উদ্দীপকে বর্ণিত সমৃদ্ধ জনপদের সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার মিল পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, গঙ্গার মূল উৎস হিমালয় পর্বতমালার প্রায় ৩৯০০ বর্গমিটার উঁচুতে অবস্থিত গঙ্গাত্রী হিমবাহ। গঙ্গা ভারত ও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। এই নদীর দুটি শাখা, একটি ভাগীরথী যা পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত অন্যটি পদ্মা নাম নিয়ে বাংলাদেশের যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। গঙ্গা ও তার শাখানদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা সমৃদ্ধ অঞ্চলকে বলা হয় গঙ্গা নদী। যার সাথে মিশরীয় সভ্যতার মিল রয়েছে। নীলনদকে কেন্দ্র করে মিশরীয় সভ্যতার বিকাশ সূচিত হয়। মিশর ছিল প্রাচীন সভ্যতার ভিত্তি ভূমি। বর্তমান কাল থেকে প্রায় ৭,০০০ বছর আগে যখন পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ুতে নানা পরিবর্তনের ফলে দিনের পর দিন বৃষ্টি হতো। ফলে নীলনদের পানি উপচে দুকূল ছাপিয়ে মানুষের কৃষি উৎপাদনসহ সব সহায়-সম্বল ভাসিয়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দিত। তাই প্রাচীন মিসরীয়রা প্রতি বছর সংঘটিত এ বন্যাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাঁধ দেওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিল। এভাবে সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে প্রাচীন মিসরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, কৃষির উপকরণ, সেচব্যবস্থা প্রভৃতি বিকাশের সাথে সাথে নগরের বিকাশ ঘটতে থাকে যা মিসরকে সভ্যতার পটভূমিতে পরিণত করে। নীলনদে প্রতিবছর বন্যা হতো। যার ফলে মিশরের শতমাইল নিম্নভূমি পানিতে নিমজ্জিত হতো। নীলনদের দু'পাশ প্লাবিত হয়ে কোনো কোনো এলাকায় ৬ মিটার পর্যন্ত পলি পড়ত। যার ফলে নীলনদকে কেন্দ্র করে কৃষির ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। কৃষির প্রয়োজনে নীলনদে বাঁধ দিয়ে নদী শাসন করা হয়। যার প্রেক্ষিতে গড়ে উঠে শিল্পকারখানা, প্রতিষ্ঠিত হয় শহর। মিশরীয় সভ্যতা নীলনদের প্রভাবে কৃষি কাজের উৎপাদনের সাথে শহর ও আশপাশের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। গড়ে ওঠে বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা তথা মিশরীয় সভ্যতা।
অতএব উদ্দীপকে উল্লিখিত সমৃদ্ধ জনপদের সাথে মিশরীয় সভ্যতা সাদশ্যপূর্ণ।