প্রত্যুপকার বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর প্রত্যুপকার অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৮৩

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

হজরত আলী (রা.)-এর শাসন আমলে বুড়ো একটি লোক রাস্তার ধারে বসে ভিক্ষা করছিল। আশপাশের লোকজনের কাছে তিনি জানতে চাইলে সবাই জবাব দিলো যে, এই লোকটি একজন খ্রিষ্টান। চোখে দেখেন না বলে কাজ করতে পারেন না। তাই তিনি ভিক্ষা করছেন। তবে জোয়ানকালে তিনি সবাইকে সেবা দিয়েছেন। একথা শুনে হজরত আলী (রা.) বিস্ময় প্রকাশ করে জনগণের উদ্দেশে বললেন, "এই লোকটার যখন শক্তি-সামর্থ্য ছিল তখন আপনারা তার সেবা নিয়েছেন। আর বিপদের সময় তিনি সাহায্য পাবেন না- এটা তো হতে পারে না। তিনি কোন ধর্মের অনুসারী সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়।"
ক
'প্রত্যুপকার' গল্পের হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তির নিবাস কোথায় ছিল?

উত্তর

'প্রত্যুপকার' গল্পের হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তির নিবাস ছিল ডেমাস্কাস।
খ
আলী ইবনে আব্বাস লোকটিকে মুক্ত করে দিলেও তিনি কেন পালিয়ে যাননি?

উত্তর

স্বার্থপরের মতো নিজের প্রাণরক্ষার্থে আরেকজনের প্রাণের বিনাশের কারণ হতে চাননি বলে আলী ইবনে আব্বাস ছেড়ে দিলেও বন্দি লোকটি পালিয়ে যাননি। 'প্রত্যুপকার' গল্পে ডেমাস্কাসে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি ঘটনাক্রমে খলিফা মামুনের সেনাদল কর্তৃক বন্দি হন। খলিফার আদেশে আলী' ইবনে আব্বাস ওই বন্দি লোকটাকে গৃহে অন্তরিন করে রাখলেন। কথা প্রসঙ্গে আলী ইবনে আব্বাস ওই বন্দি ব্যক্তির পরিচয় পেলেন। তিনি জানতে পারলেন ওই বন্দি ব্যক্তির আশ্রয়েই মাসখানেক নিরাপদে থেকে অতি সম্মান ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বদেশে ফিরেছিলেন। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পেয়ে তিনি তাঁকে মুক্ত করে দিতে চাইলেন। তখন ওই বন্দি রাজি হলেন না। তিনি বললেন, "আমি এত নীচাশয় ও স্বার্থপর নহি যে, কিছুকাল পূর্বে যে প্রাণের রক্ষা করিয়াছি, আপন প্রাণ রক্ষার্থে এক্ষণে সেই প্রাণের বিনাশের কারণ হইব।"
গ
উদ্দীপকের বর্ণনা 'প্রত্যুপকার' গল্পের কোন বিষয়কে নির্দেশ করে তা আলোচনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের বর্ণনা 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতা, মানবতা ও ঋণ স্বীকারের নীতিকে নির্দেশ করে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাস এক অচেনা লোকের প্রাণরক্ষা করেন; পরে একই ব্যক্তি বিপদে পড়ে তাঁর সামনে হাজির হলে তিনি কৃতজ্ঞতা ও মানবতার দায়ে তার পক্ষে দাঁড়ান। গল্পটি দেখায়- মানবীয় সেবা কখনো ব্যর্থ হয়ে যায় না, সময়মতো তার প্রতিদান ফিরে আসে। উদ্দীপকে হজরত আলী (রা.) দেখিয়েছেন যে, মানুষ যে ধর্মের অনুসারীর হোক না কেন, তার পূর্বেকার সেবা ভুলে যাওয়া যায় না; বিপদের সময় তাকে সহায়তা করাই মানবধর্ম। 'প্রত্যুপকার' গল্পেও দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাস নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতিদান দিয়েছেন। উদ্দীপক ও 'প্রত্যুপকার' গল্প উভয় ক্ষেত্রেই উপকারের বিপরীতে প্রত্যুপকার, মানবিক দায়িত্ব ও নৈতিকতার উচ্চতর শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি সরাসরি 'প্রত্যুপকার' গল্পের নৈতিক বার্তাকে নির্দেশ করে।
ঘ
উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে কি না সে প্রসঙ্গে মতামত দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, উপকারের প্রতিদান, মানবিক দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বোধের দিক থেকে উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে উপকারী ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য আলী ইবনে আব্বাস নিজের জীবন বিপন্ন করেও সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ান। তাঁর কৃতজ্ঞতা, সাহস ও দয়া গল্পটিকে মানবতার সুন্দর উদাহরণে রূপ দেয়। উদ্দীপকে যেমন হজরত আলী (রা.) ধর্ম-জাতি না দেখে একজন বৃদ্ধ ভিক্ষুকের দায়িত্ব নেন, তেমনই গল্পে আলী ইবনে আব্বাস ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েও উপকারদাতাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। উভয় ক্ষেত্রেই মানবিকতা বড়ো হয়ে উঠেছে। উভয় ক্ষেত্রেই ধর্ম-সম্প্রদায় বা ব্যক্তিগত লাভ নয়- বরং মানবতার ঋণ, ন্যায়পরায়ণতা ও কৃতজ্ঞতা হয়ে উঠেছে মূলভিত্তি। উদ্দীপকে হজরত আলী (রা.) দেখিয়েছেন- মানুষকে সাহায্য করা কেবল ধর্মীয় নয়, মানবিক দায়িত্ব। কর্মক্ষম অবস্থায় সমাজ তার সেবা নিয়ে অক্ষম অবস্থায় তাকে সাহায্য না করা অন্যায়। ঠিক এ মূল্যবোধই 'প্রত্যুপকার' গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে। গল্পে আলী ইবনে আব্বাস অতীতে পাওয়া উপকারের মর্যাদা রাখেন এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও উপকারী ব্যক্তির প্রাণরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। উভয় ক্ষেত্রেই উপকারের প্রতিদান, দয়া, ন্যায় এবং মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্য দেওয়ার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে প্রত্যুপকার গল্পের সম্পূর্ণ মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

হজরত আলী (রা.)-এর শাসন আমলে বুড়ো একটি লোক রাস্তার ধারে বসে ভিক্ষা করছিল। আশপাশের লোকজনের কাছে তিনি জানতে চাইলে সবাই জবাব দিলো যে, এই লোকটি একজন খ্রিষ্টান। চোখে দেখেন না বলে কাজ করতে পারেন না। তাই তিনি ভিক্ষা করছেন। তবে জোয়ানকালে তিনি সবাইকে সেবা দিয়েছেন। একথা শুনে হজরত আলী (রা.) বিস্ময় প্রকাশ করে জনগণের উদ্দেশে বললেন, "এই লোকটার যখন শক্তি-সামর্থ্য ছিল তখন আপনারা তার সেবা নিয়েছেন। আর বিপদের সময় তিনি সাহায্য পাবেন না- এটা তো হতে পারে না। তিনি কোন ধর্মের অনুসারী সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়।"
ক
'প্রত্যুপকার' গল্পের হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তির নিবাস কোথায় ছিল?

উত্তর

'প্রত্যুপকার' গল্পের হস্তপদবদ্ধ ব্যক্তির নিবাস ছিল ডেমাস্কাস।
খ
আলী ইবনে আব্বাস লোকটিকে মুক্ত করে দিলেও তিনি কেন পালিয়ে যাননি?

