সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার জানিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী করে একটি প্রতিবেদন লেখো।
উত্তর: বাংলাদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা জেলা প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ, ২০ জুলাই ২০২৬। সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থাকি। প্রতিটি দুর্ঘটনাই আমাদের কষ্ট দেয়। মর্মান্তিক এসব দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের ও পেশার মানুষ। এসব দুর্ঘটনার ফলে আমরা হারাচ্ছি আমাদের প্রিয়জন, কাছের মানুষ, আপনজন, মেধাবী বন্ধু। বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, রাস্তায় বেরোলেই সকলের মনে একটা ভীতি কাজ করে। অনেকে এটাও ভেবে থাকেন, বাসা থেকে বের হয়েছেন, সুস্থভাবে ফিরতে পারবেন কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এত কিছুর পরও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই বললেই চলে। তাছাড়া দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থাও নেই বলেই মনে হয়। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৭২৯৪ জন। একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় অহতের সংখ্যা বেড়েছে ৫.৩৬ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩৫.৬৭% ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ২১.৬৬% আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ৩৫.৮১% ফিডার রোডে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুয়ায়ী কেবল রাজধানী ঢাকাতেই ২০২৪ সালে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে ২৪৬ জন এবং আহত হয়েছে ৪৮২ জন। নিহতদের মধ্যে ৫১.৬২% পথচারী, ৩৯% মোটর সাইকেলের চালক ও আরোহী, ৯.৩৪% বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদির চালক ও আরোহী। সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সজাগ দৃষ্টি রাখলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমানো সম্ভব। 'নিরাপদ সড়ক চাই' নামে একটি সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে দীর্ঘদিন যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। নিরাপদ সড়কের দাবিসংশ্লিষ্ট আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচিতে সচেতন মহলের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এসব দাবির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। আমরা অকালে আমাদের প্রিয়জন ও কাছের মানুষদের হারাতে চাই না। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর পিছনে প্রধানত দায়ী-চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো। ত্রুটিযুক্ত যানবাহন রাস্তায় নামানো। যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই গাড়ি চালানো। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা। জনপথে অতিরিক্ত বাঁক ও গতিরোধক। প্রশিক্ষণহীন অদক্ষ চালক। দুর্ঘটনারোধে যেসব প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে-চালকদের যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া। উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাড়া অন্য কাউকে লাইসেন্স প্রদান না করা। রাস্তার প্রশস্ততা বৃদ্ধি এবং প্রতিনিয়ত সংস্কারের দিকে নজর রাখা। রাস্তা চলাচলের সময় পথচারীদের এবং গাড়ি চালনার সময় ড্রাইভারের অন্যমনস্ক 'না হওয়া। গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে সকলকে প্রতিনিয়ত সচেতন করা। প্রতিটি দুর্ঘটনার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তির দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা।
HSC Bangla 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সৃজনশীল
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার জানিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী করে একটি প্রতিবেদন লেখো।
উত্তর