উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষির উন্নয়নে গৃহীত ব্যবস্থার সাথে সুমেরীয় সভ্যতার কৃষির উন্নয়নের সাদৃশ্য থাকলেও বাঁধ দেওয়া, খাল খনন ও সার, কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সুমেরীয় সভ্যতায় কৃষির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটলেও তারা নদীতে বাধ দেওয়া, খাল খনন ও সার-কীটনাশক আবিষ্কার করেনি। সুমেরীয়দের অর্থব্যবস্থা জটিল ছিল না। তাদের প্রধান পেশা ছিল কৃষি। জমাজমিতে সাধারণ কৃষকদের স্বত্ব বলবৎ ছিল। তাদের সেচব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণে প্রচুর পরিমাণে ফসল উৎপাদিত হতো। তারা কাঠের লাঙল ব্যবহার, ধাতু নির্মিত কাস্তে, নিড়ানি ইত্যাদির দ্বারা উন্নত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলে। শাসক, যাজক, ভূস্বামী, সামরিক কর্মকর্তা, স্বাধীন কৃষক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূমিদাসের নিয়ন্ত্রণে কৃষি জমি ছিল। বছরে তিনটি ফসল উৎপাদিত হতো। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে ছিল- গম, যব, বার্লি, খেজুর ও শাকসবজি চাকাওয়ালা গাড়ি ও ঘোড়া গাড়ির মাধ্যমে ফসলাদি এক স্থান হতে অন্য স্থানে আনা-নেওয়া করা হতো। তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক উৎস ছিল বাণিজ্য। ধাতু, কাঠ, কৃষিজাত ও শিল্পজাত দ্রব্যসমূহ পার্শ্ববর্তী উত্তর ও পশ্চিমের নিচু উপত্যকার অঞ্চলসমূহের সাথে আমদানি-রপ্তানি চলত। প্যালেস্টাইন, ফিনিশিয়া, ক্রিট, ইজিয়ান দ্বীপসমূহ, এশিয়া মাইনর ইত্যাদি অঞ্চলের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। উদ্দীপকের ইরানের রেজা শাহের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো সুমেরীয়রা কৃষির ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ইরানের কৃষি- ব্যবস্থার সাথে সুমেরীয়দের কৃষি ব্যবস্থার নানা সাদৃশ্য রয়েছে।