উদ্দীপকে বর্ণিত সভ্যতার মতো মিসরীয়দের স্থাপত্য শিল্প, ভাস্কর্য, চারুকলাসহ সব ক্ষেত্রেই ধর্মের বিশেষ প্রভাব দেখা যায়।
প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে মিসরীয়দের ধর্ম ছিল বহু ঈশ্বরবাদী। কালক্রমে তাদের মধ্যে একেশ্বরবাদের উন্মেষ ঘটেছিল। মিসরীয়রা বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং প্রাকৃতিক শক্তির (যেমন— সূর্য, চন্দ্র, ঝড়) অনুগ্রহ লাভের আশায় নানা ধরনের দেব-দেবীর পূজো করত । তাদের সব কাজকর্মে দেবতার সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষা কাজ করত। ফলে সভ্যতার বিকাশে মিসরীয়রা যেসব ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে সেগুলোর প্রত্যেকটিতে ধর্মীয় প্রভাব ছিল। উদ্দীপকে বর্ণিত সভ্যতার মানুষের ওপরও প্রবল ধর্মীয় প্রভাব চোখে পড়ে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, উত্তরায়ন রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাপ্ত একটি প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন থেকে জানা যায়, ঐ সভ্যতার লোকেরা ধর্মীয় কারণে সুন্দর সুন্দর স্থাপত্য, ভাস্কর্য প্রভৃতি শিল্পের বিকাশ ঘটায়। একইভাবে মিসরীয়দের ধর্মীয় বিশ্বাস মতে মানুষের মৃত্যুর পর তার শরীরে আত্মা ফিরে আসে। কিন্তু দেহ পচে গেলে আত্মার ফিরে আসতে সমস্যা হয়। তাই মিসরীয়রা মৃতদেহের পচন রোধের জন্য মমি তৈরি করে। মমি সংরক্ষণের জন্য তারা বড় বড় পাথর কেটে বিশাল আকৃতির পিরামিড তৈরি করে। পিরামিড প্রাচীন মিসরীয় স্থাপত্যের প্রধান নিদর্শন। পিরামিড এবং উপাসনার জন্য নির্মিত মন্দিরের প্রবেশপথের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ভাস্কর্য স্থাপন করা হতো। ভাস্কর্যে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করা হতো। মিসরীয় শিল্পীরা মন্দিরের দেওয়াল সাজাতে তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে সমুদ্রের ঢেউ, ফুটন্ত ফুল, ভূমি কর্ষণরত কৃষক প্রভৃতির মনোমুগ্ধকর ছবি আঁকত। মিসরীয়দের 'দর্শনের সঙ্গে ধর্মের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পারলৌকিক চিন্তা এবং নীতিবোধ ছিল তাদের দর্শনের প্রধান আলোচ্য বিষয়। প্রাচীন মিসরীয় সাহিত্যেরও সৃষ্টি হয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পৌরাণিক কাহিনী, জাদু-টোনা প্রভৃতির মাধ্যমে। প্রাথমিক পর্যায়ে মিসরীয়দের চিকিৎসাবিদ্যাও ধর্ম এবং জাদুবিদ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। অবশ্য পরে তারা ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি গড়ে তুলেছিল।
উপরের আলোচনায় দেখা যায়, প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার স্থাপত্য, সাহিত্য, দর্শনসহ নানাক্ষেত্রে ধর্মের প্রভাব রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, সভ্যতার বিকাশে তারা যেসব ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে সেগুলোর প্রায় প্রত্যেকটিতেই ধর্মের প্রভাব বিদ্যমান।