মানবসভ্যতার বিকাশে নদ-নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।উদ্দীপকে বর্ণিত চৈনিক সভ্যতার উত্থান হয় হোয়াংহো নদীর তীরে। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যান্য বিভিন্ন সভ্যতা নদীর তীরেই গড়ে ওঠেছিল। মিশরীয় সভ্যতার বিকাশে নীলনদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। মিশরীয় সভ্যতার সূচনাকারী জনগণ পানির প্রাপ্যতা, নীলনদকে কেন্দ্র করে কৃষি উৎপাদন, মাছ শিকার, পশুপালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয়কে মাথায় রেখে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করেছিল। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালের শুরুতে আফ্রিকার মধ্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট প্লাবনে নীলনদের দুকূল ছাপিয়ে যেত। চার মাস স্থায়ী এ বন্যায় নদের দু তীর প্লাবন শেষে উর্বর পলিমাটিতে নীলনদের উভয় তীর দৈর্ঘ্যে ৬০০ মাইল এবং প্রস্থে ১০ মাইল পর্যন্ত ভরে যেত। ফলে মিশরের জনগণ খুব সহজেই উর্বর মাটিতে ফসল উৎপাদন করতে পারত। কৃষি উৎপাদনই প্রাচীন মিশরীয়দের জীবিকার প্রধান উৎস হওয়ায় এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বসতি স্থাপন, বাঁধ নির্মাণ কৌশল; সেচব্যবস্থার বিকাশ ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। 'এর ফলে কৃষিকে কেন্দ্র করে মিশরের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয় এবং নীলনদকে কেন্দ্র করে নতুন মানবসভ্যতা বিকাশ লাভ করে। তাছাড়া টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে মেসোপটেমিয়া সভ্যতা, সিন্ধু নদের তীরে সিন্ধু সভ্যতা, টাইবার নদীর তীরে রোমান সভ্যতা গড়ে ওঠেছিল। কেননা নদীতে যেমন পানের যোগ্য পানি পাওয়া যেত তেমনি পানি কাজে লাগিয়ে খাদ্য উৎপাদন করা যেত। তাছাড়া নদ-নদীর মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনা করা সহজ ছিল।সুতরাং আমরা বলতে পারি, মানব সভ্যতার বিকাশে নদ-নদী উদ্দীপকের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।