সুভা বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর সুভা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

২৬২

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাহেলা জন্মান্ধ। তবে মা-বাবার পরম যত্ন, সহযোগিতা এবং নিজের চেষ্টায় আজ সে সমাজে সম্মানের সাথে প্রতিষ্ঠিত। স্বাবলম্বী হয়ে সে প্রমাণ করেছে যে, প্রতিবন্ধীরা সমাজ ও পরিবারের বোঝা নয়। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে তারাও দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
ক
সুভার পিতার নাম কী?

উত্তর

সুভার পিতার নাম বাণীকণ্ঠ।
খ
প্রতাপের প্রতি মা-বাবার নিরাশ হওয়ার কারণ বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর

প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য ছিল বলে বাবা-মা তার প্রতি নিরাশ হয়েছিলেন। 'সুভা' গল্পে বাবা-মায়ের নিতান্ত অকর্মণ্য ছেলে প্রতাপ। অনেক চেষ্টা করেও তাকে দিয়ে সংসারের উন্নতি হয় এমন কোনো কাজ করানো যায় না। এ কারণে মা-বাবা তাকে নিয়ে তাদের প্রত্যাশা বাদ দিয়েছিলেন। ফলে সে অবহেলায় সময় কাটানোর জন্য অপরাহ্ণে নদীতীরে ছিপ ফেলে মাছ ধরত। এভাবে মাছ ধরার বাহানায় অনেকটা সময় কাটানো যায়। প্রকৃতপক্ষে প্রতাপ ছিল প্রচণ্ড অলস। সে কোনো কাজ করতে চাইত না। এজন্যই প্রতাপের প্রতি তার বাবা-মা নিরাশ হয়েছিলেন।
গ
উদ্দীপকের রাহেলার সাথে 'সুভা' গল্পের সুভার বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের রাহেলার সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার বৈসাদৃশ্য হলো বাবা-মা ও স্বজনের অবহেলা ও অসহযোগতিায়। 'সুভা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাপ্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো মমত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। এমন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বা মানুষের প্রতি সহানুভূতি বা সহমর্মিতা দেখানো জরুরি। তাহলে তারা সফল ও সুখী হতে পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত রাহেলা জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তবে বাবা-মায়ের পরম যত্ন, সহযোগিতা এবং নিজের চেষ্টায় সে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে এখন দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখছে। রাইমার জীবনের এই ঘটনা 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে মেলে না। সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। তাই সে সবার কাছে উপেক্ষিত হয়েছে। তার চারপাশের কেউ তার সঙ্গে মেশেনি। তার অনুভূতি কেউই বোঝার চেষ্টা করেনি। তার জীবনটাকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করার কোনো পথ তাকে কেউ বাতলে দেয়নি। তার মা-বাবাও নয়। বরং সবার কাছ থেকে অবহেলা পেয়েছে। আর এখানেই উদ্দীপকের রাহেলার সঙ্গে সুভার বৈসাদৃশ্য।
ঘ
উদ্দীপকের রাহেলার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিকটিই 'সুভা' গল্পের লেখকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য।- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতা ও মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি সৃজনের আশাবাদে লেখক 'সুভা' গল্পটি রচনা করেছেন যেন তাদের জীবন সহজ হয়। সেই বিবেচনায় “উদ্দীপকের রাহেলার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিকটিই 'সুভা' গল্পের লেখকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ” মন্তব্যটি যথার্থ। 'সুভা' গল্পের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন। বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধে গল্পটি অমর হয়ে আছে। এ গল্প পাঠে প্রতিবন্ধী শিশু বা মানুষের প্রতি সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। যার ফলে সুভাদের মতো প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন সহজ ও সফল হয়ে উঠতে পারে। উদ্দীপকের রাহেলা উৎসাহ-উদ্দীপনা পেলেও আলোচ্য গল্পের সুভা তা পায়নি। সাহস নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করলে সুভাও নিজেকে স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হতো এবং তার পরিবারও কন্যাদায়গ্রস্ততা থেকে মুক্তি পেত। কিন্তু 'সুভা' গল্পে তা হয়ে ওঠেনি। তবে লেখকের প্রত্যাশা- প্রতিবন্ধীদের দূরে না ঠেলে দিয়ে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে তারাও আমাদের উন্নয়নে সহযোগিতা করবে। প্রতিবন্ধীরাও সমাজের সম্পদ। তাদেরকে সহযোগিতা ও সাহায্যের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে তোলা যায়। 'সুভা' গল্পে লেখক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের আবেগ-অনুভূতি তুলে ধরে তাদের প্রতি মমত্বশীল হওয়ার প্রয়াস পেয়েছেন। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে তারাও যে সম্পদ হয়ে উঠতে পারে সেই প্রত্যাশাই লেখক ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়টির প্রতিফলন উদ্দীপকের রাহেলার মধ্যে পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

