উদ্দীপকে সুমেরীয় সভ্যতার কথা আলোচিত হয়েছে।উদ্দীপকের সামিত এটি প্রাচীন সভ্যতার বর্ণনা পড়ছিল। সে জানতে পারল উক্ত সভ্যতা মেসোপটেমীয় অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল প্রায় ৪০০০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে। তাদের একজন রাজা স্থানীয় আইনগুলো সংগ্রহ করে একটি বিধিবদ্ধ আইন প্রণয়ন করেছিলেন। এই সভ্যতার মানুষরা জিগুরাত নামক মন্দিরে উপাসনা করত। যা সুমেরীয় সভ্যতাকে নির্দেশ করে। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে আধুনিক ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকায় পর্যায়ক্রমে কয়েকটি সভ্যতার উন্মেষ হয়। মেসোপটেমীয় ভূখণ্ডে যে সভ্যতাগুলো গড়ে উঠেছিল সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাসিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। একদল ঐতিহাসিকের মতে, সুমেরীয়দের একটি দল ৪০০০ খ্রিষ্টপূর্বান্দের দিকে মেসোপটেমিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষত এলেমের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে এসে দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার নিম্নাঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। তাদের নামানুসারে এ সভ্যতাটি সুমেরীয় নামে পরিচিত হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দে কৃষি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ সুমের জাতি এ অঞ্চলে প্রাচীন ও সভ্যতার উন্মেষ ঘটিয়েছিল। কয়েকটি নগরকে কেন্দ্র করে সুমেরীয়রা সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছিল। সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবি ছিল 'পাতেজি'। ক্ষমতাধর পাতেজিরা ছিলেন একাধারে ধর্মযাজক, সমরনেতা ও সেচব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক। সুমেরীয়দের আয়ের মূল উৎস ছিল কৃষি। কৃষি ও বাণিজ্য ছাড়াও বাড়িঘর নির্মাণ, শিল্প, মাটির আসবাবপত্র তৈরি, নৌকা তৈরি ইত্যাদি কর্মমুখী পেশায়ও সুমেরীয়রা নিয়োজিত ছিল। সুমেরীয় রাজা ডুঙ্গি প্রথম বিধিবদ্ধ আইন প্রণয়ন করেন। সুমেরীয়রা জিগুরাত মন্দিরে পূজা করত।