উপযুক্ত শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসরণ করে একটি খুদেগল্প লেখো: মানুষের জীবনে পাওয়া না-পাওয়ার দ্বন্দ্ব চিরন্তন। মানুষ যদি অল্পতেই পরিতুষ্ট হতে পারে তবেই...।
উত্তর: প্রকৃত সুখের উৎস মানুষের জীবনে পাওয়া না-পাওয়ার দ্বন্দ্ব চিরন্তন। মানুষ যদি অল্পতেই পরিতুষ্ট হতে পারে তবেই সে প্রকৃত সুখী হতে পারে। কিন্তু মানুষের চাওয়ার কোনো শেষ নেই। একতলা বাড়ি হলে দোতলার চিন্তা, সাইকেল থাকলে মোটরসাইকেলের তৃষ্ণা- এই অনন্ত অতৃপ্তিই মানুষকে মানসিকভাবে অশান্ত করে রাখে। কিন্তু আনন্দপুর গ্রামের ছোটো বাজারে চা বিক্রি করা রহমত মিয়ার জীবনদর্শন সম্পূর্ণ আলাদা। রহমত মিয়া প্রতিদিন ভোরে তার ছোটো দোকানটি খোলেন। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে তার আয় হয় অতি সামান্য, কিন্তু তার চোখেমুখে সবসময় এক অপার্থিব প্রশান্তি বিরাজ করে। রহমতের বড়ো ছেলে এবার এসএসসি পাশ করেছে, ছোটো মেয়েটা স্কুলে পড়ে। তাদের থাকার ঘরটি আধাপাকা টিনের হলেও রহমত ভাবে, সৃষ্টিকর্তা যা দিয়েছেন, তাতেই আমি জগতের শ্রেষ্ঠ সুখী মানুষ। তার মতে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকা আর দিনশেষে পরিবারের সাথে দু-মুঠো ডাল-ভাত খেতে পারাই হলো পরম পাওয়া। অন্যদিকে গ্রামের বড়ো ব্যবসায়ী কাসেম সাহেব কোটি টাকার মালিক। তার আলিশান বাড়িতে রাজকীয় সব আয়োজন, কিন্তু তার মন সর্বদা বিষাদে ভরা। ব্যাবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী তাকে ব্যবসায় ছাপিয়ে গেল কি না কিংবা শেয়ার বাজারে দর পড়ল কি না এই দুশ্চিন্তা তাকে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে দেয় না। উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা আর মানসিক অবসাদ তার নিত্যসঙ্গী। কাসেম সাহেবের মনে হয়, সুখ যেন কোনো এক সোনার হরিণ যা তিনি শত চেষ্টা করেও ধরতে পারছেন না। একদিন কাসেম সাহেব রহমতের চায়ের দোকানে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করলেন, 'রহমত, তোমার এই চিরচেনা হাসির রহস্য কী? তোমার তো অনেক অভাব, তবুও তুমি এই সামান্য আয়েও এত শান্ত আর তৃপ্ত থাকো কীভাবে?' রহমত মিয়া কেটলি থেকে কাপে চা ঢালতে ঢালতে মৃদু হেসে উত্তর দিলেন, 'সাহেব, পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব করা আমি অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। আমি ভাবি আমার যা নেই তার চেয়ে যা আছে তা অনেক বড়ো। আমার সুস্থ শরীর আছে, ফুটফুটে দুটো সন্তান আছে। যে নিজের অবস্থার সাথে অল্পতেই তুষ্ট হতে পারে না, সে দুনিয়ার সব সম্পদ পেলেও সুখী হতে পারবে না।' কাসেম সাহেব সেদিন বুঝলেন, প্রকৃত সুখ ব্যাংক-ব্যালেন্সে বা বড়ো অট্টালিকায় নয় বরং অন্তরের সন্তুষ্টিতে নিহিত। রহমতের জীবনের এই দর্শনই তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ও সুখী মানুষে পরিণত করেছে। মানুষের জীবনে পাওয়া না-পাওয়ার দ্বন্দ্ব চিরন্তন ঠিকই, কিন্তু মানুষ যদি যা আছে তা নিয়ে তুষ্ট হতে পারে তবেই তার জীবন সুন্দর হতে পারে। অতৃপ্তির আগুন মানুষকে তিল তিল করে শেষ করে দেয়, আর সন্তুষ্টির শীতল জল জীবনকে করে তোলে মহিমান্বিত ও গতিশীল।
HSC Bangla 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সৃজনশীল
উপযুক্ত শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসরণ করে একটি খুদেগল্প লেখো: মানুষের জীবনে পাওয়া না-পাওয়ার দ্বন্দ্ব চিরন্তন। মানুষ যদি অল্পতেই পরিতুষ্ট হতে পারে তবেই...।
উত্তর