নিমগাছ বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর নিমগাছ অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৮২

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

ষাট বছরের বৃদ্ধ মকবুলের সাথে বিয়ে হয় তেরো বছরের টুনির। ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ সবই মকবুল টুনির দ্বারা করায়। টুনির কর্মদক্ষতার জন্য মকবুলের চাচাতো ভাই মন্ত্র টুনির রূপে ও গুণে মুগ্ধ। টুনি মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে মঞ্জুর সাথে চলে যাওয়ার। কিন্তু সে যেতে পারে না। [যশোর বোর্ড ২০১৫]
ক
বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে কারা খুশি হয়?

উত্তর

বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে বিজ্ঞরা খুশি হয়।
খ
নিমগাছটার লোকটার সাথে চলে যেতে ইচ্ছে করে কেন?

উত্তর

অনাদর ও অবহেলা থেকে মুক্তি পেতে কবির মতো একজন সৌন্দর্যপিয়াসী লোকের প্রশংসায় মুগ্ধ হয়ে নিমগাছটি তার সঙ্গে চলে যেতে চাইল। 'নিমগাছ' গল্পে সাধারণ অর্থে নিমগাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গাছ। এর ছাল, পাতা, ডাল নানাভাবে মানুষের রোগ উপশম করে। অথচ কেউ এই গাছের সামান্যতম যত্ন নেয় না। একজন কবি একদিন নিমগাছের রূপ ও গুণের প্রশংসা করেন। এই সৌন্দর্যপিয়াসী কবির প্রশংসায় নিমগাছটি মুগ্ধ হয় এবং তার সঙ্গে চলে যেতে চায়। লোকটির সঙ্গে নিমগাছটির চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণের মধ্য দিয়ে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা একজন গৃহবধূর নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের মুক্তির বাসনা প্রকাশ করেছেন।
গ
উদ্দীপকের মকবুল 'নিমগাছ' গল্পের কার প্রতিনিধি? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মকবুল 'নিমগাছ' গল্পের উল্লিখিত বিজ্ঞজনদের প্রতিনিধি। এ সংসারে নারী-পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে। অথচ নারীর অবদানের কথা, কর্মগুণের কথা পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় কেউ মনে রাখে না। তারা চায় নারীদের চিরদিন তাদের সেবাদাসী করে রাখতে। তাদের এই হীন মানসিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে আমাদের সমাজ আজ এতটা পিছিয়ে রয়েছে। 'নিমগাছ' গল্পে দেখা যায়, নিমগাছের রয়েছে নানা গুণ। এর ঔষধি গুণের কথা বিজ্ঞরা উপলব্ধি করেন। এজন্য বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে তারা খুশি হন। তাঁরা বলেন 'নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না।' উপকারটুকু গ্রহণ করলেও কেউ তার যত্ন করে না। এ যেন উদ্দীপকের মকবুলের মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। মকবুল স্ত্রী টুনিকে দিয়ে ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ সবই করায়। কিন্তু তাকে যতটা খাটায় ততটা মূল্যায়ন করে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মকবুল 'নিমগাছ' গল্পের বিজ্ঞজনদের প্রতিনিধি।
ঘ
"টুনি যেন 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউ"- তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

"টুনি যেন 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউ" – মন্তব্যটির সাথে আমি একমত। সৃষ্টির আদি থেকে এই বিশ্বসভ্যতাকে পূর্ণতা দান করার ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও সমান অবদান রয়েছে। অথচ সেই নারীকে তার অবদানের স্বীকৃতি না দিয়ে করা হয়েছে অবহেলা। উদ্দীপকে একজন অল্পবয়সী নারীর কথা বলা হয়েছে, যে বৃদ্ধ মকবুলের স্ত্রী। তাকে দিয়ে ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ পর্যন্ত করানো হয়। তবে সে যতটা পরিশ্রম করে, ততটা মূল্যায়ন পায় না। টুনি মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে তারই রূপ ও গুণমুগ্ধ মনুর সাথে সংসারের অমানবিক আবেষ্টনী ভেঙে কোথাও চলে যাওয়ার, অথচ যেতে পারে না। এই টুনি যেন 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের রূপকের আড়ালে বর্ণিত ওদের বাড়ির লক্ষ্মীবউটি। 'নিমগাছ' গল্পে প্রতীকী অর্থে নিমগাছকে ব্যবহার করেছেন গল্পকার। আসলে গৃহকর্মের নাগপাশে আবদ্ধ আমাদের সমাজের গৃহবধূদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি। এখানে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির অবদানের কথা উঠে এসেছে নিমগাছের রূপকের অন্তরালে। নিমগাছের ছাল, পাতা, ডাল মানুষের নানা উপকারে আসে কিন্তু কেউ তার যত্ন করে না। তেমনি 'নিমগাছ' গল্পের ওদের বাড়ির লক্ষ্মীবউটিও সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম করলেও সঠিক মূল্যায়ন পায় না। তার ইচ্ছে করে সংসারের বন্ধন ছিন্ন করে লোকটার সাথে বনে গিয়ে নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের ইতি টানতে। কিন্তু সংসারের জাল সে ছিন্ন করতে পারে না, যেমন পারেনি উদ্দীপকের টুনি। তাই উদ্দীপকের টুনি যেন গল্পের ওদের বাড়ির লক্ষ্মীবউটি। ফলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যের সাথে আমি একমত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

ষাট বছরের বৃদ্ধ মকবুলের সাথে বিয়ে হয় তেরো বছরের টুনির। ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ সবই মকবুল টুনির দ্বারা করায়। টুনির কর্মদক্ষতার জন্য মকবুলের চাচাতো ভাই মন্ত্র টুনির রূপে ও গুণে মুগ্ধ। টুনি মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে মঞ্জুর সাথে চলে যাওয়ার। কিন্তু সে যেতে পারে না। [যশোর বোর্ড ২০১৫]
ক
বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে কারা খুশি হয়?

উত্তর

বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে বিজ্ঞরা খুশি হয়।
খ
নিমগাছটার লোকটার সাথে চলে যেতে ইচ্ছে করে কেন?

উত্তর

অনাদর ও অবহেলা থেকে মুক্তি পেতে কবির মতো একজন সৌন্দর্যপিয়াসী লোকের প্রশংসায় মুগ্ধ হয়ে নিমগাছটি তার সঙ্গে চলে যেতে চাইল। 'নিমগাছ' গল্পে সাধারণ অর্থে নিমগাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গাছ। এর ছাল, পাতা, ডাল নানাভাবে মানুষের রোগ উপশম করে। অথচ কেউ এই গাছের সামান্যতম যত্ন নেয় না। একজন কবি একদিন নিমগাছের রূপ ও গুণের প্রশংসা করেন। এই সৌন্দর্যপিয়াসী কবির প্রশংসায় নিমগাছটি মুগ্ধ হয় এবং তার সঙ্গে চলে যেতে চায়। লোকটির সঙ্গে নিমগাছটির চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণের মধ্য দিয়ে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা একজন গৃহবধূর নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের মুক্তির বাসনা প্রকাশ করেছেন।
গ
উদ্দীপকের মকবুল 'নিমগাছ' গল্পের কার প্রতিনিধি? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মকবুল 'নিমগাছ' গল্পের উল্লিখিত বিজ্ঞজনদের প্রতিনিধি। এ সংসারে নারী-পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে। অথচ নারীর অবদানের কথা, কর্মগুণের কথা পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় কেউ মনে রাখে না। তারা চায় নারীদের চিরদিন তাদের সেবাদাসী করে রাখতে। তাদের এই হীন মানসিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে আমাদের সমাজ আজ এতটা পিছিয়ে রয়েছে। 'নিমগাছ' গল্পে দেখা যায়, নিমগাছের রয়েছে নানা গুণ। এর ঔষধি গুণের কথা বিজ্ঞরা উপলব্ধি করেন। এজন্য বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে তারা খুশি হন। তাঁরা বলেন 'নিমের হাওয়া ভালো, থাক, কেটো না।' উপকারটুকু গ্রহণ করলেও কেউ তার যত্ন করে না। এ যেন উদ্দীপকের মকবুলের মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। মকবুল স্ত্রী টুনিকে দিয়ে ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ সবই করায়। কিন্তু তাকে যতটা খাটায় ততটা মূল্যায়ন করে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মকবুল 'নিমগাছ' গল্পের বিজ্ঞজনদের প্রতিনিধি।
ঘ
"টুনি যেন 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউ"- তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

