হ্যাঁ, মিসেস নাজমা জাহানের চিন্তা-চেতনায় নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবি (স)-এর নির্দেশনা ও আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
মানব সভ্যতার ইতিহাসে হযরত মুহাম্মদ (স)কে শ্রেষ্ঠ সংস্কারক হিসেবে মনে করা হয়। তিনি নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মুহাম্মদই (স) সর্বপ্রথম যথাযথভাবে নারীর সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন ৷
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মিসেস নাজমা জাহান 'জাহান ডিপার্টমেন্টাল স্টোর' এর কর্মী রূপা ও তার মেয়েদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতিত হওয়ার সংবাদ শুনে খুব ব্যথিত হন। সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের যথাযথ মর্যাদা নিয়ে বসবাসের জন্য তিনি সচেতনতামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তার প্রচেষ্টায় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাসুল (স)-এর সংস্কারমূলক কাজের প্রতিফলন ঘটেছে। রাসুল (স) অবহেলিত নারীদের মর্যাদা রক্ষার জন্য পিতা ও স্বামীর সম্পদে তাদেরকে অংশীদার করেছেন। তিনি সব রকম অবৈধ বিবাহ প্রথা বাতিল করে বৈধ বিবাহের প্রচলন করেছেন। এছাড়া তিনি মোহরানা (বিয়ের সময় স্ত্রীকে স্বামীর দেওয়া অর্থ) আদায়ের নিয়ম চালুর মাধ্যমে নারীর সম্মান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। রাসুল (স) নারীকে মাতা, কন্যা, বোন ও স্ত্রী হিসেবে সমাজে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। কেউ যাতে নারীকে অবহেলা না করে সেজন্য তিনি ঘোষণা করেন, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।' নারীর অধিকার যথাযথভাবে আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেন, 'নারীর ওপর পুরুষের যতটুকু অধিকার আছে, পুরুষের ওপর নারীরও ততটুকু অধিকার আছে।' রাসুল (স) কন্যাসন্তান পছন্দ করতেন। তিনি পরম স্নেহ ও মমতা দিয়ে তাঁর কন্যাদের বড় করে তোলেন । তাঁর প্রচেষ্টায় আরবে কন্যা সন্তান হত্যাপ্রথা বন্ধ হয়।
উপরের আলোচনায় প্রমাণিত হয়, মিসেস নাজমা জাহানের চেতনা ও কাজে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবির (স) নির্দেশনা ও আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।