রাহেলা জন্মান্ধ। তবে মা-বাবার পরম যত্ন, সহযোগিতা এবং নিজের চেষ্টায় আজ সে সমাজে সম্মানের সাথে প্রতিষ্ঠিত। স্বাবলম্বী হয়ে সে প্রমাণ করেছে যে, প্রতিবন্ধীরা সমাজ ও পরিবারের বোঝা নয়। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে তারাও দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
ক
সুভার পিতার নাম কী?

উত্তর

সুভার পিতার নাম বাণীকণ্ঠ।
খ
প্রতাপের প্রতি মা-বাবার নিরাশ হওয়ার কারণ বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর

প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য ছিল বলে বাবা-মা তার প্রতি নিরাশ হয়েছিলেন। 'সুভা' গল্পে বাবা-মায়ের নিতান্ত অকর্মণ্য ছেলে প্রতাপ। অনেক চেষ্টা করেও তাকে দিয়ে সংসারের উন্নতি হয় এমন কোনো কাজ করানো যায় না। এ কারণে মা-বাবা তাকে নিয়ে তাদের প্রত্যাশা বাদ দিয়েছিলেন। ফলে সে অবহেলায় সময় কাটানোর জন্য অপরাহ্ণে নদীতীরে ছিপ ফেলে মাছ ধরত। এভাবে মাছ ধরার বাহানায় অনেকটা সময় কাটানো যায়। প্রকৃতপক্ষে প্রতাপ ছিল প্রচণ্ড অলস। সে কোনো কাজ করতে চাইত না। এজন্যই প্রতাপের প্রতি তার বাবা-মা নিরাশ হয়েছিলেন।
গ
উদ্দীপকের রাহেলার সাথে 'সুভা' গল্পের সুভার বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের রাহেলার সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার বৈসাদৃশ্য হলো বাবা-মা ও স্বজনের অবহেলা ও অসহযোগতিায়। 'সুভা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাপ্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো মমত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। এমন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বা মানুষের প্রতি সহানুভূতি বা সহমর্মিতা দেখানো জরুরি। তাহলে তারা সফল ও সুখী হতে পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত রাহেলা জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তবে বাবা-মায়ের পরম যত্ন, সহযোগিতা এবং নিজের চেষ্টায় সে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে এখন দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখছে। রাইমার জীবনের এই ঘটনা 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে মেলে না। সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। তাই সে সবার কাছে উপেক্ষিত হয়েছে। তার চারপাশের কেউ তার সঙ্গে মেশেনি। তার অনুভূতি কেউই বোঝার চেষ্টা করেনি। তার জীবনটাকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করার কোনো পথ তাকে কেউ বাতলে দেয়নি। তার মা-বাবাও নয়। বরং সবার কাছ থেকে অবহেলা পেয়েছে। আর এখানেই উদ্দীপকের রাহেলার সঙ্গে সুভার বৈসাদৃশ্য।
ঘ
উদ্দীপকের রাহেলার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিকটিই 'সুভা' গল্পের লেখকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য।- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতা ও মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি সৃজনের আশাবাদে লেখক 'সুভা' গল্পটি রচনা করেছেন যেন তাদের জীবন সহজ হয়। সেই বিবেচনায় “উদ্দীপকের রাহেলার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিকটিই 'সুভা' গল্পের লেখকের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ” মন্তব্যটি যথার্থ। 'সুভা' গল্পের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন। বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধে গল্পটি অমর হয়ে আছে। এ গল্প পাঠে প্রতিবন্ধী শিশু বা মানুষের প্রতি সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। যার ফলে সুভাদের মতো প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন সহজ ও সফল হয়ে উঠতে পারে। উদ্দীপকের রাহেলা উৎসাহ-উদ্দীপনা পেলেও আলোচ্য গল্পের সুভা তা পায়নি। সাহস নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করলে সুভাও নিজেকে স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হতো এবং তার পরিবারও কন্যাদায়গ্রস্ততা থেকে মুক্তি পেত। কিন্তু 'সুভা' গল্পে তা হয়ে ওঠেনি। তবে লেখকের প্রত্যাশা- প্রতিবন্ধীদের দূরে না ঠেলে দিয়ে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে তারাও আমাদের উন্নয়নে সহযোগিতা করবে। প্রতিবন্ধীরাও সমাজের সম্পদ। তাদেরকে সহযোগিতা ও সাহায্যের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে তোলা যায়। 'সুভা' গল্পে লেখক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের আবেগ-অনুভূতি তুলে ধরে তাদের প্রতি মমত্বশীল হওয়ার প্রয়াস পেয়েছেন। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে তারাও যে সম্পদ হয়ে উঠতে পারে সেই প্রত্যাশাই লেখক ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়টির প্রতিফলন উদ্দীপকের রাহেলার মধ্যে পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-i: এমন যদি হতো ইচ্ছে হলে আমি হতাম প্রজাপতির মতো। নানান রঙের ফুলের 'পরে বসে যেতাম চুপটি করে খেয়ালমতো নানান ফুলের সুবাস নিতাম কতো। দৃশ্যকল্প-ii: মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ দুর্ঘটনায় একটি পা হারায়। পিতা-মাতা, বন্ধু-বান্ধবসহ সকলের সহযোগিতায় সে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে। এখন সে সমাজে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি।

