পদ্ধতিগত দিক থেকে উদ্দীপকে বর্ণিত সিন্ধু সভ্যতার কৃষিব্যবস্থা মিসরীয় কৃষিব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি ।
কৃষিকাজের জন্য পানিসেচ ও উর্বর ভূমি প্রয়োজন হয়। নদীর অববাহিকায় এ দুইয়ের প্রাপ্তিই সুনিশ্চিত হয়। ফলে কৃষি উৎপাদনের জন্য নদীর পার্শ্ববর্তী ভূমি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। আলোচ্য মিসর ও সিন্ধু সভ্যতা তার প্রমাণ বহন করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সিন্ধু সভ্যতা সিন্ধু নদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। সিন্ধুর অববাহিকায় তারা কৃষির ব্যাপক প্রচলন করেছিল । সিন্ধুর পানি তাদের কৃষি কাজের মূল উৎস ছিল । নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রেখে তারা কৃষিকাজে ব্যবহার করত, যা মিসরীয় সভ্যতারই অনুরূপ। কারণ নীল নদের পানিবাহিত পলিমাটিতে মিসরীয়রা চাষাবাদ করে প্রচুর ফসল ফলাতে সমর্থ হয়েছিল । নদীতে বাঁধ দিয়ে তারা পানি ধরে রাখত এবং শুষ্ক মৌসুমে তারা কৃষিকাজে এ পানি ব্যবহার করত। এভাবে বিভিন্ন প্রকার কৃষিজ দ্রব্য উৎপাদন হতো প্রচুর পরিমাণে। যার কারণে মিসরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও সমৃদ্ধি এসেছিল। আর এ কৃষি উৎপাদন প্রাচীন মিসরীয়দের প্রধান জীবিকা হওয়ায় এ সময় কৃষিকে কেন্দ্র করেই বসতি স্থাপন, বাঁধ নির্মাণ কৌশল, সেচ ব্যবস্থা ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। এভাবে প্রাচীন মিসরীয়রা কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছিল।
পরিশেষে বলা যায়, নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা হওয়ায় উদ্দীপকের সিন্ধু এবং প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা উভয়ই কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছিল।