মানবসভ্যতার বিকাশে উক্ত সভ্যতা অর্থাৎ মিসরীয় সভ্যতা অসামান্য অবদান রেখেছে।
মিসর হলো প্রাচীন সভ্যতার ভিত্তিভূমি। পৃথিবীতে যত প্রাচীন সভ্যতা রয়েছে তার সবই মিসরীয় সভ্যতার কাছে ঋণী। সভ্যতার উৎকর্ষের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মিসরীয়রা ব্যাপক অবদান রাখে। মিসরীয়দের অবদানের সামান্য প্রতিফলন উদ্দীপকেও দেখা যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, গোমতী নদীর অবদানের কারণে কুমিল্লার অনেক উন্নতি হয়। কুমিল্লার খাদি দেশে-বিদেশে পরিচিত। কুটির শিল্প, মৃৎ শিল্পসহ ছোট ছোট অনেক কলকারখানাও এখানে রয়েছে। মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রেও দেখা যায়, নীল নদ মিসরকে সভ্যতার পটভূমিতে দাঁড় করিয়ে দেয়। এরপর থেকে তারা ধর্ম, স্থাপত্য, ভাস্কর্য প্রভৃতির চরম উৎকর্ষ সাধন করে। প্রাচীন মিসরীয়দের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা হয়। পাথর কেটে প্রকান্ড সৌধ বানাতে তারা ছিল সিদ্ধহস্ত। তারা মৃতদেহকে চিরস্থায়ী করার জন্য তা মমি করে পিরামিডে সংরক্ষণ করত। এ পিরামিডের নির্মাণশৈলী এখনও বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করে। মিসরীয়দের হাতেই তৈরি হয়েছে বিখ্যাত কার্নাক ও লুক্স-এর মতো মন্দির। পাথর কেটে কেটে তারাই তৈরি করেছে স্ফিংকসের মতো প্রাচীন ভাস্কর্য। প্রাচীন মিসরীয়রা এক ধরনের চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে যার নাম 'হায়ারোগ্লিফিক'। এছাড়া অক্ষর ও বর্ণভিত্তিক হিরাটিক ও ডেমোটিক লিখন পদ্ধতিও তারা ব্যবহার করত। মিসরীয়রাই সর্বপ্রথম গণনা পদ্ধতি আবিষ্কার করে। আর এ পদ্ধতি থেকেই পরবর্তী সময়ে বর্ষপঞ্জি, ৩৬৫ দিনে বছর এবং ৩০ দিনে মাস চালু করেছিলেন। চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থ মেটিরিয়া মেডিকা মিসরীয়রাই প্রণয়ন করে। মিসরীয়দের রচিত সাহিত্যিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে মেফাইট ড্রামা' 'টেল অব দ্য টু ব্রাদার্স" "মৃতদের পুস্তক", "আতেনের হিম' প্রভৃতি। এ লেখাগুলো থেকে সমকালীন সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামো সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলে। মিসরীয়দের দর্শন চর্চার নিদর্শন পাওয়া যায় 'বীণাবাদকের গান', 'বাকপটু কৃষকের জবানবন্দি' নামের শিলালিপিতে।
পরিশেষে বলা যায়, সভ্যতার ইতিহাসে নানা ধরনের আবিষ্কার, জ্ঞান- বিজ্ঞানের অগ্রগতি, শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে মিসরীয়রা অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করছে। তাই মানবসভ্যতায় তাদের অবদান অতুলনীয়।