প্রাচীন মিসরীয়রা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে বিশ্বাসী ছিল এবং তাদের আবিষ্কৃত চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি 'হায়ারোগ্লিফিক' ছিল বিশ্বসভ্যতার অন্যতম আবিষ্কার।
প্রাচীন মিসরীয়রা বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তিকে বিশ্বাস করতো এবং দেবতা মেনে পূজা করত। তারা বিশ্বাস করতো যে, প্রকৃতিকে দেব-দেবীরাই নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করেন। তাদের প্রধান দেবতা ছিল সূর্য দেবতা আম রে। মিসরীয়দের জীবন, মৃত্যু ও উর্বরতার দেবতা ছিল ওসিরিস ও তার স্ত্রী আইসিস। একইভাবে মিসরীয়দের সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার । উদ্দীপকে এ দিকটিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, মিসরীয়দের সরকার পদ্ধতি, স্থাপত্য, শিল্পকলা, কৃষি, লিখন পদ্ধতি ও ধর্ম পরবর্তীকালের প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সকল সভ্যতা ঋণী। অনুরূপ চিত্র লক্ষ করা যায় মিসরীয়দের ধর্ম বিশ্বাস ও চিত্রভিত্তিক 'হায়ারোগ্লিফিক' নামক লিখন পদ্ধতির ক্ষেত্রে। প্রাচীন মিসরীয়রা সম্রাট বা ফারাওকে স্বর্গের প্রতিনিধি মনে করত এবং তাদেরকে দেবতার মতোই সম্মান করতো। মিসরীয়রা মনে করতো যে, মৃত মানুষ কবরে গেলে তার দেহে আত্মা ফিরে আসে। তাদের মৃত্যুর পর পাপ-পুণ্যের হিসাব হবে এবং পুণ্যবানরা মহাসুখ ভোগ করবে এবং পাপীরা অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত হবে। মিসরীয়রা সর্বপ্রথম একেশ্বরবাদের ধারণা দেন। এ কাজে নেতৃত্ব দেন ফারাও ইখনাটন। তাদের ধর্মে অনেক কুসংস্কার প্রবেশ করে এবং ধর্ম অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হয়। প্রাচীন মিসরীয়রা নগর সভ্যতা গড়ে তোলার সাথে সাথে পবিত্র লিপি তথা চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার করে। যা আজ ঐতিহাসিকদের কাছে এক বিস্ময়ের কারণ। এটি ছিল একটি লিখিত ভাষা। এ ভাষায় নানাপ্রকার দ্রব্য, প্রকৃতি ও বিষয়ের ছবি আঁকা থাকতো। এ থেকে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হতো। হায়ারোগ্লিফিক লিপি প্রথমে তৈজসপত্র, পাথরের ফলক এবং কবরের গায়ে খোদাই করা হতো। এ পদ্ধতিতে প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপি ব্যবহার করা হয়েছিল। প্যাপিরাস আবিষ্কৃত হলে লিপিকে কাগজে উৎকীর্ণ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, সভ্যতায় মিসরীয়দের অবদান অপরিসীম।