উদ্দীপকে দীল আফরোজের বক্তব্যে আইয়ামে জাহেলিয়ার আরব সমাজের নারীর অবস্থা ফুটে উঠেছে।জাহেলিয়া যুগের আরব সমাজে নারী জাতি ছিল ঘৃণিত, অবহেলিত এবং ভোগের সামগ্রী। তখন বিবাহ বলতে কিছুই ছিল না। তাই তারা সন্তান লাভের জন্য স্বামীর নিকট হতে অনুমতি নিয়ে পরপুরুষের সঙ্গে মেলামেশা করত। বিমাতাকে বিবাহ, ভগ্নীকে বিবাহ সমাজে প্রচলিত ছিল। নারী পণ্যদ্রব্যের ন্যায় হাটেবাজারে বিক্রয় হতো। মৃত স্বামী ও পিতার অথবা কোনো আত্মীয়ের সম্পদে তাদের কোনো অংশ ছিল না। এছাড়া বিবাহ বন্ধনের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করে স্বেচ্ছাচারী পুরুষ একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করত। তারা অবৈধ প্রণয়ের মতো বিবেক বর্জিত কাজেও লিপ্ত ছিল। কন্যা সন্তান জন্মদান অপমানজনক বিধায় তাদেরকে জীবন্ত। কবর দেওয়া হতো। কিতাবুল আঘাজির মতে, এ জঘন্য প্রথা কায়েস-বিন-আসিম নামে জনৈক ব্যক্তি প্রবর্তন করেন। বহু পিতা দারিদ্র্যের ভয়ে কন্যা সন্তানকে হত্যা করত। এসব অমানবিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "তুমি তোমার সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না। আমি তাদের এবং তোমাদের জীবিকা সরবরাহ করে থাকি। নিশ্চয় তাদের হত্যা করা মহাপাপ।” [আল কুরআন (১৭:৩৯)।অতএব, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাবের পূর্বে আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে নারী জাতিকে এরূপ ঘৃণিত ও অভিশপ্ত জীবনযাপন করতে হতো।