উত্তর

স্বার্থপরের মতো নিজের প্রাণরক্ষার্থে আরেকজনের প্রাণের বিনাশের কারণ হতে চাননি বলে আলী ইবনে আব্বাস ছেড়ে দিলেও বন্দি লোকটি পালিয়ে যাননি। 'প্রত্যুপকার' গল্পে ডেমাস্কাসে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি ঘটনাক্রমে খলিফা মামুনের সেনাদল কর্তৃক বন্দি হন। খলিফার আদেশে আলী' ইবনে আব্বাস ওই বন্দি লোকটাকে গৃহে অন্তরিন করে রাখলেন। কথা প্রসঙ্গে আলী ইবনে আব্বাস ওই বন্দি ব্যক্তির পরিচয় পেলেন। তিনি জানতে পারলেন ওই বন্দি ব্যক্তির আশ্রয়েই মাসখানেক নিরাপদে থেকে অতি সম্মান ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বদেশে ফিরেছিলেন। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পেয়ে তিনি তাঁকে মুক্ত করে দিতে চাইলেন। তখন ওই বন্দি রাজি হলেন না। তিনি বললেন, "আমি এত নীচাশয় ও স্বার্থপর নহি যে, কিছুকাল পূর্বে যে প্রাণের রক্ষা করিয়াছি, আপন প্রাণ রক্ষার্থে এক্ষণে সেই প্রাণের বিনাশের কারণ হইব।"
গ
উদ্দীপকের বর্ণনা 'প্রত্যুপকার' গল্পের কোন বিষয়কে নির্দেশ করে তা আলোচনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের বর্ণনা 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতা, মানবতা ও ঋণ স্বীকারের নীতিকে নির্দেশ করে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাস এক অচেনা লোকের প্রাণরক্ষা করেন; পরে একই ব্যক্তি বিপদে পড়ে তাঁর সামনে হাজির হলে তিনি কৃতজ্ঞতা ও মানবতার দায়ে তার পক্ষে দাঁড়ান। গল্পটি দেখায়- মানবীয় সেবা কখনো ব্যর্থ হয়ে যায় না, সময়মতো তার প্রতিদান ফিরে আসে। উদ্দীপকে হজরত আলী (রা.) দেখিয়েছেন যে, মানুষ যে ধর্মের অনুসারীর হোক না কেন, তার পূর্বেকার সেবা ভুলে যাওয়া যায় না; বিপদের সময় তাকে সহায়তা করাই মানবধর্ম। 'প্রত্যুপকার' গল্পেও দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাস নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আশ্রয়দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতিদান দিয়েছেন। উদ্দীপক ও 'প্রত্যুপকার' গল্প উভয় ক্ষেত্রেই উপকারের বিপরীতে প্রত্যুপকার, মানবিক দায়িত্ব ও নৈতিকতার উচ্চতর শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি সরাসরি 'প্রত্যুপকার' গল্পের নৈতিক বার্তাকে নির্দেশ করে।
ঘ
উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে কি না সে প্রসঙ্গে মতামত দাও।

উত্তর

হ্যাঁ, উপকারের প্রতিদান, মানবিক দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বোধের দিক থেকে উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে উপকারী ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য আলী ইবনে আব্বাস নিজের জীবন বিপন্ন করেও সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ান। তাঁর কৃতজ্ঞতা, সাহস ও দয়া গল্পটিকে মানবতার সুন্দর উদাহরণে রূপ দেয়। উদ্দীপকে যেমন হজরত আলী (রা.) ধর্ম-জাতি না দেখে একজন বৃদ্ধ ভিক্ষুকের দায়িত্ব নেন, তেমনই গল্পে আলী ইবনে আব্বাস ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েও উপকারদাতাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। উভয় ক্ষেত্রেই মানবিকতা বড়ো হয়ে উঠেছে। উভয় ক্ষেত্রেই ধর্ম-সম্প্রদায় বা ব্যক্তিগত লাভ নয়- বরং মানবতার ঋণ, ন্যায়পরায়ণতা ও কৃতজ্ঞতা হয়ে উঠেছে মূলভিত্তি। উদ্দীপকে হজরত আলী (রা.) দেখিয়েছেন- মানুষকে সাহায্য করা কেবল ধর্মীয় নয়, মানবিক দায়িত্ব। কর্মক্ষম অবস্থায় সমাজ তার সেবা নিয়ে অক্ষম অবস্থায় তাকে সাহায্য না করা অন্যায়। ঠিক এ মূল্যবোধই 'প্রত্যুপকার' গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে। গল্পে আলী ইবনে আব্বাস অতীতে পাওয়া উপকারের মর্যাদা রাখেন এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও উপকারী ব্যক্তির প্রাণরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। উভয় ক্ষেত্রেই উপকারের প্রতিদান, দয়া, ন্যায় এবং মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্য দেওয়ার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে প্রত্যুপকার গল্পের সম্পূর্ণ মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