"টুনি যেন 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মীবউ" – মন্তব্যটির সাথে আমি একমত। সৃষ্টির আদি থেকে এই বিশ্বসভ্যতাকে পূর্ণতা দান করার ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও সমান অবদান রয়েছে। অথচ সেই নারীকে তার অবদানের স্বীকৃতি না দিয়ে করা হয়েছে অবহেলা। উদ্দীপকে একজন অল্পবয়সী নারীর কথা বলা হয়েছে, যে বৃদ্ধ মকবুলের স্ত্রী। তাকে দিয়ে ধানভানা থেকে শুরু করে জমির কাজ পর্যন্ত করানো হয়। তবে সে যতটা পরিশ্রম করে, ততটা মূল্যায়ন পায় না। টুনি মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে তারই রূপ ও গুণমুগ্ধ মনুর সাথে সংসারের অমানবিক আবেষ্টনী ভেঙে কোথাও চলে যাওয়ার, অথচ যেতে পারে না। এই টুনি যেন 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের রূপকের আড়ালে বর্ণিত ওদের বাড়ির লক্ষ্মীবউটি। 'নিমগাছ' গল্পে প্রতীকী অর্থে নিমগাছকে ব্যবহার করেছেন গল্পকার। আসলে গৃহকর্মের নাগপাশে আবদ্ধ আমাদের সমাজের গৃহবধূদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি। এখানে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির অবদানের কথা উঠে এসেছে নিমগাছের রূপকের অন্তরালে। নিমগাছের ছাল, পাতা, ডাল মানুষের নানা উপকারে আসে কিন্তু কেউ তার যত্ন করে না। তেমনি 'নিমগাছ' গল্পের ওদের বাড়ির লক্ষ্মীবউটিও সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম করলেও সঠিক মূল্যায়ন পায় না। তার ইচ্ছে করে সংসারের বন্ধন ছিন্ন করে লোকটার সাথে বনে গিয়ে নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের ইতি টানতে। কিন্তু সংসারের জাল সে ছিন্ন করতে পারে না, যেমন পারেনি উদ্দীপকের টুনি। তাই উদ্দীপকের টুনি যেন গল্পের ওদের বাড়ির লক্ষ্মীবউটি। ফলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যের সাথে আমি একমত।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

(i) একটি ভাঙ্গা কুলার আত্মকথন: "আজ সমাদর না থাকলেও একদিন আমার কদর ছিল। সকলে আমাকে দিয়ে নানান কাজ করত। চাল পরিষ্কার, ধান থেকে চিটাগুলোকে আলাদা করা, আরও কত কী! কিন্তু এখন আমি বুড়ো হয়েছি। আজ চুলোর পাশে অনাদরে পড়ে আছি।” (ii) 'গাইবান্ধার নাকাইহাট এলাকায় শওকত আলী নামের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বিলুপ্ত ও দুর্লভ প্রজাতির প্রায় এক হাজার ঔষধি ও ফলদ গাছের বাগান। সেই সঙ্গে বিলুপ্তপ্রায় ও দুর্লভ গাছের প্রজাতি ধরে রাখতে গাছের চারা দিচ্ছেন বিনামূল্যে।

Barisal · 2020

ক
'নিমগাছ' গল্পের ম্যাজিক বাক্যটি কী?