Dhaka · 2026

ক
'সুভা' গল্পের নিতান্ত অকর্মণ্য লোকটি কে?

উত্তর

'সুভা' গল্পের নিতান্ত অকর্মণ্য লোকটি হলো প্রতাপ।
খ
"আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি”- সুভা এরূপ মনে করত কেন? বর্ণনা করো।

উত্তর

"আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি”- আক্ষেপ থেকে সুভা এ কথাটি মনে করত। 'সুভা' গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। কথা বলতে পারে না বলে প্রতিবেশীরা সুভার উপস্থিতিতে এই অপারগতার জন্য তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করত। তার সঙ্গে দেখা হলেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করত। এতে সুভার কাছে তার সীমাবদ্ধতা বারবার মনে পড়ত। সে নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে রাখতে চাইত। তার পরিবারও তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করত। এ জন্য সুভা উক্ত কথাটি মনে করত।
গ
দৃশ্যকল্প-i-এর সাথে 'সুভা' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-i-এর সাথে 'সুভা' গল্পের সুভার বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। 'সুভা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত মমত্বের সঙ্গে। সুভা বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সবার কাছে অবজ্ঞাত ও অবহেলিত। কিন্তু গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপ মাছ ধরার সময় সে নির্বাক সঙ্গী হিসেবে কদর পেত। সেই সময় তার ইচ্ছা হতো কোনো বিশেষ উপায়ে প্রতাপের মনোযোগ পেতে। তখন সে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা কামনা করত। দৃশ্যকল্প-i-এর কবি প্রজাপতি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তা হলে তিনি নানা রঙের ফুলের ওপর বসে নিজের ইচ্ছে মতো নানা ফুলের সুবাস নিতে পারতেন। কবির এমন আকাঙ্ক্ষা 'সুভা' গল্পের সুভার আকাঙ্ক্ষাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সুভা বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বাবা-মা, সমবয়সি ছেলে-মেয়েরা তাকে অবহেলা করে। ভাষাবিশিষ্ট জীবের মধ্যে সুভার একমাত্র সঙ্গী ছিল প্রতাপ। সে যখন ছিপ ফেলে মাছ ধরত তখন সুভা তার পাশে বসে থাকত। তখন তার ইচ্ছা করত প্রতাপের কোনো কাজে লাগতে। সে যে গুরুত্বপূর্ণ কেউ-তা বোঝাতে মন চাইত। তাই তার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সুভা বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত। সে মন্ত্রবলে এমন কোনো আশ্চর্য ঘটনা ঘটাতে চাইত, যা দেখে প্রতাপ অবাক হয়ে সুভার প্রশংসা করে।
ঘ
"দৃশ্যকল্প-ii-এর সাজিদের পিতা-মাতার মতো পিতা-মাতা হতো তাহলে সুভার পরিণতি করুণ হতো না।”--মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

