ হয় এবং তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আসাবিয়া বা গোত্রপ্রীতি। অপরদিকে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাবে আরবদের মধ্যে মুক্ত চিন্তার উন্মেষ ঘটে, যা তাদেরকে কাব্যচর্চায় দারুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। উপরের আলোচনায় দেখা যায় যে, ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়া প্রাক-ইসলামি আরব অধিবাসীদের জীবন-জীবিকা ও আচার-আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

তিনদিকে সমুদ্রবেষ্টিত সিঙ্গাপুর দেশটি একটি অনুর্বর অঞ্চল। একসময় শহরের কিছু লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্য করলেও গ্রামের লোকদের পশুপালন বা মাছ শিকার ছাড়া অন্য কোনো কাজের উপায় ছিল না। জীবন-জীবিকার জন্য তারা চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা ও লুটতরাজ করতে বাধ্য হতো।

Rajshahi · 2018

'জাজিরা' অর্থ কী?

উত্তর

'জাজিরা' অর্থ দ্বীপ বা উপদ্বীপ।
উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মরু অঞ্চলে যাতায়াতের প্রধান বাহন হওয়ায় উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়। আরবের অধিকাংশ অঞ্চলই মরুময়। আর উত্তপ্ত মরু অঞ্চলে উট চলাচলের একমাত্র উপযোগী প্রাণী। তাই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় মরুময় আরবে এটি সর্বাধিক গৃহপালিত প্রাণী। উট একবার পানি পান করে দীর্ঘদিন (শীতকালে প্রায় ২৫ এবং গ্রীষ্মকালে ৫দিন) ধরে রাখতে পারে । তাই মরুবাসীরা খাদ্য-পানীয় সংগ্রহ ও যোগাযোগের প্রধান বাহন এবং ক্রয়- বিক্রয়ের মাধ্যম হিসেবে উট ব্যবহার করে। এ কারণে একে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সিঙ্গাপুরের সাথে প্রাচীন আরবের ভৌগোলিক অবস্থার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত সিঙ্গাপুরের সাথে প্রাচীন আরবের ভৌগোলিক অবস্থার সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আরব ভূখণ্ডটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। এ অঞ্চলটির তিন দিকে পানি ও একদিক স্থলবেষ্টিত। ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে এটি তিন ভাগে বিভক্ত হলেও এর অধিকাংশ অঞ্চল মরুময় ও অনুর্বর। উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলটিতেও এ ধরনের ভৌগোলিক অবস্থা দেখা যায়। উদ্দীপকে উল্লেখিত সিঙ্গাপুর দেশটি তিনদিক সমুদ্রবেষ্টিত এবং এটি একটি অনুর্বর অঞ্চল। আরব উপদ্বীপও তিনদিক সমুদ্রবেষ্টিত। এর পূর্বে পারস্য উপসাগর, পশ্চিমে লোহিত সাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর অবস্থিত। তাছাড়া ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে সমগ্র আরব উপদ্বীপ মরু, পাহাড়ি ও উর্বর অঞ্চল – এই তিন ভাগে বিভক্ত হলেও এর অধিকাংশ অঞ্চলই মরুময়। এ অঞ্চলটি মূলত সিরিয়ার মরুভূমি, আফ্রিকার সাহারা ও গোবি মরুভূমির একটি বিচ্ছিন্ন অংশ মাত্র। ফলে আরব উপদ্বীপের অধিকাংশ অঞ্চলই অনুর্বর ও চাষাবাদের অনুপোযোগী। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সিঙ্গাপুর এবং প্রাচীন আরব অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান একই সূত্রে গাঁথা।
উদ্দীপকের আলোকে প্রাক-ইসলামি আরবের অধিবাসীদের ওপর ভৌগোলিক অবস্থার প্রভাব মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকের বর্ণিত অঞ্চলের মতো প্রাক-ইসলামি আরবের অধিবাসীদের ওপরও ভৌগোলিক পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব ছিল। আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের দেহ, মন, চরিত্র ও জীবনযাত্রার ওপর বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশের যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায়। শুষ্ক আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি, অনুর্বরতা প্রভৃতি প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ একদিকে যেমন আরব বেদুইনদের রুক্ষ ও দুঃসাহসিক জাতিতে পরিণত করেছে অপরদিকে তারা ধৈর্যশীল, কষ্টসহিষ্ণু ও পরিশ্রমী হয়েছে । উদ্দীপকের অঞ্চলটির অধিবাসীদের ওপরও ভৌগোলিক অবস্থার এ ধরনের প্রভাব দেখা যায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তিনদিকে সমুদ্রবেষ্টিত সিঙ্গাপুর দেশটি একটি অনুর্বর অঞ্চল। এরূপ ভৌগোলিক অবস্থানের ফলে শহরের কিছু লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ পেলেও গ্রামের লোকদের পশুপালন বা মাছ শিকার ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। এমনকি তারা চুরি, ডাকাতি ও লুটতরাজ করতে বাধ্য হতো। অনুরূপভাবে প্রাচীন আরব উপদ্বীপের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতির প্রভাবে এর অধিবাসীরা সংগ্রামী হয়ে ওঠে। শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া এবং খাদ্য ও পানীয়ের অভাব আরবদের দুর্ধর্ষ ও সংঘাতময় জীবনযাত্রার দিকে প্ররোচিত করেছে। শহরবাসী আরবরা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত আরাম-আয়েশে জীবন পরিচালনা করলেও পশুচারণ ও পালনই ছিল আরব বেদুইনের প্রধান পেশা। এছাড়া আরব বেদুইনদের একটি দল কাফেলা লুটতরাজের মাধ্যমেও জীবিকা নির্বাহ করত। পশুপালন ও খাদ্যের সন্ধানে আরবদের প্রতিনিয়ত একস্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে হতো। এর ফলে তারা গোত্রবদ্ধ হয় এবং তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আসাবিয়া বা গোত্রপ্রীতি। অপরদিকে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাবে আরবদের মধ্যে মুক্ত চিন্তার উন্মেষ ঘটে, যা তাদেরকে কাব্যচর্চায় দারুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। উপরের আলোচনায় দেখা যায় যে, ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়া প্রাক-ইসলামি আরব অধিবাসীদের জীবন-জীবিকা ও আচার-আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো