উদ্দীপকের সিঙ্গাপুরের মতো প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের অধিবাসীদের জীবন প্রণালিতে ভৌগোলিক পরিবেশ ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল।
আরব ভূখণ্ডের বৃষ্টিপাতহীন উষ্ণ ও শুষ্ক জলবায়ু, বালুকাময় ধূ-ধূ মরুভূমি প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশের সাথে অবিরত সংগ্রাম করে মরুবাসী বেদুইনরা একদিকে যেমন রুক্ষ, দুঃসাহসিক, দুর্ধর্ষ ও সৈনিক জাতিতে পরিণত হয়েছে; অন্যদিকে তারা ধৈর্যশীল, কষ্টসহিষ্ণু ও কঠোর পরিশ্রমী হয়েছে। তাদের আচরণে ও চরিত্রে একাধারে, বর্বরতা, নৃশংসতা, কঠোরতা ও সাহসিকতার সমন্বয় ঘটেছে। মরুভূমির প্রচণ্ড সাইমুম ঝড়, প্রখর উত্তাপ, রৌদ্রদগ্ধ বালুকা, তপ্ত লু-হাওয়া, রুক্ষ পর্বতমালা, কণ্টকাকীর্ণ বৃক্ষরাজি তাদের সংগ্রামী জাতিতে পরিণত করেছে। পশুপালন ও ব্যবসায় বাণিজ্য তাদের প্রধান পেশা হলেও অভাবগ্রস্ত হলে পণ্যবাহী কাফেলায় তারা হামলা চালাত অথবা পার্শ্ববর্তী এলাকায় লুটতরাজ করতে দ্বিধা করত না। তবে আরবদের মধ্যে কিছু মহত্ত্বের সুকুমার গুণও বিদ্যমান ছিল। আতিথেয়তা, কবিস্বভাব, স্বাধীনতাপ্রিয়তা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ, দানশীলতা প্রভৃতি ছিল তাদের সহজাত গুণ। প্রত্যেক নাগরিক সামারিক দক্ষতায় দক্ষ ছিল। অন্য জাতির সংস্কৃতিকে আত্মস্থ করে নেওয়ার সহজাত ক্ষমতা আরবাসীদের ছিল। রক্তের বিশুদ্ধতা, বাগ্মিতা, কাব্য রচনা, তরবারি চালনা এবং বংশধারা নিয়ে আরবীয়দের মনে প্রচন্ড গর্ব ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, আরবের জনগণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ধারণ ও দৈনন্দিন কর্মে ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।