উত্তর

'নিমগাছ' গল্পের ম্যাজিক বাক্যটি হলো- ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার ঠিক এক দশা।
খ
নিমগাছটা লোকটার সঙ্গে চলে যেতে পারে না কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূর চলে গেছে বলে নিমগাছটি লোকটির সঙ্গে চলে যেতে পারে না। 'নিমগাছ' গল্পে একদিন নতুন ধরনের এক লোক এসে মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে নিমগাছের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়, সুন্দর পাতাগুলোর প্রশংসা করে। সে থোকা থোকা ফুলের বাহারকে নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করে। লোকটি নিমগাছের ছাল না তুলে, পাতা না ছিঁড়ে, ডাল না ভেঙে মুগ্ধ দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়ে থাকে। নিমগাছটার ঐ লোকটির সাথে চলে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তার শিকড় মাটির ভিতরে অনেক দূর চলে যাওয়ায় সে যেতে পারে না।
গ
উদ্দীপক (ii) এর সাথে 'নিমগাছ' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপক (ii)-এর সাথে 'নিমগাছ' গল্পের ঔষধি বৃক্ষের গুরুত্বের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। বৃক্ষ মানুষের নিঃস্বার্থ উপকারী বন্ধু। জগতে বৃক্ষের দান অপরিসীম। ফুল, ফল, ছায়া, সৌন্দর্য এবং ঔষধের নানা রকম উপাদান দিয়ে বৃক্ষ আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। অথচ আমরা বৃক্ষের অবদানকে স্বীকার করি না। উদ্দীপক (ii)-এ গাইবান্ধার নাকাইহাট এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শওকত আলীর ঔষধি বৃক্ষের প্রতি অনুরাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি তার বাড়িতে বিলুপ্ত ও দুর্লভ প্রজাতির ঔষধি বৃক্ষের বাগান গড়ে তুলেছেন। বৃক্ষের অবদানের দিক বিবেচনা করে তিনি তার বাগান থেকে মানুষকে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করেন। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'নিমগাছ' গল্পের ঔষধি বৃক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'নিমগাছ' গল্পেও নিমগাছের ঔষধি গুণের কথা বলা হয়েছে। ঔষধি গুণসম্পন্ন বলে কেউ এই গাছ কাটে না। এটির উপকারের দিক চিন্তা করে কেউ আবার শান দিয়ে গোড়া বাঁধিয়ে দেয়। কবিরাজ নিমগাছের বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসা করেন। উদ্দীপকের শওকত আলীও বৃক্ষের উপকারী দিক বিবেচনা করে বাগান গড়ে তুলেছেন। এভাবে উদ্দীপক (ii)-এর সাথে 'নিমগাছ' গল্পের ঔষধি বৃক্ষের গুরুত্বের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘ
"উদ্দীপক (i) এর আত্মকথনই যেন নিমগাছ গল্পের মূল সুর”- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রতিপন্ন কর।

উত্তর

উদ্দীপক (i)-এর ভাঙা কুলার আত্মকথনই যেন 'নিমগাছ গল্পের মূল সুর। মন্তব্যটি যথার্থ। গাছপালা জীবের জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছপালা থেকে জীবন বাঁচানোর ওষুধ এবং জীবন সাজানোর আসবাব ও প্রসাধনী পাওয়া যায়। উদ্দীপক (i)-এ একটি কুলার আত্মকথা তুলে ধরা হয়েছে। আজ কুলাটির কদর না থাকলেও একসময় ছিল। সকলে তাকে দিয়ে নানা কাজ করাত। চাল পরিষ্কার, ধান থেকে চিটা আলাদা করা প্রভৃতি কাজে ব্যবহৃত হতো। এখন পুরনো হয়েছে বলে তা চুলার পাশে অনাদরে পড়ে আছে। 'নিমগাছ' গল্পেও নিমগাছের নানা গুণের কথা উল্লেখ আছে। কবিরাজ ঔষধি গুণের জন্য এ গাছের গুরুত্ব অনুধাবন করে। একজন কবি গাছটির প্রয়োজনের দিক না দেখে গাছটির পাতা, ফুল তথা সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন। নিমগাছরূপী গৃহকর্ম-নিপুণা বধূটিরও একই অবস্থা। সবার তৃপ্তির জন্য সে সংসারের সব কাজ করে যায়। উদ্দীপকে ভাঙা কুলা ও 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছরূপী গৃহবধূ একই অবস্থার শিকার। তারা উভয়েই অন্যের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে। বিনিময়ে তারা কিছুই পায় না। এমনকি তারা মুক্তির আনন্দ থেকেও বঞ্চিত। এভাবে তারা একসূত্রে গাঁথা।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

(i) একটি ভাঙ্গা কুলার আত্মকথন: "আজ সমাদর না থাকলেও একদিন আমার কদর ছিল। সকলে আমাকে দিয়ে নানান কাজ করত। চাল পরিষ্কার, ধান থেকে চিটাগুলোকে আলাদা করা, আরও কত কী! কিন্তু এখন আমি বুড়ো হয়েছি। আজ চুলোর পাশে অনাদরে পড়ে আছি।” (ii) 'গাইবান্ধার নাকাইহাট এলাকায় শওকত আলী নামের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বিলুপ্ত ও দুর্লভ প্রজাতির প্রায় এক হাজার ঔষধি ও ফলদ গাছের বাগান। সেই সঙ্গে বিলুপ্তপ্রায় ও দুর্লভ গাছের প্রজাতি ধরে রাখতে গাছের চারা দিচ্ছেন বিনামূল্যে।

Barisal · 2020

ক
'নিমগাছ' গল্পের ম্যাজিক বাক্যটি কী?

উত্তর

'নিমগাছ' গল্পের ম্যাজিক বাক্যটি হলো- ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার ঠিক এক দশা।
খ
নিমগাছটা লোকটার সঙ্গে চলে যেতে পারে না কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূর চলে গেছে বলে নিমগাছটি লোকটির সঙ্গে চলে যেতে পারে না। 'নিমগাছ' গল্পে একদিন নতুন ধরনের এক লোক এসে মুগ্ধ দৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে নিমগাছের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়, সুন্দর পাতাগুলোর প্রশংসা করে। সে থোকা থোকা ফুলের বাহারকে নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করে। লোকটি নিমগাছের ছাল না তুলে, পাতা না ছিঁড়ে, ডাল না ভেঙে মুগ্ধ দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়ে থাকে। নিমগাছটার ঐ লোকটির সাথে চলে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তার শিকড় মাটির ভিতরে অনেক দূর চলে যাওয়ায় সে যেতে পারে না।
গ
উদ্দীপক (ii) এর সাথে 'নিমগাছ' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপক (ii)-এর সাথে 'নিমগাছ' গল্পের ঔষধি বৃক্ষের গুরুত্বের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। বৃক্ষ মানুষের নিঃস্বার্থ উপকারী বন্ধু। জগতে বৃক্ষের দান অপরিসীম। ফুল, ফল, ছায়া, সৌন্দর্য এবং ঔষধের নানা রকম উপাদান দিয়ে বৃক্ষ আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। অথচ আমরা বৃক্ষের অবদানকে স্বীকার করি না। উদ্দীপক (ii)-এ গাইবান্ধার নাকাইহাট এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শওকত আলীর ঔষধি বৃক্ষের প্রতি অনুরাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি তার বাড়িতে বিলুপ্ত ও দুর্লভ প্রজাতির ঔষধি বৃক্ষের বাগান গড়ে তুলেছেন। বৃক্ষের অবদানের দিক বিবেচনা করে তিনি তার বাগান থেকে মানুষকে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করেন। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'নিমগাছ' গল্পের ঔষধি বৃক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'নিমগাছ' গল্পেও নিমগাছের ঔষধি গুণের কথা বলা হয়েছে। ঔষধি গুণসম্পন্ন বলে কেউ এই গাছ কাটে না। এটির উপকারের দিক চিন্তা করে কেউ আবার শান দিয়ে গোড়া বাঁধিয়ে দেয়। কবিরাজ নিমগাছের বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসা করেন। উদ্দীপকের শওকত আলীও বৃক্ষের উপকারী দিক বিবেচনা করে বাগান গড়ে তুলেছেন। এভাবে উদ্দীপক (ii)-এর সাথে 'নিমগাছ' গল্পের ঔষধি বৃক্ষের গুরুত্বের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘ
"উদ্দীপক (i) এর আত্মকথনই যেন নিমগাছ গল্পের মূল সুর”- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রতিপন্ন কর।

উত্তর

উদ্দীপক (i)-এর ভাঙা কুলার আত্মকথনই যেন 'নিমগাছ গল্পের মূল সুর। মন্তব্যটি যথার্থ। গাছপালা জীবের জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছপালা থেকে জীবন বাঁচানোর ওষুধ এবং জীবন সাজানোর আসবাব ও প্রসাধনী পাওয়া যায়। উদ্দীপক (i)-এ একটি কুলার আত্মকথা তুলে ধরা হয়েছে। আজ কুলাটির কদর না থাকলেও একসময় ছিল। সকলে তাকে দিয়ে নানা কাজ করাত। চাল পরিষ্কার, ধান থেকে চিটা আলাদা করা প্রভৃতি কাজে ব্যবহৃত হতো। এখন পুরনো হয়েছে বলে তা চুলার পাশে অনাদরে পড়ে আছে। 'নিমগাছ' গল্পেও নিমগাছের নানা গুণের কথা উল্লেখ আছে। কবিরাজ ঔষধি গুণের জন্য এ গাছের গুরুত্ব অনুধাবন করে। একজন কবি গাছটির প্রয়োজনের দিক না দেখে গাছটির পাতা, ফুল তথা সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন। নিমগাছরূপী গৃহকর্ম-নিপুণা বধূটিরও একই অবস্থা। সবার তৃপ্তির জন্য সে সংসারের সব কাজ করে যায়। উদ্দীপকে ভাঙা কুলা ও 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছরূপী গৃহবধূ একই অবস্থার শিকার। তারা উভয়েই অন্যের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে। বিনিময়ে তারা কিছুই পায় না। এমনকি তারা মুক্তির আনন্দ থেকেও বঞ্চিত। এভাবে তারা একসূত্রে গাঁথা।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

(i) “তরুতলে বসি পান্থ শ্রান্তি করে দূর ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর। বিদায়ের কালে হাতে ডাল ভেঙ্গে লয়, তরু তবু অকাতর, কিছু নাহি কয়। (ii) নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল, তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল, গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান, স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত, শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।

Sylhet · 2020

ক
কবিরাজ কে?

উত্তর

যিনি গাছগাছালি পরিশোধন করে মনুষ্যরোগের চিকিৎসা করেন তিনি হলেন কবিরাজ।
খ
নিমগাছটির কেন কবির সাথে চলে যেতে ইচ্ছে করল?

উত্তর

অনাদর ও অবহেলা থেকে মুক্তি পেতে কবির মতো একজন সৌন্দর্যপিয়াসী লোকের প্রশংসায় মুগ্ধ হয়ে নিমগাছটি তার সঙ্গে চলে যেতে চাইল। 'নিমগাছ' গল্পে সাধারণ অর্থে নিমগাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গাছ। এর ছাল, পাতা, ডাল নানাভাবে মানুষের রোগ উপশম করে। অথচ কেউ এই গাছের সামান্যতম যত্ন নেয় না। একজন কবি একদিন নিমগাছের রূপ ও গুণের প্রশংসা করেন। এই সৌন্দর্যপিয়াসী কবির প্রশংসায় নিমগাছটি মুগ্ধ হয় এবং তার সঙ্গে চলে যেতে চায়। লোকটির সঙ্গে নিমগাছটির চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণের মধ্য দিয়ে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা একজন গৃহবধূর নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের মুক্তির বাসনা প্রকাশ করেছেন।
গ
উদ্দীপক (i) এর সাথে 'নিমগাছ' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