পিতা-মাতার সহযোগিতা পেলে সুভা এতটা যন্ত্রণায় দগ্ধ হতো না, তাই "দৃশ্যকল্প-ii-এর সাজিদের পিতা-মাতার মতো যদি সুভার পিতা-মাতা হতো তাহলে সুভার পরিণতি করুণ হতো না" মন্তব্যটি যথার্থ। 'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী তার কারণে সবার কাছে অবহেলিত ছিল। কেউ তার সঙ্গে খেলত না। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক ভেবে বিরক্ত ছিলেন। সুভা মা-বাবার হৃদয়ভার ছিল। দৃশ্যকল্প-ii-এর সাজিদ দুর্ঘটনায় একটি পা হারায়। পিতা-মাতা, বন্ধুবান্ধব সহ সবার সহযোগিতায় সে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে। এখন সে সমাজে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। 'সুভা' গল্পের সুভা দৃশ্যকল্প-ii-এর সাজিদের মতো সহযোগিতা পায়নি। সমাজের লোকেরা তাকে নিন্দা করেছে। এ নিন্দার ভয়ে বাবা বাণীকণ্ঠও শেষ পর্যন্ত তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। 'সুভা' গল্পে বাষ্প্রতিবন্ধী সুভা তার মা, আত্মীয়স্বজন থেকে কোনো ধরনের মানসিক সহায়তা ও সহানুভূতি পায়নি, যা সুভার জন্য অবমাননাকর। সুভা যদি পিতা-মাতার কাছ থেকে স্নেহ-মায়া-মমতা ও সহানুভূতি পেত, তা হলে সে একটি সাজানো-গোছানো জীবন লাভকরে সুখে থাকতে পারত। কিন্তু এসব থেকে সুভা বঞ্চিত হয়েছে বলেই নিজেকে অসহায় ভেবে নির্জনে চোখের পানি ফেলেছে, যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়েছে। অথচ দৃশ্যকল্প-ii-এর সাজিদকে তার পিতা-মাতা সহযোগিতা করেছে বলে সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে। তাই আলোচ্য বিষয়গুলোর ভিত্তিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

দৃশ্যকল্প-i: এমন যদি হতো ইচ্ছে হলে আমি হতাম প্রজাপতির মতো। নানান রঙের ফুলের 'পরে বসে যেতাম চুপটি করে খেয়ালমতো নানান ফুলের সুবাস নিতাম কতো। দৃশ্যকল্প-ii: মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ দুর্ঘটনায় একটি পা হারায়। পিতা-মাতা, বন্ধু-বান্ধবসহ সকলের সহযোগিতায় সে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে। এখন সে সমাজে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি।

Dhaka · 2026

ক
'সুভা' গল্পের নিতান্ত অকর্মণ্য লোকটি কে?

