উদ্দীপকের জনগোষ্ঠীর সাথে প্রাচীন মিসরীয়দের জীবন প্রণালীর সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য উভয়ই পরিলক্ষিত হয় ।
মিসরীয় সভ্যতা প্রাচীন সভ্যতাসমূহের অন্যতম। নীলনদকে কেন্দ্র করে এবং কৃষির ওপর ভিত্তি করে এ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, যেমনটি সিন্ধু সভ্যতার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। বিশ্বাসের দিক দিয়ে মিসরীয়রা প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতা বলে পূজা করত। সূর্য ছিল তাদের প্রধান দেবতা। এছাড়া তারা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। কিন্তু সিন্ধু সভ্যতায় মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মিসরীয় সভ্যতার বিপরীত চিত্র চোখে পড়ে ।
উদ্দীপকে সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা হয়েছে। এটি ছিল একটি কৃষিভিত্তিক নগর সভ্যতা। অনুরূপভাবে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা নীল নদের তীরে গড়ে ওঠেছিল। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারীরা পানির প্রাপ্যতা, কৃষির উৎপাদন ও পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করে। এভাবে তারা একটি কৃষিভিত্তিক সভ্যতার । গোড়াপত্তন করে যা সিন্ধু সভ্যতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে আরও বলা হয়েছে যে, সিন্ধু সভ্যতার লোকেরা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখত না। পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি তাদের আরাধ্য ছিল। অপরদিকে প্রাচীন মিসরীয়রা পারলৌকিক জীবন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখত । তারা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। তারা বিশ্বাস করত মৃত মানুষ কবরে গেলে তার দেহে আবার আত্মা ফিরে আসে। পৃথিবীতে তারা যে পাপ বা পুণ্য করছে দেবতা ওসিরিসের সামনে এর জবাবদিহি করতে হবে। এ সময় কৃতকর্মের বিচারের মাধ্যমে পুণ্যবানকে সুখময় স্থানে এবং পাপীকে অন্ধকার ঘরে নিক্ষেপ করা হবে। সূর্য দেবতা 'রে' তীব্র রশ্মি দিয়ে পাপীর দেহ ঝলসে দেবেন। মিসরীয়দের এরূপ ধর্মীয় বিশ্বাস সিন্ধু সভ্যতার লোকদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, নদীকেন্দ্রিকতা এবং কৃষির দিক দিয়ে সিন্ধু সভ্যতা ও মিসরীয় সভ্যতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও ধর্মীয় ক্ষেত্রে এ দুই সভ্যতার মানুষের বিশ্বাস পুরোপুরি ভিন্ন ।