উক্ত মেলা অর্থাৎ উকাজ মেলা প্রাচীন আরবের সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল ।
উকাজ মেলা ছিল আরব সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। সেখানে সাহিত্যের বাইরেও । অনেক কিছুর উপস্থিতি ছিল, যা আরবের তৎকালীন সংস্কৃতির পরিচয় বহন করত। প্রাক-ইসলামি আরবের সাংস্কৃতিক জীবনে উকাজ মেলার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। প্রতি বছর হজ মৌসুমে মক্কার উপকণ্ঠে উকাজ নামক স্থানে মেলা বসত। এ মেলা ছিল আরব জীবনের প্রাণের স্পন্দন এবং আনন্দ উল্লাসের তীর্থভূমি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে মাসব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বই ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি উন্মুক্ত মঞ্চে আবৃত্তি, সংগীত, প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। উকাজ মেলারও সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল কবিতা প্রতিযোগিতা। সুন্দর বাচনশক্তির অধিকারী প্রাচীন আরবের কবিরা এ কবিতা পাঠের আসরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন। প্রতিবছর এখানে কবিতা প্রতিযোগিতা হতো এবং শ্রেষ্ঠ করিদেরকে পুরস্কৃত করা হতো। নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোকে কাবাঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যা 'সাবায়ে মুয়াল্লাকাত' নামে পরিচিত। লেবানিজ-আমেরিকান পণ্ডিত পি. কে. হিট্টি বলেন, 'ইসলাম পূর্ব দিনগুলোতে উকাজ মেলা আরবে এক ধরনের মত বিনিময়ের শিক্ষায়তন বলে গণ্য হতো। এখানে সাহিত্য প্রতিযোগিতা ছাড়াও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন খেলা যেমন- জুয়া, লাঠি, মল্লযুদ্ধ, বিভিন্ন ধরনের নৃত্য-গীত ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হতো। এ মেলায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য প্রদর্শিত হতো। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীও ঐ মেলা থেকে আরবরা সংগ্রহ করত। এটি ছিল মোটামুটি আরব সংস্কৃতির সামগ্রিক চিত্র ।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলা একাডেমির মেলাটির মতো 'উকাজ মেলা' কেবল সাহিত্যের গণ্ডিতেই আবদ্ধ ছিল না; বরং এর পরিসর ছিল বহুমাত্রিক। তখনকার আরব জীবনের অধিকাংশ বিষয়ই উকাজ মেলাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হতো । অর্থাৎ এ মেলা ছিল সংস্কৃতির এক মহামিলন।