উত্তর

'সুভা' গল্পের নিতান্ত অকর্মণ্য লোকটি হলো প্রতাপ।
খ
"আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি”- সুভা এরূপ মনে করত কেন? বর্ণনা করো।

উত্তর

"আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি”- আক্ষেপ থেকে সুভা এ কথাটি মনে করত। 'সুভা' গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। কথা বলতে পারে না বলে প্রতিবেশীরা সুভার উপস্থিতিতে এই অপারগতার জন্য তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করত। তার সঙ্গে দেখা হলেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করত। এতে সুভার কাছে তার সীমাবদ্ধতা বারবার মনে পড়ত। সে নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে রাখতে চাইত। তার পরিবারও তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করত। এ জন্য সুভা উক্ত কথাটি মনে করত।
গ
দৃশ্যকল্প-i-এর সাথে 'সুভা' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-i-এর সাথে 'সুভা' গল্পের সুভার বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। 'সুভা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত মমত্বের সঙ্গে। সুভা বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সবার কাছে অবজ্ঞাত ও অবহেলিত। কিন্তু গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপ মাছ ধরার সময় সে নির্বাক সঙ্গী হিসেবে কদর পেত। সেই সময় তার ইচ্ছা হতো কোনো বিশেষ উপায়ে প্রতাপের মনোযোগ পেতে। তখন সে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা কামনা করত। দৃশ্যকল্প-i-এর কবি প্রজাপতি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তা হলে তিনি নানা রঙের ফুলের ওপর বসে নিজের ইচ্ছে মতো নানা ফুলের সুবাস নিতে পারতেন। কবির এমন আকাঙ্ক্ষা 'সুভা' গল্পের সুভার আকাঙ্ক্ষাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সুভা বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বাবা-মা, সমবয়সি ছেলে-মেয়েরা তাকে অবহেলা করে। ভাষাবিশিষ্ট জীবের মধ্যে সুভার একমাত্র সঙ্গী ছিল প্রতাপ। সে যখন ছিপ ফেলে মাছ ধরত তখন সুভা তার পাশে বসে থাকত। তখন তার ইচ্ছা করত প্রতাপের কোনো কাজে লাগতে। সে যে গুরুত্বপূর্ণ কেউ-তা বোঝাতে মন চাইত। তাই তার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সুভা বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত। সে মন্ত্রবলে এমন কোনো আশ্চর্য ঘটনা ঘটাতে চাইত, যা দেখে প্রতাপ অবাক হয়ে সুভার প্রশংসা করে।
ঘ
"দৃশ্যকল্প-ii-এর সাজিদের পিতা-মাতার মতো পিতা-মাতা হতো তাহলে সুভার পরিণতি করুণ হতো না।”--মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

