উক্ত যুগ তথা প্রাক আরব যুগের রাজনৈতিক অবস্থা নিম্নে পর্যালোচনা করা হলো: তৎকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় কোন শাসনব্যবস্থা না থাকায় আরবরা গোত্রীয় ব্যবস্থায় শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করতো। সকল গোত্রের এক একটি নির্দিষ্ট এলাকা ছিল যা জিরা নামে পরিচিত ছিল। প্রত্যেক গোত্রই তাদের গোত্রের জন্য একজন দলপতি নির্বাচিত করত। উক্ত দলপতি শেখ নামে পরিচিত হতো। তবে শেখের কোন নির্দিষ্ট মেয়াদকাল ছিল না। যুদ্ধ, সন্ধি, ব্যবসায়িক যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রেই শেখের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাদের মধ্যে গোত্র চেতনা এতটাই প্রবল ছিল যে, তারা নিজ গোত্রের বাহিরের সবকিছুকে বিজাতীয়, ঘৃণার পাত্র ও শত্রু মনে করত। এর ফলে পুরুষানুক্রমে গোত্রে গোত্র শত্রুতা ও কলহ সঞ্জীবিত থাকে। পানির নহর, গবাদি পশু, তৃণভূমিসগ বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও অন্যান্য গোত্রের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে যেত। পুরোপুরি অজ্ঞ থাকায় তখন কোন সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা ছিল না। এ সময় আরবে সব জায়গায় জোর যার মুল্লুক তার নীতি প্রচলিত ছিল। রক্তের বদলে রক্ত, চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত ইত্যাদি নীতিতে তারা বিশ্বাসী ছিল। মক্কার নেতৃত্বে আরব গোত্রপতিদের সাথে ব্যবসায়ীদের শান্তি চুক্তি হওয়ায় তখনকার সময়ে আরব একটি কমনওয়েলথ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একই সাথে একটি গোত্রে গড়ে উঠছিল। এছাড়াও মক্কা নাগরিক এবং তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য মক্কা একটি সমিতি গঠন করা হয়েছিল। তাছাড়া আল-মালা নামে কি রাজনৈতিক সংগঠন ছিল। তারা গোত্র গুলোর মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ভারসাম্য মৈত্রী ইত্যাদি বজায় রাখতে চেষ্টা করত। কিন্তু তাদের কোন নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না শুধুমাত্র পরামর্শ দিতে পারতো। তাই তখন সব ক্ষেত্রেই অরাজকতা লেগে থাকতো। উপর্যুক্ত আলোচনা সাপেক্ষে তাই বলা যায়, প্রাক-ইসলামী যুগের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খলাময়।