হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের মেলায় প্রাক-ইসলামি যুগের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পূর্ণ প্রতিফলন হয়েছে।উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বইমেলার সাথে সাদৃশ্য উকাজ মেলায় গান-কবিতা, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা মল্লযুদ্ধ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতো। যা আরবদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটায়। ইসলাম-পূর্ব আরবের একটি বিখ্যাত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে উকাজ মেলা। মাসব্যাপী এ মেলায় কবিতা, গানবাজনা, জুয়া খেলা ও মদ্যপানের আসর বসত। এ মেলার মাধ্যমে আরবের বিখ্যাত কবিদের কবিতা লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। তৎকালীন আরবের বিখ্যাত কবি ছিলেন আমর ইবনে কুলসুম, 268 লাবিদ ইবনে রাবিয়া, আনতারা ইরনে শাদ্দাদ, ইমরুল কায়েস, তারাকা ইবনে আল-আদ, হারিস ইবনে হিল্লাজা ও জুহাইর ইবনে আবি সালমা। এদের মধ্যে অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন ইমরুল কায়েস। তাঁকে 'আরবের শেক্সপিয়র' হিসেবে অভিহিত করা হয়। সেরা সাত কবির কবিতা সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে 'কাবা' শরিফের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। একারণে এ কবিতাগুলোকে সাব-আ-মুয়াল্লাকাত বা সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা বলা হয়।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের একুশের বইমেলার মতো উকাজ মেলা হকে ঘিরে সংঘটিত কর্মকাণ্ডে আরবদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটছে।