উদ্দীপকে বর্ণিত সাহিত্যকর্মের সাথে আমার পাঠ্যব্বইয়ের সাবআ-মুয়াল্লাকাত রচনার মিল রয়েছে।উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে মাসব্যাপী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ মেলায় ক্রেতা, বিক্রেতা, দর্শনার্থী, শিল্পী, সাহিত্যিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হন। উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন আবৃতি, সঙ্গীত, প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলা, একাডেমি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের উকাজ মেলার নির্বাচিত সাবআ-মুয়াল্লাকাতের মিল রয়েছে। তৎকালীন অন্যায়-অনাচারে পিষ্ঠ প্রাক-ইসলামি আরবের কাব্যচর্চা অনেকটা উন্নত ছিল। বর্তমান যুগের ন্যায় শিক্ষাব্যবস্থা না থাকলেও তাদের ভাষা এবং কবিতার কারণে সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা অনেক উজ্জ্বল ছিল। গীতিকাব্য রচনা ও সাহিত্যচর্চায় আরবদের অপূর্ব সৃজনশীল শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। সে সময় আরবরা তাদের সাহিত্য চর্চাকে কেন্দ্র করে বার্ষিক প্রাপ্ত সাতটি কবিতা সোনালি অক্ষরে লিপিবদ্ধ করে পবিত্র 'কাবা' শরিফের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো বলে এ কবিতাগুলোকে 'সাব-আ'মুয়াল্লকাত' বা সপ্ত ঝুলন্ত কবিতা বলা হতো। এসব কবিরা ছন্দের মাধ্যমে তাদের বংশের গৌরবগাথা ও বীরত্বপূর্ণ কাহিনি ফুটিয়ে তুলত। এ যুগের কবিতার রচয়িতাগণ ছিলেন আমর ইবনে কুলসুম, লাবিদ ইবনে রাবিয়া, আনতারা ইবনে শাদ্দাদ, ইমরুল কায়েস, হারিস ইবন হিল্লিজা ও জুহাইর ইবনে আবি সালমা।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সাহিত্যকর্মের সাথে সাবআ-মুয়াল্লাকাত রচনার সাদৃশ্য রয়েছে।