পিতা-মাতার সহযোগিতা পেলে সুভা এতটা যন্ত্রণায় দগ্ধ হতো না, তাই "দৃশ্যকল্প-ii-এর সাজিদের পিতা-মাতার মতো যদি সুভার পিতা-মাতা হতো তাহলে সুভার পরিণতি করুণ হতো না" মন্তব্যটি যথার্থ। 'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী তার কারণে সবার কাছে অবহেলিত ছিল। কেউ তার সঙ্গে খেলত না। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক ভেবে বিরক্ত ছিলেন। সুভা মা-বাবার হৃদয়ভার ছিল। দৃশ্যকল্প-ii-এর সাজিদ দুর্ঘটনায় একটি পা হারায়। পিতা-মাতা, বন্ধুবান্ধব সহ সবার সহযোগিতায় সে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে। এখন সে সমাজে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। 'সুভা' গল্পের সুভা দৃশ্যকল্প-ii-এর সাজিদের মতো সহযোগিতা পায়নি। সমাজের লোকেরা তাকে নিন্দা করেছে। এ নিন্দার ভয়ে বাবা বাণীকণ্ঠও শেষ পর্যন্ত তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। 'সুভা' গল্পে বাষ্প্রতিবন্ধী সুভা তার মা, আত্মীয়স্বজন থেকে কোনো ধরনের মানসিক সহায়তা ও সহানুভূতি পায়নি, যা সুভার জন্য অবমাননাকর। সুভা যদি পিতা-মাতার কাছ থেকে স্নেহ-মায়া-মমতা ও সহানুভূতি পেত, তা হলে সে একটি সাজানো-গোছানো জীবন লাভকরে সুখে থাকতে পারত। কিন্তু এসব থেকে সুভা বঞ্চিত হয়েছে বলেই নিজেকে অসহায় ভেবে নির্জনে চোখের পানি ফেলেছে, যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়েছে। অথচ দৃশ্যকল্প-ii-এর সাজিদকে তার পিতা-মাতা সহযোগিতা করেছে বলে সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে। তাই আলোচ্য বিষয়গুলোর ভিত্তিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুদীপ্ত ও তনয়ার একমাত্র সন্তান মৌনতা। নিটোল চোখের শান্ত মৌনতা কথা বলতে পারে না। তার প্রতি মাঝে মাঝে মায়ের বিরূপ আচরণ মনে খুব দুঃখ দেয়, কিন্তু বাবার আদর ও ভালোবাসায় সে সব দুঃখ ভুলে যায়। সুদীপ্ত কখনোই মেয়েকে বোঝা মনে করেন না বরং তার কাছে মৌনতা সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ উদাহরণস্বরূপ। তাই, মৌনতার সব না বলা ভাষার চাহনি তার কাছে এক গল্পগাথা।

Mymensingh · 2020

ক
'সুভা' গল্পে কাকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে?

উত্তর

সুভা' গল্পে প্রতাপকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে।
খ
“বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব আছে।”- 'সুভা' গল্পের লেখকের এই উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

“বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব আছে।”- 'সুভা' গল্পের লেখকের এই উক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ। • 'সুভা' গল্পে সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে না। ফলে সুভার বয়সী ছেলে-মেয়েরা তার সঙ্গে মেশে না। সে প্রকৃতির কাছে নিজেকে মেলে ধরে। সুভা যখন নদীর পাড়ে এসে বসে তখন প্রকৃতির নানান উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা দিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন সুভার চোখের ভাষা ছিল অসীম, উদার ও অতলস্পর্শ— অনেকটা গভীর স্বচ্ছ আকাশের মতো। সেই চোখের ভাষা তার বয়সী ছেলেমেয়েরা বুঝতে পারত না। এ কারণেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
গ
উদ্দীপকের সুদীপ্ত চরিত্রটি 'সুভা' গল্পের কোন চরিত্রকে প্রতিফলিত করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সুদীপ্ত চরিত্রটি 'সুভা' গল্পের সুভার বাবা বাণীকণ্ঠ চরিত্রকে প্রতিফলিত করে। • বাবা-মায়ের কাছে সব সন্তানই সমান। তা সত্ত্বেও শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকেই পরিবার ও সমাজে অবহেলার শিকার হয়। তারা অন্য সবার মতোই সুবিধা লাভের অধিকার রাখে। তাই সবার উচিত প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করা। • উদ্দীপকে একজন বাকপ্রতিবন্ধী বালিকার প্রতি তার বাবা-মায়ের আচরণের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সুদীপ্ত ও তনয়ার একমাত্র সন্তান মৌনতা কথা বলতে পারে না। কথা বলতে না পারার যে কষ্ট তা সে বাবার স্নেহ-ভালোবাসায় ভুলে যায়। বাবা সুদীপ্ত মৌনতাকে কখনো বোঝা মনে করেন না। উদ্দীপকে মেয়ের বাবা সুদীপ্তর এ আচরণ 'সুভা' গল্পে সুভার প্রতি তার বাবা বাণীকণ্ঠের আচরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আলোচ্য গল্পে বাণীকণ্ঠও সুভাকে অন্য মেয়েদের অপেক্ষা বেশি ভালোবাসেন। সুভার মা সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক মনে করলেও বাণীকণ্ঠ সুভাকে স্নেহ ও যত্ন করতেন। এভাবে উদ্দীপকের সুদীপ্ত চরিত্রটির প্রতিফলন লক্ষ করা যায় 'সুভা' গল্পের বাণীকণ্ঠ চরিত্রের মধ্যে।
ঘ
“উদ্দীপকের মৌনতার বাবা 'সুভা' গল্পের সুভার বাবারই প্রতিচ্ছবি।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

