উদ্দীপকের সিন্ধু সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন মিশরী সভ্যতার লেখনীয় মিল রয়েছে। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো : লিপি বা লিখন পদ্ধতি মানব সভ্যতায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার। লিপির মাধ্যমে বাসাকে লিখিত রূপে উপস্থাপন করা যায়। মৌখিক ভাষায় বিভিন্ন স্থানগত ও কালগত সীমাবদ্ধতা থেকে যায়। কেননা এক এলাকার ভাষার সাথে আরেক এলাকার ভাষার মধ্যে পার্থক্য থাকে। আর এই সীমাবদ্ধতাকে জয় করেছে লিখিত ভাষা। বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে মিশরীয়রাই প্রথম চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে, যা হায়ারোগ্লিফিক লিপি নামে পরিচিত ছিল। হায়ারোগ্লিফিক লিপি শব্দের অর্থ হচ্ছে পবিত্র লিপি। প্রায় ৭৫০ টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে এই প্রাচীন মিশরীয় লিখন পদ্ধতিটি তৈরি করা হয়েছিল। এই লিখন পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য, প্রকৃতি, প্রাকৃতিক বিষয় ইত্যাদির ছবি আঁকা থাকতো। যার মাধ্যমে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা যেত। তবে এই হায়ারোগ্লিফিক লিপি প্রথমে তৈজসপত্র ফলক এবং কবরের নামে খোদাই করা হতো। পরবর্তীতে মিশরের প্যাপিরাস উদ্ভিদ থেকে খাবো কাগজ আবিষ্কৃত হলে এই লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। সেই সময়ে এই হায়ারোগ্লিফিক লিপির মাধ্যমে ই ভাবের আদান-প্রদান ও যোগাযোগ করা হত। উদ্দীপকে উল্লিখিত সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা ও চিত্র ভিত্তিক লিপি উদ্ভাবন করেছে। এই চিত্র ভিত্তিক লিপির মাধ্যমেই তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখিত আকারে সংরক্ষণ করত।তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার লেখনীয় মিল রয়েছে।