SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল
উদ্দীপক
ষাট বছরের বৃদ্ধ মকবুলের সাথে বিয়ে হয় তেরো বছরের টুনির। ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ সবই মকবুল টুনির দ্বারা করায়। টুনির কর্মদক্ষতার জন্য মকবুলের চাচাতো ভাই মন্ত্র টুনির রূপে ও গুণে মুগ্ধ। টুনি মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে মঞ্জুর সাথে চলে যাওয়ার। কিন্তু সে যেতে পারে না।
[যশোর বোর্ড ২০১৫]
ক
বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে কারা খুশি হয়?
উত্তর
বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে বিজ্ঞরা খুশি হয়।
খ
নিমগাছটার লোকটার সাথে চলে যেতে ইচ্ছে করে কেন?
উত্তর
অনাদর ও অবহেলা থেকে মুক্তি পেতে কবির মতো একজন সৌন্দর্যপিয়াসী লোকের প্রশংসায় মুগ্ধ হয়ে নিমগাছটি তার সঙ্গে চলে যেতে চাইল।
'নিমগাছ' গল্পে সাধারণ অর্থে নিমগাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গাছ। এর ছাল, পাতা, ডাল নানাভাবে মানুষের রোগ উপশম করে। অথচ কেউ এই গাছের সামান্যতম যত্ন নেয় না। একজন কবি একদিন নিমগাছের রূপ ও গুণের প্রশংসা করেন। এই সৌন্দর্যপিয়াসী কবির প্রশংসায় নিমগাছটি মুগ্ধ হয় এবং তার সঙ্গে চলে যেতে চায়। লোকটির সঙ্গে নিমগাছটির চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণের মধ্য দিয়ে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা একজন গৃহবধূর নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের মুক্তির বাসনা প্রকাশ করেছেন।
গ
উদ্দীপকের মকবুল 'নিমগাছ' গল্পের কার প্রতিনিধি? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর
উদ্দীপকের মকবুল 'নিমগাছ' গল্পের উল্লিখিত বিজ্ঞজনদের প্রতিনিধি।
এ সংসারে নারী-পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে। অথচ নারীর অবদানের কথা, কর্মগুণের কথা পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় কেউ মনে রাখে না। তারা চায় নারীদের চিরদিন তাদের সেবাদাসী করে রাখতে। তাদের এই হীন মানসিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে আমাদের সমাজ আজ এতটা পিছিয়ে রয়েছে।
'নিমগাছ' গল্পে দেখা যায়, নিমগাছের রয়েছে নানা গুণ। এর ঔষধি গুণের কথা বিজ্ঞরা উপলব্ধি করেন। এজন্য বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে তারা খুশি হন। তাঁরা বলেন 'নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না।' উপকারটুকু গ্রহণ করলেও কেউ তার যত্ন করে না। এ যেন উদ্দীপকের মকবুলের মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। মকবুল স্ত্রী টুনিকে দিয়ে ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ সবই করায়। কিন্তু তাকে যতটা খাটায় ততটা মূল্যায়ন করে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মকবুল 'নিমগাছ' গল্পের বিজ্ঞজনদের প্রতিনিধি।
ঘ
"টুনি যেন 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউ"- তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
"টুনি যেন 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউ" – মন্তব্যটির সাথে আমি একমত।
সৃষ্টির আদি থেকে এই বিশ্বসভ্যতাকে পূর্ণতা দান করার ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও সমান অবদান রয়েছে। অথচ সেই নারীকে তার অবদানের স্বীকৃতি না দিয়ে করা হয়েছে অবহেলা।
উদ্দীপকে একজন অল্পবয়সী নারীর কথা বলা হয়েছে, যে বৃদ্ধ মকবুলের স্ত্রী। তাকে দিয়ে ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ পর্যন্ত করানো হয়। তবে সে যতটা পরিশ্রম করে, ততটা মূল্যায়ন পায় না। টুনি মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে তারই রূপ ও গুণমুগ্ধ মনুর সাথে সংসারের অমানবিক আবেষ্টনী ভেঙে কোথাও চলে যাওয়ার, অথচ যেতে পারে না। এই টুনি যেন 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের রূপকের আড়ালে বর্ণিত ওদের বাড়ির লক্ষ্মীবউটি।
'নিমগাছ' গল্পে প্রতীকী অর্থে নিমগাছকে ব্যবহার করেছেন গল্পকার। আসলে গৃহকর্মের নাগপাশে আবদ্ধ আমাদের সমাজের গৃহবধূদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি। এখানে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির অবদানের কথা উঠে এসেছে নিমগাছের রূপকের অন্তরালে। নিমগাছের ছাল, পাতা, ডাল মানুষের নানা উপকারে আসে কিন্তু কেউ তার যত্ন করে না। তেমনি 'নিমগাছ' গল্পের ওদের বাড়ির লক্ষ্মীবউটিও সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম করলেও সঠিক মূল্যায়ন পায় না। তার ইচ্ছে করে সংসারের বন্ধন ছিন্ন করে লোকটার সাথে বনে গিয়ে নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের ইতি টানতে। কিন্তু সংসারের জাল সে ছিন্ন করতে পারে না, যেমন পারেনি উদ্দীপকের টুনি। তাই উদ্দীপকের টুনি যেন গল্পের ওদের বাড়ির লক্ষ্মীবউটি। ফলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যের সাথে আমি একমত।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো