আবেগ কাকে বলে? আবেগ শব্দের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: যে শব্দ বাক্যের অন্য শব্দের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশে সহায়তা করে তাকে আবেগ শব্দ বলে। যেমন: আরে! তুমি আবার কখন এলে উঃ! ছেলেটির কী কষ্ট। নিচে আবেগ শব্দের প্রকারভেদ উল্লেখ করা হলো- ক. সিদ্ধান্তবাচক আবেগ শব্দ: যেসব শব্দ দ্বারা অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় সেসব শব্দকে সিদ্ধান্তবাচক আবেগ শব্দ বলা হয়। যেমন: উঁহু! ওটা ধরবে না। বেশ! তোমার কথাই মানলাম। খ. প্রশংসাবাচক আবেগ শব্দ: যেসব শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশ করে সেসব শব্দকে প্রশংসাবাচক আবেগ শব্দ বলে। যেমন: শাবাশ! চমৎকার রেজাল্ট করেছ। বাঃ! তোমার জামাটা কী সুন্দর। গ. বিরক্তিবাচক আবেগ শব্দ: অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব যেসব শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয় সেসব শব্দকে বিরক্তিবাচক আবেগ শব্দ বলে। যেমনঃ ছিঃ! এমন কাজটা তুমি করতে পারলে। কী অসহ্য! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব। ঘ. ভয় ও যন্ত্রণাবাচক আবেগ শব্দ: যেসব শব্দ দ্বারা আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ পায় সেসব শব্দকে বলা হয় ভয় ও যন্ত্রণাবাচক আবেগ শব্দ। যেমন: উঃ! কী যে যন্ত্রণা ও মা। কী অন্ধকার। ঙ. বিস্ময়বাচক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার মনোভাব প্রকাশ করে। যেমন: আরে! তুমি তাহলে এসেই পড়েছ। তাই! ও ফিরে এসেছে। চ. করুণাবাচক আবেগ শব্দ: যেসব শব্দ দ্বারা করুণা বা সহানুভূতিমূলক মনোভাব প্রকাশ পায় সেসব শব্দকে বলা হয় করুণাবাচক আবেগ শব্দ। যেমন: আহা! ছেলেটার মা-বাবা কেউ নেই। হায় হায়! এখন সে যাবে কোথায়। ছ. সম্বোধনবাচক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন: হে মহান, তোমাকে অভিবাদন। ওরে! যাস্ নে। জ. আলংকারিক আবেগ শব্দ: যেসব আবেগ শব্দ বাক্যের অর্থের কোনোরকম পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্য অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেসব শব্দকে বলা হয় আলংকারিক আবেগ শব্দ। যেমন: মা গো মা! এমন রসিকতাও কেউ করে। দূর পাগল! এসব নিয়ে অত ভাবতে নেই।
HSC Bangla 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সৃজনশীল
আবেগ কাকে বলে? আবেগ শব্দের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর