উদ্দীপকে উল্লেখিত অঞ্চলের অবস্থার ন্যায় আরবদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও সে দেশের পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে -নিচে মূল্যায়ন করা হলো। আরব উপদ্বীপের বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়া আরব অধিবাসীদের জীবনযাত্র, মানসিক গঠন তথা চরিত্র গঠনে ব্যাপক ভূমিকা বিস্তার করে। পরিবেশই তাদের চারিত্রিক-বৈশিষ্ট্যকে নতুন রূপ দিয়েছে। উদ্দীপকেও তাই লক্ষ্য করা যায়। উদ্দীপকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলের কথা বলা হয়েছে। পরিবেশ অনুযায়ী এই দুই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, আচার-আচরণ সবকিছুতে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়। আরবের পরিবেশও সেখানকার মানুষের বৈশিষ্ট্যকে এভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। মরুর আরবরা অত্যন্ত রুক্ষ, দুঃসাহসী, দুধর্ষ সৈনিক। তারা 'রক্তের বিনিময়ে রক্ত' নীতিতে বিশ্বাসী। কারণ আরবের মরু অঞ্চলের অনাবৃষ্টি, পানির অভাব, চরম ভূমির স্বল্পতার জন্য এখানকার মানুষ প্রকৃতির সাথে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করত। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে এই লড়াই তাদেরকে কষ্টসহিষ্ণু কঠোর পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল করে গড়ে তোলে। খাদ্যের অভাব মরু আরবদের চরিত্র উদ্দাম ও অপ্রতিরোধ্য গতি সৃষ্টি করেছে। ফলে ভাল, স্বার্থপরতা ও কঠোরতাই তাদের চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। তবে শহরবাসী আরবদের ক্ষেত্রে এর সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যায়। আরবের দক্ষিণাংশের পরিবেশ হলো সুশীতল ও শ্যামল। এই ধরনের আবহাওয়া এখানকার জনগণকে করেছে মার্জিত, দয়ালু, নির্মল, কোম, ভদ্র আচরণের মাধ্যমেই নিমেষে তারা অন্যের মনের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে। সুতরাং বলা যায়,উদ্দীপকে উল্লেখিত অঞ্চলের অবস্থার ন্যায় আরবদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও সে দেশের পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।