শিক্ষা জীবনে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব বর্ণনা দিয়ে তোমার প্রিয় ছোট ভাই/বোনের নিকট একটি পত্র লেখো।
উত্তর: কুষ্টিয়া ১০ মে ২০২৬ প্রিয় রাসেল আমার স্নেহ ও ভালোবাসা নিয়ো। আশা করি কলেজের নতুন পরিবেশে তুমি বেশ মানিয়ে নিয়েছ। গতকাল বাবার কাছে শুনলাম, তুমি নাকি সারাদিন শুধু বইয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাকো; খেলাধুলা বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে একদমই অংশ নাও না। তোমার এই একঘেয়েমি পড়াশোনা নিয়ে আমি কিছুটা চিন্তিত, তাই আজ তোমাকে 'সহশিক্ষা কার্যক্রমের' গুরুত্ব নিয়ে কিছু কথা জানাতেই লিখছি। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়টি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, এটা সত্যি। কিন্তু কেবল পাঠ্যবইয়ের জিপিএ-৫ দিয়ে প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক। প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, বাগান করা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এসব কার্যক্রম মানসিক ক্লান্তি দূর করে এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে দলগত কাজে অংশ নিলে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে, যা তোমাকে ভবিষ্যতে হাজারো মানুষের সামনে কথা বলতে সাহায্য করবে। এছাড়া শরীরচর্চা বা খেলাধুলা কেবল শরীর ভালো রাখে না, এটি ধৈর্য এবং হার-জিত মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে। সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে তুমি সময়ের সঠিক ব্যবহার শিখতে পারবি। অতিভোজন যেমন স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ, কেবল 'পুথিগত বিদ্যা'ও তেমনই ব্যক্তিত্বের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সার্টিফিকেট হয়তো তোমাকে কর্মক্ষেত্রের দরজা পর্যন্ত নিয়ে যাবে, কিন্তু তোর সুপ্ত প্রতিভা ও দক্ষতাগুলোই তোকে সবার থেকে আলাদা করে তুলবে। আজ আর লিখব না। পড়ার টেবিলে যেমন সিরিয়াস থাকবি, তেমনই কলেজের বিভিন্ন ক্লাবেও যেন তোকে দেখা যায়- এটাই আমার প্রত্যাশা। নিজের শরীরের যত্ন নিয়ো আর ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করিস। আব্বু-আম্মুকে আমার সালাম জানিয়ো। ইতি তোমারই বড়ো ভাই হাসান [চিত্র]
HSC Bangla 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · সৃজনশীল
শিক্ষা জীবনে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব বর্ণনা দিয়ে তোমার প্রিয় ছোট ভাই/বোনের নিকট একটি পত্র লেখো।
উত্তর
