উদ্দীপকের ওয়ার্ড ব্যবস্থার সাথে প্রাচীন আরবের গোত্রপ্রথার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মোহনপুর এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে সবসময় হানাহানি, সংঘাত লেগেই থাকে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাচিত মেম্বার রয়েছে। নিজ ওয়ার্ডে না হলেও ফসল কাটা, মাছ ধরা, পশুপালন ইত্যাদি নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আন্তঃকলহ লেগেই থাকে। তদুপ ইসলাম-পূর্ব আরবে কেন্দ্রীয় কোনো শাসন না থাকায় বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল; যেমন- বনু বকর, বনু তাঘলিব ইত্যাদি। এসব গোত্রের মধ্যে সবসময় কলহবিবাদ লেগেই থাকত। মাঝে মাঝে এসব গোত্রকলহ ভয়াবহ আকার ধারণ করত। পানির নহর, তৃণভূমি, গবাদিপশু, ঘোড়দৌড়ের মতো সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে 'কলহপ্রিয় আরব গোত্রগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতো। কোনো কোনো সংঘর্ষ দীর্ঘদিন ধরে চলত। এসব গোত্রকলহ সাধারণত 'আইয়াম-আল-আরব' বা আরবদের দিন নামে পরিচিত। এ সময়ের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধগুলোর মধ্যে মদিনার আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে সংঘটিত 'বুয়াস'-এর যুদ্ধ, কুরাইশ ও হাওয়াযিন গোত্রের মধ্যে, সংঘটিত আল-ফিজার-এর যুদ্ধ এবং বনু বকর ও বনু তাঘলিব গোত্রের মধ্যে সংঘটিত দীর্ঘ চল্লিশ বছরব্যালী 'বাসুস'-এর যুদ্ধ অন্যতম। ঐতিহাসিক গিবন বলেন, "ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবে প্রায় ১৭০০টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়।"
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে ওয়ার্ড ব্যবস্থা প্রাক-ইসলামি আরবের গোত্রপ্রথারই প্রতিরূপ।