উদ্দীপকে উল্লিখিত জনজীবনের সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের যাযাবর বেদুইন জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের নদীভাঙনের শিকার একদল মানুষ বস্তিতে আশ্রয় গ্রহণ করে নানা পেশার মাধ্যমে জীবনধারণ করত। কিন্তু হঠাৎ একদিন উৎখাত হয়ে তারা শ্যামলীর বস্তিতে আশ্রয় নেয়। শুরু হয় তাদের সংগ্রাম এবং তাদের জীবন অতিবাহিত হয় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। উদ্দীপকের এ জনগোষ্ঠীর সাথে আরবের যাযাবর জনগোষ্ঠীর মিল রয়েছে। কেননা তারা অনুরূপ অস্থায়ী, সংগ্রামী জীবনযাপন করত। প্রাক-ইসলামি সমাজে আরবের যাযাবর বেদুইনদের কোনো স্থায়ী আবাস ছিল না তারা ভ্রাম্যমাণ জীবনযাপন করত। তাদের বেদুইনদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই করুণ। তাদের মধ্যে একটা শ্রেণি ছিল যারা ভাসমান অবস্থায় কালাতিপাত করত এবং তাদের কোনো অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ছিল না। পশুপালন ও লুটতরাজ ছিল তাদের যাযাবর জীবনের আয়ের প্রধান উৎস। বিভিন্ন গ্রন্থের আলোকে বলা হয়, তাদের জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা ছিল ঠিক উদ্দীপকের অস্থায়ী বস্তিবাসী সম্প্রদায়ের মতো। অস্থায়ী বস্তিবাসী উচ্ছেদের ফলে যেমন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভেসে বেড়ায়। তাদের যেমন কোনো স্থানীয় আবাস নেই এবং বাজারের মাল উঠানামা, হোটেলে কাজ, ফুল বিক্রি, রিকশা চালানোর মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করে তদ্রূপ প্রাক-ইসলামি আরব সমাজের যাযাবর জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ বেদুইন জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই করুণ এবং অনিশ্চিত।
সুতরাং আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠীর সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের যাযাবর জনগোষ্ঠীর সাদৃশ্য রয়েছে।