উদ্দীপকের সিন্ধু সভ্যতার সাথে আমার পঠিত মিশরীয় সভ্যতার কৃষিকাজের মিল রয়েছে।সিন্ধু সভ্যতায় উন্নত কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। যব, গম, তুলাসহ নানা প্রকার ফসল তারা উৎপন্ন করত। ফলন বৃদ্ধির জন্য জমিতে জলসেচ করত ও বাঁধ দিত। বন্যার পানিকে সংরক্ষণ করে কাজে লাগত। সিন্ধু সভ্যতার অনুরূপ অবস্থা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায়ও লক্ষ করা যায়। মূলত নীলনদকে ঘিরেই প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার উন্মেষ হয় এবং নীলনদের উপকূলীয় অঞ্চলেই প্রথম কৃষির সূচনা হয়। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালের শুরুতে আফ্রিকার মধ্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট প্লাবনে নীলনদের দুকূল ছাপিয়ে যেত। এসময় পাহাড়ি মাটি, বরফগলা পানি ও অজস্র জলজ উদ্ভিদ আবাদি জমিতে এসে পড়ত। ৪ মাস স্থায়ী এ বন্যার সময় গাছ-গাছড়া পচে গিয়ে এবং এর সাথে জলধারায় পাহাড়ি লাল পাথুরে মাটি মিশে এক উর্বর পলিমাটির সৃষ্টি হতো। প্লাবন শেষে বন্যার উর্বর পলিমাটিতে নীলনদের উভয় তীর দৈর্ঘ্যে ৬০০ মাইল এবং প্রস্থে ১০ মাইল পর্যন্ত ভরে যেত। এরূপে সঞ্চিত পলিমাটির গুণে উভয় ভূভাগ অত্যন্ত উর্বর হয়। ফলে প্রচুর শস্য, তুলা প্রভৃতি উৎপন্ন হওয়ায় মিশর একটি সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হয়েছে। এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা এ তিনটি মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকায় এবং ভূমধ্যসাগরের উপকূলে বিদ্যমান হওয়ার ফলে মিশরের ভৌগোলিক অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীলনদের তীরে সিনাই পাহাড় ও অন্যান্য পর্বতমালা এবং চুনা পাথরের পাহাড়গুলো বিদ্যমান থাকায় শিল্পদ্রব্য ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার জন্য মিশরবাসীকে বিভিন্ন প্রকার ধাতু সরবরাহ করেছে। মিশরের সমৃদ্ধি, আড়ম্বর ও প্রগতি এসব দ্রব্যসামগ্রী এবং উল্লিখিত সুযোগ-সুবিধার জন্য সম্ভব হয়েছে। এককথায়, গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও নীলনদের দানের ফলে মিশরেই বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সভ্যতার উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে।অতএব উদ্দীপকের সিন্ধু সভ্যতার কৃষিব্যবস্থার মাধ্যমে মিশরীয় সভ্যতার কৃষিকাজের চিত্র ফুটে উঠেছে।