উদ্দীপকের সর্বশেষে ইমাম সাহেবের উক্তিটি তথা সগিরের আচরণকে ইসলাম বিরোধী বলা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। কেননা ইসলাম নারীদের প্রতি যে আচরণের কথা বলেছে তা সগিরের আচরণে ফুটে ওঠেনি।
জাহিলি সমাজে নারীরা অবহেলিত, লাঞ্ছিত ও ভোগের সামগ্রীর ন্যায় বিবেচিত হতো। সে সমাজে রাসুল (সা.) তাদেরকে সম্মানের সর্বোচ্চ আসনে স্থান দেন। তিনি কন্যা সন্তানকে হত্যা করতে নিষেধ করেন। এসব অমানবিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "তুমি তোমার সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না। আমি তাদের এবং তোমাদের জীবিকা সরবরাহ করে থাকি। নিশ্চয় তাদের হত্যা করা মহাপাপ।"
বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (সা.) বলেন, "হে বিশ্বাসিগণ! স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার আছে, তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে। তাদের তোমরা আল্লাহকে সাক্ষী রেখেই গ্রহণ করেছ।"নারীর অধিকার সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেন, "নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের ওপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের ওপর পুরুষদের মর্যাদা আছে।" (আল বাকারা: ২২৮)
তাই উদ্দীপকের সগির যে কর্মকান্ড করেছে তা ইসলামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। কেননা চারটি কন্যা সন্তানের জন্ম হলেও পুত্রের আশায় আরেকটি বিয়ের উদ্যোগ নেয় সগির। সকিনা প্রতিবাদ করলে তার উপর নেমে আসে নির্যাতনের স্টিমরোলার। সাধারণ বিষয় নিয়ে প্রতিদিনই সকিনাকে মারধর করে সগির ও তার পরিবার। যা ইসলামি রীতিনীতির পরিপন্থি। এমতাবস্থায় মসজিদের ইমাম সাহেব সগিরকে বললেন, “তোমার আচরণ সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী।" কেননা ইসলাম কন্যা সন্তান ও নারীদের প্রতি ভালো ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। তাই ইমাম সাহেবের মন্তব্যটি যথার্থ।