"তার পর চেয়ে আসমান পানে বৃদ্ধ কহিল— বাপ । শত্রুরে তোর তলোয়ার তলে পেয়েও করিনু মাফ। এতদিন পরে তোর হত্যার লইলাম প্রতিশোধ, খুনের নেশায় আর করিব না, আখেরের পথরোধ।”

Rajshahi · 2026

ক
আলী ইবনে আব্বাস কোন খলিফার প্রিয়পাত্র ছিলেন?

উত্তর

আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন।
খ
আলী ইবনে আব্বাস হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিল কেন?

উত্তর

আলী ইবনে আব্বাস খলিফার আদেশে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন যাতে বন্দি লোকটি পালিয়ে গিয়ে তাকে কোনো বিপদে ফেলতে না পারে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন। খলিফার আদেশ পেয়ে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে আলী ইবনে আব্বাস তার বাড়িতে নিয়ে যান। বন্দি ব্যক্তি যাতে পালিয়ে না যায়। এবং খলিফার আদেশ যাতে অমান্য না হয় সেই কারণেই আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তিকে সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন। কারণ ওই ব্যক্তি পালিয়ে গেলে তাঁকে খলিফার বিরাগভাজন হতে হবে।
গ
উদ্দীপকের বিষয়টি 'প্রত্যুপকার' গল্পের কোন দিকটির সঙ্গে সাদশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের বিষয়টি 'প্রত্যুপকার' গল্পের খালফার মহানুভবতার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের প্রতি-উপকারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। তবে এ গল্পের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খলিফা মামুনের মহানুভবতা। খলিফা মামুনের মহানুভবতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় এ গল্পের অন্যতম একটি বিষয়। উদ্দীপকের কবিতাংশে মহানুভব এক ব্যক্তির পরিচয় ফুটে উঠেছে। কবিতাংশের বৃদ্ধ শত্রুকে কোনো প্রহার করেননি। বরং ক্ষমা করে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এরূপ মহানুভবতার পরিচয় 'প্রত্যুপকার' গল্পের খলিফা মামুনের মধ্যেও পাওয়া যায়। তিনি বন্দি ব্যক্তির প্রতি ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন। পরে যখন আলী ইবনে আব্বাসের কাছে তার উপকারী মানসিকতা সম্পর্কে শোনেন তখন বন্দি ব্যক্তির প্রতি তার ক্রোধ শান্ত হয় এবং তিনি কোনো প্রকার শাস্তি না দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দেন। সেই বিষয়টির ইঙ্গিত উদ্দীপকের বৃদ্ধের মধ্যেও রয়েছে। এভাবেই উদ্দীপকের বিষয়টি 'প্রত্যুপকার' গল্পের খলিফার মহানুভবতার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে প্রতি-উপকার ও নিঃস্বার্থ পরোপকারের কোনো ইঙ্গিত না থাকায় উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মন্তব্যটি যথার্থ। 'প্রত্যুপকার' গল্পটি আলী ইবনে আব্বাসের প্রতি-উপকারের কাহিনি। এ গল্পে আশ্রয়দাতার মধ্য দিয়ে আবার নিঃস্বার্থ পরোপকারের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মূলত আশ্রয়দাতার উপকারের প্রতি-উপকার এই গল্পের মূল উপজীব্য। উদ্দীপকের কবিতাংশে এক বৃদ্ধের মহানুভবতা ফুটে উঠেছে। বৃদ্ধ তার পুত্রের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়ে মহত্ত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা 'প্রত্যুপকার' গল্পের খলিফা মামুনের মহানুভবতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গল্পেও খলিফা মামুন বন্দি ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দেন। এটি এ গল্পের একটি বিশেষ দিকের প্রকাশমাত্র। গল্পের মূল বিষয় প্রতি-উপকারের কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। তিনি ডেমাস্কাসে একবার ভীষণ বিপদে পড়েন। তখন এক ব্যক্তি তাকে নিঃস্বার্থভাবে আশ্রয় দেন। পরবর্তী সময়ে আলী ইবনে আব্বাস সেই আশ্রয়দাতার প্রাণ বাঁচান। প্রসঙ্গতই এই গল্পে খলিফা মামুনের মহানুভবতার পরিচয় পাওয়া যায়, যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে রয়েছে। গল্পের অন্যান্য বিষয়, বিশেষ করে প্রতি-উপকারের কোন ইঙ্গিত সেখানে নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