“উদ্দীপকের মৌনতার বাবা 'সুভা' গল্পের সুভার বাবারই প্রতিচ্ছবি।”- মন্তব্যটি যথার্থ। • প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা আমাদের মতোই মানুষ। তাদেরও সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার আছে। অথচ আমাদের সমাজে তারা সেই সুযোগ পায় না। পরিবার ও সমাজে তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করতে দেখা যায়। • 'সুভা' গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে শৈশব থেকেই সে অবহেলার শিকার। সমবয়সীরা তার সঙ্গে খেলে না। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। সেই অবস্থায় সুভার প্রধান দুই আশ্রয় তার বাবা বাণীকণ্ঠ এবং নির্বাক প্রকৃতি। সুভা তার বাবার স্নেহ-মমতায় প্রতিবন্ধিতার দুঃখ ভুলে থাকে আর প্রকৃতির কাছে মুক্তির আনন্দ খুঁজে পায়। উদ্দীপকের মৌনতার বাবা সুদীপ্তও তার বাক্প্রতিবন্ধী মেয়েকে অনেক স্নেহ-মমতায় আগলে রাখেন। মেয়েকে বোঝা মনে না করে স্রষ্টার আশীর্বাদ মনে করেন। মৌনতার চোখের দিকে তাকিয়ে তিনি তার মনের ভাষা বুঝতে পারেন। • উদ্দীপকের বাষ্প্রতিবন্ধী মেয়ে মৌনতার প্রতি বাবা সুদীপ্তের আচরণ এবং 'সুভা' গল্পে সুভার প্রতি তার বাবার আচরণ একসূত্রে গাঁথা। উভয় ক্ষেত্রেই বাকশক্তিহীন মেয়েরা বাবার স্নেহাশ্রয় লাভ করেছে এবং মায়ের অবহেলার শিকার হয়েছে। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

সুদীপ্ত ও তনয়ার একমাত্র সন্তান মৌনতা। নিটোল চোখের শান্ত মৌনতা কথা বলতে পারে না। তার প্রতি মাঝে মাঝে মায়ের বিরূপ আচরণ মনে খুব দুঃখ দেয়, কিন্তু বাবার আদর ও ভালোবাসায় সে সব দুঃখ ভুলে যায়। সুদীপ্ত কখনোই মেয়েকে বোঝা মনে করেন না বরং তার কাছে মৌনতা সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ উদাহরণস্বরূপ। তাই, মৌনতার সব না বলা ভাষার চাহনি তার কাছে এক গল্পগাথা।

Mymensingh · 2020

ক
'সুভা' গল্পে কাকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে?

উত্তর

সুভা' গল্পে প্রতাপকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে।
খ
“বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব আছে।”- 'সুভা' গল্পের লেখকের এই উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

“বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব আছে।”- 'সুভা' গল্পের লেখকের এই উক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ। • 'সুভা' গল্পে সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে না। ফলে সুভার বয়সী ছেলে-মেয়েরা তার সঙ্গে মেশে না। সে প্রকৃতির কাছে নিজেকে মেলে ধরে। সুভা যখন নদীর পাড়ে এসে বসে তখন প্রকৃতির নানান উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা দিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন সুভার চোখের ভাষা ছিল অসীম, উদার ও অতলস্পর্শ— অনেকটা গভীর স্বচ্ছ আকাশের মতো। সেই চোখের ভাষা তার বয়সী ছেলেমেয়েরা বুঝতে পারত না। এ কারণেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
গ
উদ্দীপকের সুদীপ্ত চরিত্রটি 'সুভা' গল্পের কোন চরিত্রকে প্রতিফলিত করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের সুদীপ্ত চরিত্রটি 'সুভা' গল্পের সুভার বাবা বাণীকণ্ঠ চরিত্রকে প্রতিফলিত করে। • বাবা-মায়ের কাছে সব সন্তানই সমান। তা সত্ত্বেও শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকেই পরিবার ও সমাজে অবহেলার শিকার হয়। তারা অন্য সবার মতোই সুবিধা লাভের অধিকার রাখে। তাই সবার উচিত প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করা। • উদ্দীপকে একজন বাকপ্রতিবন্ধী বালিকার প্রতি তার বাবা-মায়ের আচরণের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সুদীপ্ত ও তনয়ার একমাত্র সন্তান মৌনতা কথা বলতে পারে না। কথা বলতে না পারার যে কষ্ট তা সে বাবার স্নেহ-ভালোবাসায় ভুলে যায়। বাবা সুদীপ্ত মৌনতাকে কখনো বোঝা মনে করেন না। উদ্দীপকে মেয়ের বাবা সুদীপ্তর এ আচরণ 'সুভা' গল্পে সুভার প্রতি তার বাবা বাণীকণ্ঠের আচরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আলোচ্য গল্পে বাণীকণ্ঠও সুভাকে অন্য মেয়েদের অপেক্ষা বেশি ভালোবাসেন। সুভার মা সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক মনে করলেও বাণীকণ্ঠ সুভাকে স্নেহ ও যত্ন করতেন। এভাবে উদ্দীপকের সুদীপ্ত চরিত্রটির প্রতিফলন লক্ষ করা যায় 'সুভা' গল্পের বাণীকণ্ঠ চরিত্রের মধ্যে।
ঘ
“উদ্দীপকের মৌনতার বাবা 'সুভা' গল্পের সুভার বাবারই প্রতিচ্ছবি।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

“উদ্দীপকের মৌনতার বাবা 'সুভা' গল্পের সুভার বাবারই প্রতিচ্ছবি।”- মন্তব্যটি যথার্থ। • প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা আমাদের মতোই মানুষ। তাদেরও সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার আছে। অথচ আমাদের সমাজে তারা সেই সুযোগ পায় না। পরিবার ও সমাজে তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করতে দেখা যায়। • 'সুভা' গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে শৈশব থেকেই সে অবহেলার শিকার। সমবয়সীরা তার সঙ্গে খেলে না। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। সেই অবস্থায় সুভার প্রধান দুই আশ্রয় তার বাবা বাণীকণ্ঠ এবং নির্বাক প্রকৃতি। সুভা তার বাবার স্নেহ-মমতায় প্রতিবন্ধিতার দুঃখ ভুলে থাকে আর প্রকৃতির কাছে মুক্তির আনন্দ খুঁজে পায়। উদ্দীপকের মৌনতার বাবা সুদীপ্তও তার বাক্প্রতিবন্ধী মেয়েকে অনেক স্নেহ-মমতায় আগলে রাখেন। মেয়েকে বোঝা মনে না করে স্রষ্টার আশীর্বাদ মনে করেন। মৌনতার চোখের দিকে তাকিয়ে তিনি তার মনের ভাষা বুঝতে পারেন। • উদ্দীপকের বাষ্প্রতিবন্ধী মেয়ে মৌনতার প্রতি বাবা সুদীপ্তের আচরণ এবং 'সুভা' গল্পে সুভার প্রতি তার বাবার আচরণ একসূত্রে গাঁথা। উভয় ক্ষেত্রেই বাকশক্তিহীন মেয়েরা বাবার স্নেহাশ্রয় লাভ করেছে এবং মায়ের অবহেলার শিকার হয়েছে। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো