বাংলা একাডেমির বই মেলার মতো উকাজ মেলা পুরোপুরি সাহিত্যনির্ভর ছিল না বলে আমি মনে করি।
উকাজ মেলা ছিল সার্বিক আরব সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। সেখানে সাহিত্যের বাইরেও অনেক কিছুর উপস্থিতি ছিল, যা ঐতিহ্যবাহী ও সমকালীন আরব সংস্কৃতির পরিচয় বহন করত। এ মেলার বাণিজ্যিক দিকটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু বাংলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত বইমেলায় অনেক বই বিক্রি হলেও এর মূল চেতনাটি আবর্তিত হয় সাহিত্য ও ভাষা শহিদের শ্রদ্ধা জানানোকে ঘিরে ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বই বিক্রয়ের পাশাপাশি উন্মুক্ত মঞ্চে আবৃত্তি, সংগীত, প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে সাহিত্যকর্মের জন্য পুরস্কারও দেওয়া হয় অর্থাৎ এ মেলার সব কর্মকাণ্ডই সাহিত্যনির্ভর। উকাজ মেলায়ও আরবের শ্রেষ্ঠ কবিদের নিয়ে কবিতা প্রতিযোগিতার আসর বসত। প্রতিযোগিতায় এক বা একাধিক কবিতা শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হতো। তবে উকাজ মেলায় সাহিত্য প্রতিযোগিতা ছাড়াও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন খেলা যেমন- জুয়া, লাঠি, মল্লযুদ্ধ, নৃত্য-গীতসহ সাংস্কৃতিক নানা অনুষ্ঠান হতো। এ মেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য প্রদর্শিত ও বিক্রি হতো। আরবরা শৌখিন ছাড়াও অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীও উকাজ মেলা থেকে সংগ্রহ করত। এতে মোটামুটি সমকালীন আরব সংস্কৃতির সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যেত । সাহিত্যচর্চা কেবল এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল ।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলা একাডেমির মেলাটির মতো 'উকাজ মেলা' কেবল সাহিত্যের গণ্ডিতেই আবদ্ধ ছিল না; বরং এর রূপ ছিল বহুমাত্রিক।