"তার পর চেয়ে আসমান পানে বৃদ্ধ কহিল— বাপ । শত্রুরে তোর তলোয়ার তলে পেয়েও করিনু মাফ। এতদিন পরে তোর হত্যার লইলাম প্রতিশোধ, খুনের নেশায় আর করিব না, আখেরের পথরোধ।”

Rajshahi · 2026

ক
আলী ইবনে আব্বাস কোন খলিফার প্রিয়পাত্র ছিলেন?

উত্তর

আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন।
খ
আলী ইবনে আব্বাস হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিল কেন?

উত্তর

আলী ইবনে আব্বাস খলিফার আদেশে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন যাতে বন্দি লোকটি পালিয়ে গিয়ে তাকে কোনো বিপদে ফেলতে না পারে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন। খলিফার আদেশ পেয়ে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে আলী ইবনে আব্বাস তার বাড়িতে নিয়ে যান। বন্দি ব্যক্তি যাতে পালিয়ে না যায়। এবং খলিফার আদেশ যাতে অমান্য না হয় সেই কারণেই আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তিকে সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন। কারণ ওই ব্যক্তি পালিয়ে গেলে তাঁকে খলিফার বিরাগভাজন হতে হবে।
গ
উদ্দীপকের বিষয়টি 'প্রত্যুপকার' গল্পের কোন দিকটির সঙ্গে সাদশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের বিষয়টি 'প্রত্যুপকার' গল্পের খালফার মহানুভবতার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের প্রতি-উপকারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। তবে এ গল্পের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খলিফা মামুনের মহানুভবতা। খলিফা মামুনের মহানুভবতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় এ গল্পের অন্যতম একটি বিষয়। উদ্দীপকের কবিতাংশে মহানুভব এক ব্যক্তির পরিচয় ফুটে উঠেছে। কবিতাংশের বৃদ্ধ শত্রুকে কোনো প্রহার করেননি। বরং ক্ষমা করে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এরূপ মহানুভবতার পরিচয় 'প্রত্যুপকার' গল্পের খলিফা মামুনের মধ্যেও পাওয়া যায়। তিনি বন্দি ব্যক্তির প্রতি ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন। পরে যখন আলী ইবনে আব্বাসের কাছে তার উপকারী মানসিকতা সম্পর্কে শোনেন তখন বন্দি ব্যক্তির প্রতি তার ক্রোধ শান্ত হয় এবং তিনি কোনো প্রকার শাস্তি না দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দেন। সেই বিষয়টির ইঙ্গিত উদ্দীপকের বৃদ্ধের মধ্যেও রয়েছে। এভাবেই উদ্দীপকের বিষয়টি 'প্রত্যুপকার' গল্পের খলিফার মহানুভবতার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে প্রতি-উপকার ও নিঃস্বার্থ পরোপকারের কোনো ইঙ্গিত না থাকায় উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মন্তব্যটি যথার্থ। 'প্রত্যুপকার' গল্পটি আলী ইবনে আব্বাসের প্রতি-উপকারের কাহিনি। এ গল্পে আশ্রয়দাতার মধ্য দিয়ে আবার নিঃস্বার্থ পরোপকারের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মূলত আশ্রয়দাতার উপকারের প্রতি-উপকার এই গল্পের মূল উপজীব্য। উদ্দীপকের কবিতাংশে এক বৃদ্ধের মহানুভবতা ফুটে উঠেছে। বৃদ্ধ তার পুত্রের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়ে মহত্ত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা 'প্রত্যুপকার' গল্পের খলিফা মামুনের মহানুভবতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গল্পেও খলিফা মামুন বন্দি ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দেন। এটি এ গল্পের একটি বিশেষ দিকের প্রকাশমাত্র। গল্পের মূল বিষয় প্রতি-উপকারের কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। তিনি ডেমাস্কাসে একবার ভীষণ বিপদে পড়েন। তখন এক ব্যক্তি তাকে নিঃস্বার্থভাবে আশ্রয় দেন। পরবর্তী সময়ে আলী ইবনে আব্বাস সেই আশ্রয়দাতার প্রাণ বাঁচান। প্রসঙ্গতই এই গল্পে খলিফা মামুনের মহানুভবতার পরিচয় পাওয়া যায়, যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে রয়েছে। গল্পের অন্যান্য বিষয়, বিশেষ করে প্রতি-উপকারের কোন ইঙ্গিত সেখানে নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত ছেলে আশিকের মা-বাবা তার মতামত না নিয়েই সাবরিনার সাথে বিয়ে ঠিক করে। সাবরিনার বাবার অঢেল সম্পদ। গোপনে ঘটকের মধ্যস্থতায় এ বিয়েতে বরপক্ষকে নগদ টাকা, গাড়ি এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু যৌতুকের বিষয়টি জানতে পেরে আশিক ও সাবরিনা বেঁকে বসে এবং সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীনভাবে পরস্পর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ক
অনুপম রেলগাড়িতে করে মাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছিল?

উত্তর

অনুপম রেলগাড়িতে করে মাকে নিয়ে তীর্থে যাচ্ছিল।
খ
"এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।" উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

"এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।"- উক্তিটির মাধ্যমে অনুপম আত্মতুষ্টি লাভের প্রয়াস পেয়েছে। 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামার লোভী ও হীন মানসিকতার কারণে কল্যাণীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ে ভেঙে গেলে সে বিরহে জর্জরিত হয়। একারণেই পরবর্তীতে মনস্তাপে ভেঙে পড়া অনুপম কল্যাণীকে বিয়ে করতে না পেরেও তার কাছাকাছি থাকতে চেয়েছে। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর একদিন মাকে নিয়ে তীর্থে যাওয়ার পথে কল্যাণীকে দেখে মুগ্ধ হয় অনুপম। এরপর তার কাছে ও তার পিতার কাছে ক্ষমা চায় অনুপম। সবকিছু ছেড়ে সে বছরের পর বছর কানপুরে কল্যাণীর কাছাকাছি থাকে। কল্যাণী তাকে ক্ষমা করে দিলেও বিয়েতে রাজি হয়নি। তবুও অনুপম তার দেখা পায়, কণ্ঠ শোনে, সুবিধামতো তার কাজ করে দিয়ে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে নিতে চায়। কল্যাণীকে আশ্রয় করে সেই আনন্দেই সে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছে।
গ
অনুচ্ছেদে সাবরিনার সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কার মিল রয়েছে? কীভাবে?

