বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মিশরীয় সভ্যতার অবদান অপরিসীম। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো-
নীলনদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মিশরীয় সভ্যতা শিল্প, সাহিত্য, লিখন পদ্ধতি, স্থাপত্য ও চিত্রশিল্পে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। তারা বর্ণভিত্তিক চিত্রলিপির উদ্ভাবন করে, যা ইতিহাসে ১ হায়ারোগ্লিফিক্স নামে পরিচিত। মিশরীয়রা তাদের বর্ণমালা লিপিবদ্ধ করার জন্য প্যাপিরাস নামক এক প্রকার গাছের পাতা ও নরম কান্ডকে কাগজ হিসেবে ব্যবহার করে। মিশরীয় সভ্যতার সাহিত্যচর্চার নিদর্শনগুলোর মধ্যে মেমফাইট ড্রামা, টেল অব দা টু ব্রাদার্স, মৃতদের পুস্তক ও আতেনের হিম অন্যতম। বিজ্ঞানের উন্নতিতে মিশরীয়দের অবদান অসামান্য। তারা কাগজ, কাচ, ধাতব তৈজসপত্র, সেচ ব্যবস্থার পাশাপাশি জ্যোতির্বিদ্যা, গণিতশাস্ত্র ও চিকিৎসাশাস্ত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করে। তারাই প্রথম বছরকে ১২ মাসে এবং মাসকে ৩০ দিনে বিভক্ত করে। যদিও তাদের মাসে দিনের সংখ্যা ছিল সাড়ে ঊনত্রিশ। মিশরীয়রা ভূমির আয়তন, কোণ, ত্রিকোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বহুভুজ, সিলিন্ডার, পিরামিডের ঘনফল ইত্যাদি পরিমাপের মাধ্যমে গণিতশাস্ত্রের ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করে। তাছাড়া চক্ষুরোগ, দাঁতের রোগ, পেটের পীড়া, শল্যবিদ্যা, হৃৎপিণ্ড ও নাড়ির তাৎপর্য এবং রেচক ওষুধ তৈরিতে মিশরীয়রা পারদর্শী ছিল। মিশরীয়রা তাদের স্থাপত্য ও চিত্রশিল্পে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল। স্মৃতিসৌধ, প্রাসাদ, মন্দির ও পিরামিড তৈরিতে তারা অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। তাদের তৈরি মমিগুলো আজও আধুনিক বিজ্ঞানের জন্য চ্যালেঞ্জস্বরূপ। তাদের তৈরি ত্রিকোণা আকৃতির পিরামিডগুলো বিজ্ঞানের কাছে বিস্ময়। তাদের তৈরি ভাস্কর্য স্ফিংস বিরাটত্ব ও সৌকর্যের দিক থেকে বিখ্যাত ভাস্কর্য।
তাই বলা যায়, প্রাচীন সভ্যতাগুলোর মধ্যে মিশরীয়রাই সর্বাধিক কৃতিত্বের দাবিদার। তারা স্থাপত্য, চিকিৎসা, গণিত, ভাস্কর্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে অবিনশ্বর অবদান রাখতে সক্ষম হয়।