সুমেরীয় সভ্যতা আধুনিক সভ্যতার বিকাশ ও উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছে।
প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতা নদীকে কেন্দ্র করে বিকশিত সভ্যতাগুলোর অন্যতম । সুমেরীয় সভ্যতার মানুষ কৃষি, শিল্প, সংস্কৃতি, আইন, শিক্ষা, ধর্ম, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রভৃতি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছিল। কয়েকটি নগরকে কেন্দ্র করে সুমেরীয় সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। এগুলোর মধ্যে তাদের রাজধানী উর ছাড়াও লারমা, ইরুদু, কিশ, নিপ্পর, লাগাস উল্লেখযোগ্য। সুমেরীয়দের জীবিকার মূল উৎস ছিল কৃষি। কাঠের লাঙল, ধাতুর কাস্তে ও নিড়ানির ব্যবহার এবং সেচ ব্যবস্থার উদ্ভাবনের মাধ্যমে তারা উন্নত কৃষি পদ্ধতি গড়ে তোলে ।
সুশৃঙ্খল ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য সুমেরীয়রা একটি আইনকাঠামো গড়ে তুলেছিল। সুমেরীয় সম্রাট ডুঙ্গি (Dungi) এ বিধিবিধান তৈরি করেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, ব্যাবিলনীয় সম্রাট হাম্মুরাবি ভুঙ্গির আইনকে গ্রহণ করেই হাম্মুরাবির আইন সংহিতা' বা 'The Code of Hummurabi ' প্রণয়ন করেন। পাথরের স্বল্পতার কারণে সুমেরীয়রা রোদে শুকানো ইট দিয়ে ধর্মীয় মন্দির ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করত। সুমেরীয়রা উর শহরের মাঝখানে তাদের প্রধান ধর্মমন্দির বা জিগুরাত নির্মাণ করেছিল। সুমেরীয়রাই প্রথম কুমোরের চাকা আবিষ্কার করেছিল। সুমেরীয় সাহিত্যকর্মের মধ্যে বিখ্যাত ছিল 'প্লাবনের মহাকাব্য'। এছাড়া ইউরুকের কিংবদন্তির রাজা গিলগামেশকে কেন্দ্র করেই প্রাচীন সুমেরে বিখ্যাত মহাকাব্য 'গিলগামেশ' রচিত হয়েছিল। প্রাচীন সুমেরে ধর্মকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছিল । ধর্মীয় উৎসবের সময় বের করতে গিয়েই তারা জ্যোতির্বিদ্যার উদ্ভাবন ও চর্চা শুরু করেছিল। দিনপঞ্জি আবিষ্কার সুমেরীয়দের প্রধান অবদান। তারা চাঁদের আবর্তনের ওপর ভিত্তি করে জলঘড়ি ও চন্দ্রপঞ্জিকা উদ্ভাবন করেছিল। সুমেরীয়রা বছরকে ১২ মাসে বিভক্ত করে। এছাড়া ৬০ মিনিটে এক ঘণ্টা, ২৪ ঘণ্টায় একদিন, ৭ দিনে এক সপ্তাহ ইত্যাদি নির্ধারণ করেছিল তারা।
পরিশেষে বলা যায়, নগর সভ্যতার বিকাশ, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতি, সাহিত্য ও জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা প্রভৃতি ক্ষেত্রে সুমেরীয়রা তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে।