উদ্দীপকে উল্লেখিত নদী শাসনের সাথে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার নীল নদভিত্তিক নদী শাসনের মিল পাওয়া যায় ৷
মিসরীয় সভ্যতা প্রাচীন সভ্যতাসমূহের অন্যতম। মিসরকে নীল নদের দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। কারণ মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। মিসরের ক্ষেত্রে নীল নদের এ অবদানই গোমতী নদীর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় ।
উদ্দীপকের গোমতী নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবনে প্লাবিত হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হলে সরকার নদীর তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে এলাকাবাসীর দুর্দশা লাঘব ও কৃষির উন্নয়নের ব্যবস্থা করেছেন। মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রেও নীল নদের এমন ভূমিকা লক্ষ করা যায়। এ সভ্যতার বিকাশে নীল নদের ভূমিকা অতুলনীয়। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারী জনগণ পানির প্রাপ্যতা, কৃষি উৎপাদন, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ, পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করেছিল। তারাই প্রথম প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা পেতে নীল নদে বাঁধ নির্মাণ করেছিল। আবার বাঁধের সাহায্যে পানি ধরে রেখে তারা কৃষিকাজে ব্যবহার করত। এভাবে ঘর-গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীল নদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মরুভূমিতে পরিণত হওয়া মিসর নীল নদের দানের ফলেই শস্য-শ্যামল ও সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত কুমিল্লার উন্নয়নে গোমতী নদীর ভূমিকা মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদের অবদানেরই ইঙ্গিত রহন করে। সুতরাং বলা যায়, নীল নদকে শাসন করে মিসরীয় সভ্যতার উন্নয়নের সাথে উদ্দীপকের নদী শাসনের মিল রয়েছে।