উল্লিখিত সিন্ধু নদের সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদের অবদানের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ওরিয়েন্ট ইউনির্ভাসিটির ইতিহাস বিভাগের ছাত্র শিহাব গবেষণার জন্য প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো পরিদর্শন করে। সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা এ সভ্যতার মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি। কারণ সিন্ধু নদের অববাহিকা ছিল উর্বর। কালক্রমে তারা বড় বড় রাস্তা ও ঘরবাড়ি তৈরি করে। অনুরূপ ঘটনা নীলনদের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। সেখানে নীলনদকে কেন্দ্র করে মিশরীয় সভ্যতার বিকাশ সূচিত হয়। নীলনদে প্রতিবছর বন্যা হতো। যার ফলে মিশরের শতমাইল নিম্নভূমি পানিতে নিমজ্জিত হতো। নীলনদের দু'পাশ প্লাবিত হয়ে কোনো কোনো এলাকায় ৬ মিটার পর্যন্ত পলি পড়ত। যার ফলে নীলনদকে কেন্দ্র করে কৃষির ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। কৃষির প্রয়োজনে নীলনদে বাঁধ দিয়ে নদী শাসন করা হয়। যার প্রেক্ষিতে গড়ে উঠে শিল্পকারখানা, প্রতিষ্ঠিত হয় শহর। মিশরীয় সভ্যতা নীলনদের প্রভাবে কৃষিকাজের উৎপাদনের সাথে শহর ও আশপাশের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। অর্থনৈতিক উন্নতি ও সমৃদ্ধির ফলে তারা জ্ঞানচর্চায় মনোনিবেশ করে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প ও স্থাপত্যে অনবদ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়। গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিশরীয় সভ্যতার ওপর নীলনদের প্রভাব লক্ষ করে মিশরকে নীলনদের দান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত সিন্ধু নদ ও তাকে ঘিরে সংঘটিত কর্মকান্ডের সাথে মিশরের নীলনদ ও তাকে ঘিরে গড়ে উঠা মিশরীয় সভ্যতা সাদৃশ্যপূর্ণ।