(i) নং উদ্দীপকের সাথে 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের প্রতি অবহেলা এবং নিমগাছের নিঃস্বার্থ অবদানের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে। গাছ আমাদের প্রকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ। গাছের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। এছাড়াও গাছ আমাদের মানবদেহেরও অনেক উপকার করে। তাই গাছের নিধন আমাদের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। (i) নং উদ্দীপকে গাছের প্রতি মানুষের অবহেলা এবং মানুষের প্রতি গাছের নিঃস্বার্থ অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকের গাছের ছায়ায় বসে পথিক ক্লান্তি দূর করে, ফল খেয়ে তৃপ্তও হয়। আবার যাওয়ার সময় গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে যায়, গাছের কথা ভাবে না। অপরদিকে গাছও নীরবে সব সহ্য করে। 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের নানান গুণের কথা বলা হয়েছে। নিমগাছ বাড়ির পেছনে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন, কারণ এর অনেক গুণ রয়েছে। আবার অনেকে বলে নিমের হাওয়াও অনেক উপকারী। অথচ কেউ গাছটির যত্ন নেয় না। অবহেলায়-অনাদরে বেড়ে উঠতে থাকে নিমগাছ। যার যেভাবে উপকার নেওয়া দরকার সে নেয়, বিনিময়ে গাছের যত্ন কেউ করে না। এভাবে (i) নং উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের প্রতি অবহেলার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
উদ্দীপক (ii) 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে তুলে ধরেছে কি? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

না, উদ্দীপক (ii) 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে তুলে ধরেনি। সাধারণভাবে আমাদের সমাজের নারীরা আমাদের পরিবারকে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দান করে। উদ্দীপক (ii)-এ নদী, বৃক্ষ, গাভী, কাঠ, স্বর্ণ, বর্শী, মেঘ ও সাধুর কথা বলা হয়েছে, যারা অন্যের জন্য সদা নিবেদিত। কবিতাংশটির মধ্য দিয়ে মূলত প্রকাশ পেয়েছে যে, পরের জন্য জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই মানবজীবনের চরম ও পরম সার্থকতা। মহৎ ব্যক্তিরা পরের জন্যই জীবন উৎসর্গ করেন। যেমন করে 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মী বধূটি তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করে সংসারের সবার জন্য। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য গল্পে গৃহবধূটির অবহেলার শিকার হওয়া এবং নিমগাছের সৌন্দর্যে কবির মুগ্ধ হওয়ার বিষয়ও প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপক (ii) ও আলোচ্য গল্প উভয় জায়গায় পরার্থপরতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের রূপকে লেখক গৃহবধূর সৌন্দর্য, তার সংসারে উপেক্ষিত হওয়ার দিকটিও তুলে ধরেছেন, যা উদ্দীপক (ii)-এ প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক (ii) আলোচ্য গল্পের সমগ্র ভাব তুলে ধরেনি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

(i) “তরুতলে বসি পান্থ শ্রান্তি করে দূর ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর। বিদায়ের কালে হাতে ডাল ভেঙ্গে লয়, তরু তবু অকাতর, কিছু নাহি কয়। (ii) নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল, তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল, গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান, স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত, শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।

Sylhet · 2020

ক
কবিরাজ কে?

উত্তর

যিনি গাছগাছালি পরিশোধন করে মনুষ্যরোগের চিকিৎসা করেন তিনি হলেন কবিরাজ।
খ
নিমগাছটির কেন কবির সাথে চলে যেতে ইচ্ছে করল?

উত্তর

অনাদর ও অবহেলা থেকে মুক্তি পেতে কবির মতো একজন সৌন্দর্যপিয়াসী লোকের প্রশংসায় মুগ্ধ হয়ে নিমগাছটি তার সঙ্গে চলে যেতে চাইল। 'নিমগাছ' গল্পে সাধারণ অর্থে নিমগাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গাছ। এর ছাল, পাতা, ডাল নানাভাবে মানুষের রোগ উপশম করে। অথচ কেউ এই গাছের সামান্যতম যত্ন নেয় না। একজন কবি একদিন নিমগাছের রূপ ও গুণের প্রশংসা করেন। এই সৌন্দর্যপিয়াসী কবির প্রশংসায় নিমগাছটি মুগ্ধ হয় এবং তার সঙ্গে চলে যেতে চায়। লোকটির সঙ্গে নিমগাছটির চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণের মধ্য দিয়ে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা একজন গৃহবধূর নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের মুক্তির বাসনা প্রকাশ করেছেন।
গ
উদ্দীপক (i) এর সাথে 'নিমগাছ' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

(i) নং উদ্দীপকের সাথে 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের প্রতি অবহেলা এবং নিমগাছের নিঃস্বার্থ অবদানের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে। গাছ আমাদের প্রকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ। গাছের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। এছাড়াও গাছ আমাদের মানবদেহেরও অনেক উপকার করে। তাই গাছের নিধন আমাদের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। (i) নং উদ্দীপকে গাছের প্রতি মানুষের অবহেলা এবং মানুষের প্রতি গাছের নিঃস্বার্থ অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকের গাছের ছায়ায় বসে পথিক ক্লান্তি দূর করে, ফল খেয়ে তৃপ্তও হয়। আবার যাওয়ার সময় গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে যায়, গাছের কথা ভাবে না। অপরদিকে গাছও নীরবে সব সহ্য করে। 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের নানান গুণের কথা বলা হয়েছে। নিমগাছ বাড়ির পেছনে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন, কারণ এর অনেক গুণ রয়েছে। আবার অনেকে বলে নিমের হাওয়াও অনেক উপকারী। অথচ কেউ গাছটির যত্ন নেয় না। অবহেলায়-অনাদরে বেড়ে উঠতে থাকে নিমগাছ। যার যেভাবে উপকার নেওয়া দরকার সে নেয়, বিনিময়ে গাছের যত্ন কেউ করে না। এভাবে (i) নং উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের প্রতি অবহেলার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
উদ্দীপক (ii) 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে তুলে ধরেছে কি? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

না, উদ্দীপক (ii) 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাবকে তুলে ধরেনি। সাধারণভাবে আমাদের সমাজের নারীরা আমাদের পরিবারকে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দান করে। উদ্দীপক (ii)-এ নদী, বৃক্ষ, গাভী, কাঠ, স্বর্ণ, বর্শী, মেঘ ও সাধুর কথা বলা হয়েছে, যারা অন্যের জন্য সদা নিবেদিত। কবিতাংশটির মধ্য দিয়ে মূলত প্রকাশ পেয়েছে যে, পরের জন্য জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই মানবজীবনের চরম ও পরম সার্থকতা। মহৎ ব্যক্তিরা পরের জন্যই জীবন উৎসর্গ করেন। যেমন করে 'নিমগাছ' গল্পের লক্ষ্মী বধূটি তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করে সংসারের সবার জন্য। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য গল্পে গৃহবধূটির অবহেলার শিকার হওয়া এবং নিমগাছের সৌন্দর্যে কবির মুগ্ধ হওয়ার বিষয়ও প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপক (ii) ও আলোচ্য গল্প উভয় জায়গায় পরার্থপরতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের রূপকে লেখক গৃহবধূর সৌন্দর্য, তার সংসারে উপেক্ষিত হওয়ার দিকটিও তুলে ধরেছেন, যা উদ্দীপক (ii)-এ প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপক (ii) আলোচ্য গল্পের সমগ্র ভাব তুলে ধরেনি।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো