উদ্দীপকের বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ইসলামপূর্ব আরবের উকাজ মেলার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত জব্বারের বলীখেলা একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যমণ্ডিত প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত। বলীখেলাকে কেন্দ্র করে লালদিঘী ময়দানের আশেপাশে প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে বৈশাখী মেলার আয়োজন হয়। এটি বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার সবচেয়ে বৃহৎ বৈশাখী মেলা। দূরদূরান্ত হতে হরেক রকমের ব্যবসায়িক পণ্য নিয়ে বিক্রেতাগণ হাজির হন। মেলা উপলক্ষ্যে নানান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকের এ বিষয়টির সাথে প্রাক-ইসলামি যুগের উকাজ মেলার সাদৃশ্য রয়েছে। ইসলাম-পূর্ব আরবের একটি বিখ্যাত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে উকাজ মেলা। ম্যাসব্যাপী এ মেলায় কবিতা পাঠের আসর, গানবাজনা, জুয়া খেলা ও মদ্যপানের আসর বসত। এ মেলার মাধ্যমে আরবের বিখ্যাত কবিদের কবিতা লেখার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। তৎকালীন আরবের বিখ্যাত কবি ছিলেন আমর ইবনে কুলসুম, লাবিদ ইবনে রাবিয়া, আনতারা ইবনে শাদ্দাদ, ইমরুল কায়েস, তারাকা ইবনে আল-আদ, হারিস ইবনে হিল্লাজা ও জুহাইর ইবনে আবি সালমা। এদের মধ্যে অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন ইমরুল কায়েস। তাকে 'আরবের শেক্সপিয়র' হিসেবে অভিহিত করা হয়। সেরা সাত কবির কবিতা সোনালি হরফে লিপিবদ্ধ করে কাবা শরিফের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। একারণে এ কবিতাগুলোকে সাবয়া মুয়াল্লাকাত বা সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা বলা হয়। এ মেলায় স্থানীয় বিভিন্ন দ্রব্যের পাশাপাশি বিদেশি পণ্যদ্রব্য প্রদর্শিত হতো। পণ্যের পশরা সাজিয়ে বসতো ব্যবসায়ীরা। এ মেলায় নাচ-গান, ঘোড়াদৌড় ও উস্ট্রদৌড় প্রতিযোগিতা ও নানা ধরনের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হতো।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে উকাজ মেলার মিল রয়েছে।