ভৌগোলিক পরিবেশ আরবদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের জীবনযাত্রায় তাদের দেহ, মন ও চরিত্রে এ অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। শুষ্ক আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি, ভূমির লবণাক্ততা এ ধরনের অনুর্বরতার মতো প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশের সঙ্গে অহরহ সংগ্রাম করেই আরববাসীদের বেঁচে থাকতে হতো। এ অঞ্চলের অধিবাসীরা তাই একদিকে যেমন রুক্ষ, দুঃসাহসিক, দুর্ধর্ষ ও যোদ্ধা জাতিতে পরিণত হয়েছিল, অপ্রদিকে ধৈর্যশীল, কষ্টসহিষ্ণু, পরিশ্রমী, আনুগত্যশীল, অতিথিপরায়ণ, সংবেদনশীল ও সাহায্যকারী হিসেবেও গড়ে উঠেছে।আরববাসীদের ওপর ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাবের যেসব বিষয় ফুটে উঠেছে সেগুলো হলো-
১. মরুভূমির প্রচণ্ড উত্তাপ, লু-হাওয়া, উত্তপ্ত বালুকারাশি, গাছপালাহীন রুদ্র পাহাড় শ্রেণি আরব অঞ্চলের লোকদের চরিত্রে কঠোরতা, বর্বরতা, নৃশংসতা এবং সাহসিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছে।
২. নির্জন ও প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে তাদেরকে স্বগোত্রীয়দের প্রতি সংবেদনশীল এবং গোত্রপতির প্রতি সহজাত আনুগত্যশীল করে গড়ে তুলেছে।
৩. অধিকাংশ এলাকা মরুময় হওয়ার কারণে আরব ভূখণ্ডে কোনো কৃষিকাজ হতো না। জীবনের তাগিদে লুটতরাজ ও দস্যুবৃত্তি তাদের প্রধান পেশা ছিল। আর স্বভাবতই প্রতিবেশী গোত্র ও শত্রুভাবাপন্ন গোত্র হতো এর শিকার।
উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায়, ভৌগোলিক পরিবেশ আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের জীবনযাপন পদ্ধতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-ব্যবহার, রীতিনীতি, ধ্যানধারণা ও চরিত্রকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। প্রতিকূল পরিবেশ তাদেরকে দুর্ধর্ষ, কঠোর, হিংস্র ও যাযাবর জীবনযাপনে বাধ্য করেছে।