উত্তর

• অনুচ্ছেদের সাবরিনার সাথে প্রতিবাদী মনোভাবের দিক দিয়ে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর মিল রয়েছে। • নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সমাজে অহরহ দেখা যায়। অবলা বলে তাদের ওপর জোরপূর্বক অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। তবে সাহসী নারীরা এক্ষেত্রে অগ্রগামী। তারা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। • অনুচ্ছেদের সাবরিনার বাবা আশিকের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করে। বাবা গোপনে ঘটকের মধ্যস্থতায় বরপক্ষকে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, গাড়ি এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সাবরিনা তা মেনে নেয়নি, পরে সে বেঁকে বসে। 'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণী চরিত্রেও তার বিয়েতে যৌতুকের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ লক্ষ করা যায়। বরপক্ষ যখন তার বাবার দেওয়া গয়না সেকরা দিয়ে পরীক্ষা করায় তখন তার বাবার সেই বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। সেই ঘটনায় কল্যাণী চরিত্রকে এক সাহসী ও প্রতিবাদী চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায়, যা অনুচ্ছেদের সাবরিনার কর্মকাণ্ডেও লক্ষণীয়।
ঘ
“অনুচ্ছেদে বর্ণিত সামাজিক অসংগতিই 'অপরিচিতা'য় বিস্তৃতি লাভ করেছে।”- মন্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

• "অনুচ্ছেদে বর্ণিত সামাজিক অসংগতিই 'অপরিচিতা'য় বিস্তৃতি লাভ করেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। • সমাজে নানা রকম প্রথা ও অসংগতি বিদ্যমান। যৌতুক বা পণপ্রথা সবচেয়ে বড় সামাজিক ব্যাধি। যৌতুকের কালো থাবায় অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক নারীর সংসার ভাঙে। এমনকি তাদের জীবনও অকালে ঝরে যায়। এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। • অনুচ্ছেদের আশিকের বাবা-মা ছেলের বিয়ে ঠিক করে যৌতুকের বিনিময়ে। যার মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা, বাড়ি-গাড়ি ইত্যাদি। তাদের লোভী মানসিকতার জন্যই সমাজে এই ঘৃণ্য প্রথা এখনো টিকে আছে। 'অপরিচিতা' গল্পেও এ ধরনের অসংগতি পরিদৃষ্ট হয়। অনুপমের মামা তার ভাগ্নের বিয়ে ঠিক করে যৌতুকের বিনিময়ে এবং শেষ পর্যন্ত এই লোভী মানসিকতা ও যৌতুকের কারণেই বিয়ে ভেঙে যায়। • বহুকাল থেকে চলে আসা যৌতুকপ্রথা এখনো আমাদের সমাজে বিদ্যমান। যৌতুকের কারণে এখনো অনেক পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। উদ্দীপকের আশিকের বাবা-মা এবং 'অপরিচিতা' গল্পের মামা এ ধরনের লোভী মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ। 'অপরিচিতা' গল্পের এই সামাজিক অসংগতি অনেকাংশেই অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত হয়েছে। এ দিক থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত ছেলে আশিকের মা-বাবা তার মতামত না নিয়েই সাবরিনার সাথে বিয়ে ঠিক করে। সাবরিনার বাবার অঢেল সম্পদ। গোপনে ঘটকের মধ্যস্থতায় এ বিয়েতে বরপক্ষকে নগদ টাকা, গাড়ি এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু যৌতুকের বিষয়টি জানতে পেরে আশিক ও সাবরিনা বেঁকে বসে এবং সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীনভাবে পরস্পর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ক
অনুপম রেলগাড়িতে করে মাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছিল?

উত্তর

অনুপম রেলগাড়িতে করে মাকে নিয়ে তীর্থে যাচ্ছিল।
খ
"এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।" উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

"এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।"- উক্তিটির মাধ্যমে অনুপম আত্মতুষ্টি লাভের প্রয়াস পেয়েছে। 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামার লোভী ও হীন মানসিকতার কারণে কল্যাণীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ে ভেঙে গেলে সে বিরহে জর্জরিত হয়। একারণেই পরবর্তীতে মনস্তাপে ভেঙে পড়া অনুপম কল্যাণীকে বিয়ে করতে না পেরেও তার কাছাকাছি থাকতে চেয়েছে। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর একদিন মাকে নিয়ে তীর্থে যাওয়ার পথে কল্যাণীকে দেখে মুগ্ধ হয় অনুপম। এরপর তার কাছে ও তার পিতার কাছে ক্ষমা চায় অনুপম। সবকিছু ছেড়ে সে বছরের পর বছর কানপুরে কল্যাণীর কাছাকাছি থাকে। কল্যাণী তাকে ক্ষমা করে দিলেও বিয়েতে রাজি হয়নি। তবুও অনুপম তার দেখা পায়, কণ্ঠ শোনে, সুবিধামতো তার কাজ করে দিয়ে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে নিতে চায়। কল্যাণীকে আশ্রয় করে সেই আনন্দেই সে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছে।
গ
অনুচ্ছেদে সাবরিনার সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কার মিল রয়েছে? কীভাবে?

উত্তর

• অনুচ্ছেদের সাবরিনার সাথে প্রতিবাদী মনোভাবের দিক দিয়ে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর মিল রয়েছে। • নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সমাজে অহরহ দেখা যায়। অবলা বলে তাদের ওপর জোরপূর্বক অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। তবে সাহসী নারীরা এক্ষেত্রে অগ্রগামী। তারা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। • অনুচ্ছেদের সাবরিনার বাবা আশিকের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করে। বাবা গোপনে ঘটকের মধ্যস্থতায় বরপক্ষকে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, গাড়ি এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সাবরিনা তা মেনে নেয়নি, পরে সে বেঁকে বসে। 'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণী চরিত্রেও তার বিয়েতে যৌতুকের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ লক্ষ করা যায়। বরপক্ষ যখন তার বাবার দেওয়া গয়না সেকরা দিয়ে পরীক্ষা করায় তখন তার বাবার সেই বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। সেই ঘটনায় কল্যাণী চরিত্রকে এক সাহসী ও প্রতিবাদী চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায়, যা অনুচ্ছেদের সাবরিনার কর্মকাণ্ডেও লক্ষণীয়।
ঘ
“অনুচ্ছেদে বর্ণিত সামাজিক অসংগতিই 'অপরিচিতা'য় বিস্তৃতি লাভ করেছে।”- মন্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উত্তর

• "অনুচ্ছেদে বর্ণিত সামাজিক অসংগতিই 'অপরিচিতা'য় বিস্তৃতি লাভ করেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। • সমাজে নানা রকম প্রথা ও অসংগতি বিদ্যমান। যৌতুক বা পণপ্রথা সবচেয়ে বড় সামাজিক ব্যাধি। যৌতুকের কালো থাবায় অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক নারীর সংসার ভাঙে। এমনকি তাদের জীবনও অকালে ঝরে যায়। এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। • অনুচ্ছেদের আশিকের বাবা-মা ছেলের বিয়ে ঠিক করে যৌতুকের বিনিময়ে। যার মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা, বাড়ি-গাড়ি ইত্যাদি। তাদের লোভী মানসিকতার জন্যই সমাজে এই ঘৃণ্য প্রথা এখনো টিকে আছে। 'অপরিচিতা' গল্পেও এ ধরনের অসংগতি পরিদৃষ্ট হয়। অনুপমের মামা তার ভাগ্নের বিয়ে ঠিক করে যৌতুকের বিনিময়ে এবং শেষ পর্যন্ত এই লোভী মানসিকতা ও যৌতুকের কারণেই বিয়ে ভেঙে যায়। • বহুকাল থেকে চলে আসা যৌতুকপ্রথা এখনো আমাদের সমাজে বিদ্যমান। যৌতুকের কারণে এখনো অনেক পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। উদ্দীপকের আশিকের বাবা-মা এবং 'অপরিচিতা' গল্পের মামা এ ধরনের লোভী মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ। 'অপরিচিতা' গল্পের এই সামাজিক অসংগতি অনেকাংশেই অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত হয়েছে। এ দিক থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো