বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
উত্তর: বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা আকিব : কেমন আছিস ফাহিম? তোর হাতের ওটা কি ফাস্টফুডের প্যাকেট? ফাহিম : এই তো ভালো। হ্যাঁ বন্ধু, আজ খুব ক্ষুধা লেগেছে তাই এই বার্গারটা কিনে নিলাম। তুই কেমন আছিস? আকিব : আমি ভালো আছি। তবে তোকে এভাবে বাইরের ভাজাপোড়া বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে দেখে একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমাদের দেশের নাগরিকদের বর্তমান স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে তোর কী মনে হয়? ফাহিম : কেন বন্ধু, আমরা তো এখন বেশ সচেতন। সবাই এখন জিমে যায়, ডায়েট করে। ইন্টারনেটের যুগে স্বাস্থ্য সম্পর্কে তথ্য পাওয়া তো এখন খুব সহজ। আকিব : তথ্য পাওয়া সহজ হলেও তা মানার প্রবণতা কিন্তু আমাদের দেশে খুবই কম। অধিকাংশ মানুষই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আর অনিয়মিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ফাস্টফুড আর প্রক্রিয়াজাত খাবারের আসক্তি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফাহিম : তুই ঠিক বলেছিস। এমনকি রাস্তাঘাটে যে খোলা খাবার বা রঙিন পানীয় বিক্রি হয় তা খাওয়ার সময় আমরা এর ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে একদমই ভাবি না। এর ফলেই তো পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি রোগ বাড়ছে। আকিব : শুধু খাবার নয়, আমাদের নাগরিকদের মধ্যে শারীরিক পরিশ্রমের অনীহাও প্রকট। অলস জীবনযাপন আর স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে অল্প বয়সেই অনেকে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফাহিম : হ্যাঁ, আমি সংবাদপত্রে পড়েছি যে বাংলাদেশে অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর হার বাড়ছে। গ্রামের মানুষ হয়তো কায়িক পরিশ্রম করে কিছুটা সুস্থ থাকে, কিন্তু তাদের মধ্যে আবার পুষ্টি সচেতনতা বা প্রাথমিক চিকিৎসার ধারণা খুব কম। আকিব : একদম তাই। স্বাস্থ্যসচেতনতা মানে কেবল রোগ হলে ওষুধ খাওয়া নয় বরং রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম আর সুষম খাবার গ্রহণই হলো সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র। ফাহিম : আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোর যে চাপ তা দেখে বোঝা যায় মানুষ কতটা অসুস্থ হচ্ছে। যদি সবাই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সামান্য সচেতন হতো, তবে এই চাপ অনেক কমে আসত। আকিব : সরকারিভাবেও বিভিন্ন ক্যাম্পেইন চলছে, কিন্তু ব্যক্তিগত সচেতনতা না বাড়লে এর সুফল পাওয়া কঠিন। স্বাস্থ্য সচেতনতা এখন আমাদের জাতীয় শিক্ষায় আরও গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। ফাহিম : চমৎকার বলেছিস বন্ধু। তোর এই কথাগুলো শুনে আমার নিজের ভুলও বুঝতে পারলাম। এই অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিয়ে, এখন থেকে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেবো। আকিব : এটাই হওয়া উচিত। শরীর সুস্থ না থাকলে কিন্তু কোনো কাজেই সাফল্য আসবে না। সচেতনতাই হলো দীর্ঘ ও সুন্দর জীবনের চাবিকাঠি। ফাহিম : বন্ধু, অনেক ধন্যবাদ তোকে। আজ থেকে আমি জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করব। চল, এখন বাসায় ফিরি। আকিব : ঠিক আছে। সাবধানে যাস। আগামীকাল ক্লাসে দেখা হবে। ফাহিম : তুইও ভালো থাকিস।
HSC Bangla 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সৃজনশীল
বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
উত্তর