উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা-২ হলো জোয়ারভাটা। নিচে জোয়ারভাটার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দৈনিক দুইবার জোয়ারভাটার ফলে নদীর মধ্যে সঞ্চিত আবর্জনা ধুয়ে-মুছে সমুদ্র পতিত হয়।
২. জোয়ারভাটার ফলে নদীখাত গভীর হয়।
৩. বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যেমন: কর্ণফুলী নদীতে সৃষ্ট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
৪. জোয়ারের পানি সেচে সহায়তা করে। যেমন, অনেক সময় খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকিয়ে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয়।
৫. জোয়ারভাটার প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য ব্যবসায় কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। উপকূলে মাছের প্রাচুর্যহেতু শতশত লোক মৎস্য ও মৎস্যসংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত আছে।
৬. জোয়ারভাটার ফলে নৌযান চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হয়। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী বাংলাদেশের দুটি প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং অন্যান্য উপকূলীয় নদীবন্দর সচল রাখতে জোয়ারভাটার ভূমিকা রয়েছে।
জোয়ারভাটার উপকারিতার পাশাপাশি কিছু ক্ষতিকর প্রভাবও লক্ষণীয়। মাঝে মাঝে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে জোয়ারের সময় প্রায়ই বান ডাকে। ফলে নৌকা, লঞ্চ প্রভৃতি ডুবে যায় এবং নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় জানমালের ক্ষতি হয়।