আরব অঞ্চলের আদিবাসীদের উপর ভৌগোলিক অবস্থার প্রভাব নিম্নে উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করা হলো:আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের দেহ, মন, চরিত্র ও জীবনযাত্রার উপর ভৌগলিক অবস্থান ও পরিবেশের বিশেষ প্রভাব লক্ষ করা যায়। শহরবাসী আরবরা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত অনেক আরাম আয়েশে জীবন যাপন করলেও মূলত পশু পালনই ছিল আরব বেদুইনদের প্রধান পেশা। উদ্দীপকেও কোরিয় উপদ্বীপবাসীদের মধ্যে শহরবাসীরা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে বেশ উন্নতি করেছিল, তবে গ্রামবাসীদের মাছ বা পশু শিকার ছাড়া কাজের কোন উপায় ছিল না। শুষ্ক আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি, অনুর্বরতা প্রভৃতি প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ একদিকে যেমন আরব বেদুইনদের রুক্ষ ও দুঃসাহসিক জাতিতে পরিণত করেছে, অপরদিকে তারা ধৈর্যশীল, কষ্টসহিষ্ণু, পরিশ্রমী হয়েছে। উদ্দীপকে গ্রামবাসীরা মাছ বা পশু শিকার ব্যাতীত অন্য কোন কাজ না পাওয়ায় জীবন-জীবিকার জন্য তারা চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা ও লুটতরাজ করতে বাধ্য হতো। প্রাচীন আরব উপদ্বীপের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে এর অধিবাসীরা সংগ্রামী হয়ে ওঠে। শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া এবং খাদ্য ও পানির অভাব আরবদের দুর্ধর্ষ ও সংঘাতময় জীবনযাত্রার দিকে প্ররোচিত করেছে। ফলে তারা ডাকাতি, লুটতরাজ, চুরি করতে বাধ্য হত। আরব বেদুইনদের একটি দল কাফেলা লুটতরাজের মাধ্যমেও জীবিকা নির্বাহ করত। পরবর্তীতে পশুপালন ও খাদ্যের সন্ধানে আরবরা প্রতিটিতে একই স্থানে থেকে অন্য স্থানে যেতে হতো যার ফলে তারা গোত্র বাধ্য হয়। গোত্র বদ্ধ থাকার কারণে তাদেরকে পরবর্তীতে ডাকাতি লুটতরাজ ইত্যাদির কম সম্মুখীন হতে হতো। তাই বলা যায়, আরব অঞ্চলের আদিবাসীদের উপর ভৌগোলিক অবস্থার প্রভাব ছিল অপরিসীম।