উদ্দীপকে জাভা দ্বীপের পরিষদ গঠনের সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের মক্কার শাসনব্যবস্থার আল-মালার সামঞ্জস্য রয়েছে।
প্রাক-ইসলামি আরবে শুধু মক্কাকে কেন্দ্র করে একটি নিয়মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। মক্কা নগর একদল বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি কর্তৃক শাসিত হতো। এ ব্যবস্থাপক সভাকে বলা হতো মালা। প্রাক-ইসলামি আরবে 'আল-মালা' নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন বা মন্ত্রণাসভা ছিল। বিভিন্ন গোত্রের গোত্রপতি দ্বারা গঠিত মালা মক্কার শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করত। তাদের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করত। এ পরিষদ মক্কার বিবদমান গোত্রগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করত। এর উদ্দেশ্য ছিল শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, গোত্রীয় ভারসাম্য রক্ষা করা এবং মৈত্রী ও সম্ভাব তৈরি করা। তবে এ পরিষদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না। এটি কেবল পরামর্শ দিতে পারত। এর বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল-
১. রিফাদাহ: তীর্থযাত্রীদের জন্য রসদ সরবরাহ;২. সিকায়াহ: তীর্থযাত্রীদের প্রয়োজনীয় পানীয় সরবরাহ;৩. হিজাবা: কাবাগৃহ ঢেকে রাখার ব্যবস্থা;,৪. লিওয়া: যুদ্ধের সময় পতাকা বহন।
যে কক্ষে এ পরিষদের সভা বসত সেটি 'দারুল নদওয়া' নামে পরিচিত। গুরুত্বপূর্ণ সব সমস্যার সমাধান এখানে করা হতো। অবশ্য মক্কা নগরী ও কাবাগৃহ বিষয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য সবাই কাবাগৃহের প্রাঙ্গণে একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন।অতএব, উদ্দীপকে জাভা দ্বীপের পরিষদ গঠনের সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের মক্কার শাসনব্যবস্থার আল-মালার সামঞ্জস্য রয়েছে।