উদ্দীপকে নারীর যে চিত্র বর্ণনা করা হয়েছে, তা প্রাক-ইসলামি আরব দেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : পাপাচার, কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার নিয়ে তৎকালীন আরব সমাজ ছিল অত্যন্ত কলুষিত। সেসময় নারীদের কোন সামাজিক অর্থনৈতিক মর্যাদায় ছিল না। মূর্খতা বর্বরতা ও অশ্রুতায় ছিল সমপ্রদেশ নিমজ্জিত। নারীদের দেওয়া হতো না কোন সম্মান। তাদেরকে গণ্য করা হতো ভোগ্যপণ্য হিসেবে। কোন কন্যা শিশু জন্ম নিলে তাকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। এছাড়াও নারীদের বাজারে বিক্রি করা হতো। প্রাক ইসলাম সময়ে আরববাসীরা নারীদের প্রতি যে পরিমান অন্যায় করত, তা অন্য সব যুগের মানুষের বর্বরতাকে হার মানায়। নারীদের অধিকার হনন, সম্মান মর্যাদা হনন এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খলা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তৎকালীন আরববাসী এতটাই মগ্ন ছিল যে আজও সেই সময়কালকে জাহেলিয়া যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মূর্খতা, বর্বরতা, অশ্লীলতায় ছিল সমগ্র আরব নিমজ্জিত। উদ্দীপকের সময়ও ভারতের মেয়েদের কোন স্বাধীনতা ছিলনা। সে সময়ে কন্যা সন্তানদের প্রতি তাদের ছিল অনাগ্রহ এবং তীব্র ঘৃণা। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির মালিকানায়ও ছিল না নারীদের কোন অধিকার। তাছাড়া বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ থাকায় এবং ধর্মীয় কুসংস্কারের কারণে কোন নারীর স্বামী মারা গেলে তাকে স্বামীর সাথে জীবন্ত অবস্থায় সহমরণ করতে হতো। যা সতীদাহ প্রথা নামে প্রচলিত ছিল। এরই মতো প্রাক আরব যুগে ও নারীদের ছিল না কোন সম্মান, মর্যাদা, অধিকার। তৎকালীন সময়ে ভারতে নারীদের তাদের মৃত্যুর স্বামীর সাথে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য করা হতো এবং একইভাবে আরবে কন্যা সন্তানদের জীবিত হত্যা করা হতো। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নারীর যে চিত্র বর্ণনা করা হয়েছে, তা প্রাক-ইসলামি আরব দেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।