উদাহরণসহ বিশেষণ পদের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা করো।
উত্তর: যে শব্দ অন্য শব্দকে বিশদ বা সীমিত আকারে বিশেষিত করে তাকে বিশেষণ বলে। প্রধানত তিনটি মানদণ্ডের উপর নির্ভর করে বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। ক. তথ্যনির্ভর: একটি বিশেষণ যে শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে সে অনুযায়ী বিশেষণের এই শ্রেণিকরণ করা হয়। শব্দশ্রেণিকে বিশেষিত করার উপর নির্ভর করে বিশেষণকে প্রাথমিকভাবে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যথা: i. নাম বিশেষণ: যে বিশেষণ বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে তাকে নাম বিশেষণ বলে। যেমন: তিনি অভিজ্ঞ মিস্ত্রি। দুষ্টু, তোকে দিয়ে কাজ হবে না। ii. ভাববিশেষণ: যে বিশেষণ কোনো বিশেষণ পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাববিশেষণ বলা হয়। যেমন: খুব ভালো খবর, অতি অল্প খাবার। খ. ব্যুৎপত্তিনির্ভর: বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে বিশেষণকে সাধারণত দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা: i. সিদ্ধ বিশেষণ: যে বিশেষণকে ব্যাকরণগতভাবে অন্য কোনো ক্ষুদ্র অংশে রূপান্তর বা বিভক্ত করা যায় না তাকে সিদ্ধ বিশেষণ বলে। সিদ্ধ বিশেষণ শব্দগুলো ব্যাকরণগতভাবে অবিভাজ্য। যেমন: ভালো, খারাপ, উঁচু, লাল, মিষ্টি ইত্যাদি। ii. সাধিত বিশেষণ: যে বিশেষণকে ব্যাকরণগতভাবে এক বা একাধিক ক্ষুদ্রতর অংশে রূপান্তর বা বিভক্ত করা যায় তাকে সাধিত বিশেষণ বলে। সাধিত বিশেষণ ব্যাকরণগতভাবে বিভাজ্য। যেমন: ই- প্রত্যয়যোগে: বাঙালি, দরকারি, জরুরি। বিশেষত্বের দ্বিত্ব: হাসি হাসি মুখ, ছাই ছাই রং। গ. অন্বয় নির্ভর: বাক্যে অবস্থান অনুযায়ী অর্থাৎ অন্য শব্দের সাথে অন্বয় বা সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষণকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: i. সাক্ষাৎ বিশেষণ: যে বিশেষণ বিশেষিত শব্দের আগে বসে তাকে সাক্ষাৎ বিশেষণ বলে। যেমন: হলুদ পাখি, ঘোলা পানি, জ্বলন্ত মশাল। ii. বিধেয় বিশেষণ: যে বিশেষণ বাক্যের বিধেয় অংশে বসে তাকে বিধেয় বিশেষণ বলে। যেমন: ছেলেটি শান্ত, এ পুকুরের পানি স্বচ্ছ।
HSC Bangla 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সৃজনশীল
উদাহরণসহ বিশেষণ পদের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা করো।
উত্তর