মুশফিকের বর্ণনাকৃত জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।প্রাচীন মিশরীয়দের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়েছে ধর্মচেতনা। মিশরীয়দের ধারণা ছিল সূর্যদেবতা 'রে' বা 'আমন রে' এবং প্রাকৃতিক শক্তি, শস্য ও নীলনদের দেবতা 'ওসিরিস' মিলিতভাবে সমগ্র পৃথিবী পরিচালনা করেন। মিশরীয় স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রকলায় ধর্মের প্রভাব স্পষ্ট। সাহিত্য ও দর্শন গড়ে উঠেছিল ধর্মের আলোকে। রাষ্ট্র শাসন করা হতো ধর্মের বিধিবিধান দিয়ে। ধর্মমন্দিরে গড়ে ওঠা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করত দেশের অর্থনীতি। মিসরীয় চিত্রকলা, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তিকে প্রাচীন মিসরীয়রা দেবতা মেনে পূজা করত। তারা বিশ্বাস করত, প্রকৃতিকে দেবদেবীরাই নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে থাকেন। প্রাচীন মিসরীয়দের বিশ্বাস অনুসারে সূর্যের দেবতা 'রা' বা 'রে' দেব-দেবীদের রাজা। তিনি প্রধান দেবতা হিসেবে অন্য দেবতাদের নিয়ন্ত্রণ করেন। একসময় 'রা' বা 'রে' নামটি রূপান্তরিত হয়ে দাঁড়ায় 'আমন' বা 'আমন রে'-তে। 'রা' ছিলেন আলো ও জীবনের আধার। মিসরীয়দের আরও অনেক দেব-দেবী ছিল। এদের দুজন হলেন জীবন, মৃত্যু ও উর্বরতার দেবতা ওসিরিস এবং তার স্ত্রী আইসিস। প্রাচীন মিসরীয়রা সম্রাট বা ফারাওকে স্বার্গের প্রতিনিধি মনে করত এবং তাদের দেবতার মতোই সম্মান করত। মৃত্যুপরবর্তী জীবনে তাদের বিশ্বাস ছিল। মিসরীয়রা বিশ্বাস করত মৃত মানুষ কবরে গেলে তার দেহে আত্মা ফিরে আসে। পৃথিবীতে তারা যে পাপ বা পুণ্য করেছে, দেবতা ওসিরিসের সামনে সেগুলোর হিসাব হবে। এরপর পুণ্যবানকে সুখময় স্থানে এবং পাপীকে অন্ধকার ঘরে নিক্ষেপ করা হবে। সূর্যদেবতা 'রা' তীব্র রশ্মি দিয়ে পাপীর দেহকে ঝলসে দেবেন।তাই দেখা যায়, মিসরীয় সভ্যতার জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা প্রভাবিত ছিল।