অন্ধবধূ বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর অন্ধবধূ অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১১৩

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

সদ্য বিবাহিতা ঝিল জন্ম থেকেই বোবা ও বধির। তার স্বামী সঞ্জু কখনো তাকে বুঝতে দেয়নি যে, সে শারীরিকভাবে অন্যদের থেকে ভিন্ন। বরং পরম যত্নে সে ঝিলকে আগলে রাখে। সেদিক থেকে ঝিল নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করে। তার মনে হয় সে অক্ষম বলেই তার স্বামী বেশি ভালোবাসে। তাই জীবনে তার কোনো দুঃখ নেই, কোনো অপূর্ণতা নেই।
দখিনা হাওয়া বন্ধ হলে কী ধরে নিতে হবে?

উত্তর

দখিনা হাওয়া বন্ধ হলে ধরে নিতে হবে, প্রকৃতিতে জ্যৈষ্ঠ মাস এসেছে।
অন্ধবধূর ইন্দ্রিয়সচেতনতা কীভাবে কাজ করে?

উত্তর

জগতের রূপ-রস-গন্ধ অনুভব করার মধ্য দিয়ে অন্ধবধূর ইন্দ্রিয় সচেতনতা কাজ করে। অন্ধবধূর চোখ না থাকলেও তার অন্যান্য ইন্দ্রিয় অত্যন্ত সচেতনভাবে কাজ করে। সে পায়ের নিচে ঝরা বকুলের কোমলতা অনুভব করে এবং কোকিলের ডাক শুনে সময়ের পরিবর্তন বোঝে। দখিনা বাতাসের স্পর্শে ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পায় এবং দিঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ির শ্যাওলার পিছলতা বুঝতে পারে। তার অনুভূতিগুলো অত্যন্ত তীক্ষ্ণ, যা তাকে চারপাশের পরিবর্তন বুঝতে সাহায্য করে। এভাবেই অন্ধবধূর ইন্দ্রিয় সচেতনতা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের ঝিলের সঙ্গে অন্ধবধূর বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জীবনধারণের দিক থেকে উদ্দীপকের ঝিলের সঙ্গে অন্ধবধূটির সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। 'অন্ধবধূ' কবিতায় দৃষ্টিহীনতার কারণে বধূটির সামাজিক মূল্যায়ন কমে যায়। চোখ না থাকায় কেউ তাকে গুরুত্ব দেয় না, বরং দয়া করে টেনে নিয়ে যেতে চায়। এতে তার আত্মসম্মান আহত হয়। কবি দেখিয়েছেন- প্রতিবন্ধকতা শুধু শারীরিক দুর্বলতা নয়; সমাজের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণও অনেক সময় বড় যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের ঝিলের জীবনপ্রবাহে দেখা যায়, সে জন্ম থেকেই বোবা ও বধির। তার স্বামী তার এই প্রতিবন্ধিতাকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার না করে ইতিবাচক ভাবে তার ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে। স্বামীর এরকম আচরণে ঝিলের জীবনে কোনো দুঃখ বা অপূর্ণতা নেই। ঝিলের জীবনের বিপরীত প্রতিচ্ছবি দেখা যায় 'অন্ধবধূ' কবিতার গৃহবধূটির জীবনে। ঝিলের জীবন যেখানে ইতিবাচকথায় পরিপূর্ণ সেখানে গৃহবধূটির জীবন নেতিবাচকায় বিষাদময় হয়ে উঠেছে। এভাবে উদ্দীপকের ঝিল এবং 'অন্ধবধূ' কবিতার গৃহবধূ উভয়ের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা থাকলেও জীবনধারণের দিক থেকে তাদের দুজনের জীবন সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী।
অন্ধবধূর স্বামী যদি ঝিলের স্বামীর মতো হতো তবে তার জীবনটা অন্যরকম হতো- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

অন্ধবধূর স্বামী যদি তাকে ভালোবাসত তবে তাকে মরণকে কামনা করতে হতো না বিধায় বলা যায়, "অন্ধবধূর স্বামী যদি ঝিলের স্বামীর মতো হতো তবে তার জীবনটা অন্যরকম হতো" মন্তব্যটি যথার্থ। 'অন্ধবধূ' কবিতায় দেখা যায়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের স্বাভাবিক মানুষরা অবহেলা করলেও তাদের জন্য প্রকৃতি হয়ে ওঠে মানবিক স্নেহের প্রতীক। নদীর জল তাকে মায়ের মতো সান্ত্বনা দেয়, কথা বলার সুযোগ দেয়। মানুষ যেখানেই তার ব্যথা শুনতে চায় না, প্রকৃতি সেখানে সহমর্মিতা দেখায়। তাদের জীবনের ব্যথা নিরাময়ে প্রকৃতি হয়ে ওঠে বড় আশ্রয়। উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, সদ্যবিবাহিত বোবা ও বধির ঝিলের স্বামীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে ঝিলের জীবন হয়ে উঠেছে ইতিবাচকতায় পরিপূর্ণ। স্বামীর ভালোবাসার কারণে তার জীবনে আর কোনো দুঃখ বা অপূর্ণতা নেই। উদ্দীপকের ঝিলের স্বামীর মতো 'অন্ধবধূ' কবিতার গৃহবধূটির স্বামী হলে তার জীবনে ঝিলের মতো কোনো দুঃখ বা অপূর্ণতা থাকত না। 'অন্ধবধূ' কবিতার ভাববস্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দৃষ্টিহীন গৃহবধূটি সবার অবজ্ঞা ও অবহেলায় ঘরের কোণে নিঃসঙ্গ ও বন্দি জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তার জীবনে কোনো সুখ নেই। স্বামী তার খোঁজখবর পর্যন্ত রাখে না। এক্ষেত্রে তার স্বামী যদি উদ্দীপকের ঝিলের স্বামীর মতো হতো তবে তার জীবন হয়ে উঠত সুখে ও শান্তিতে পরিপূর্ণ। তাই বলা যায়, অন্ধবধূর স্বামী যদি ঝিলের স্বামীর মতো হতো তবে তার জীবনটা অন্যরকম হতো।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

সদ্য বিবাহিতা ঝিল জন্ম থেকেই বোবা ও বধির। তার স্বামী সঞ্জু কখনো তাকে বুঝতে দেয়নি যে, সে শারীরিকভাবে অন্যদের থেকে ভিন্ন। বরং পরম যত্নে সে ঝিলকে আগলে রাখে। সেদিক থেকে ঝিল নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করে। তার মনে হয় সে অক্ষম বলেই তার স্বামী বেশি ভালোবাসে। তাই জীবনে তার কোনো দুঃখ নেই, কোনো অপূর্ণতা নেই।
দখিনা হাওয়া বন্ধ হলে কী ধরে নিতে হবে?

উত্তর

দখিনা হাওয়া বন্ধ হলে ধরে নিতে হবে, প্রকৃতিতে জ্যৈষ্ঠ মাস এসেছে।
অন্ধবধূর ইন্দ্রিয়সচেতনতা কীভাবে কাজ করে?

উত্তর

জগতের রূপ-রস-গন্ধ অনুভব করার মধ্য দিয়ে অন্ধবধূর ইন্দ্রিয় সচেতনতা কাজ করে। অন্ধবধূর চোখ না থাকলেও তার অন্যান্য ইন্দ্রিয় অত্যন্ত সচেতনভাবে কাজ করে। সে পায়ের নিচে ঝরা বকুলের কোমলতা অনুভব করে এবং কোকিলের ডাক শুনে সময়ের পরিবর্তন বোঝে। দখিনা বাতাসের স্পর্শে ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পায় এবং দিঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ির শ্যাওলার পিছলতা বুঝতে পারে। তার অনুভূতিগুলো অত্যন্ত তীক্ষ্ণ, যা তাকে চারপাশের পরিবর্তন বুঝতে সাহায্য করে। এভাবেই অন্ধবধূর ইন্দ্রিয় সচেতনতা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের ঝিলের সঙ্গে অন্ধবধূর বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জীবনধারণের দিক থেকে উদ্দীপকের ঝিলের সঙ্গে অন্ধবধূটির সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। 'অন্ধবধূ' কবিতায় দৃষ্টিহীনতার কারণে বধূটির সামাজিক মূল্যায়ন কমে যায়। চোখ না থাকায় কেউ তাকে গুরুত্ব দেয় না, বরং দয়া করে টেনে নিয়ে যেতে চায়। এতে তার আত্মসম্মান আহত হয়। কবি দেখিয়েছেন- প্রতিবন্ধকতা শুধু শারীরিক দুর্বলতা নয়; সমাজের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণও অনেক সময় বড় যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের ঝিলের জীবনপ্রবাহে দেখা যায়, সে জন্ম থেকেই বোবা ও বধির। তার স্বামী তার এই প্রতিবন্ধিতাকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার না করে ইতিবাচক ভাবে তার ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে। স্বামীর এরকম আচরণে ঝিলের জীবনে কোনো দুঃখ বা অপূর্ণতা নেই। ঝিলের জীবনের বিপরীত প্রতিচ্ছবি দেখা যায় 'অন্ধবধূ' কবিতার গৃহবধূটির জীবনে। ঝিলের জীবন যেখানে ইতিবাচকথায় পরিপূর্ণ সেখানে গৃহবধূটির জীবন নেতিবাচকায় বিষাদময় হয়ে উঠেছে। এভাবে উদ্দীপকের ঝিল এবং 'অন্ধবধূ' কবিতার গৃহবধূ উভয়ের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা থাকলেও জীবনধারণের দিক থেকে তাদের দুজনের জীবন সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী।
অন্ধবধূর স্বামী যদি ঝিলের স্বামীর মতো হতো তবে তার জীবনটা অন্যরকম হতো- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

অন্ধবধূর স্বামী যদি তাকে ভালোবাসত তবে তাকে মরণকে কামনা করতে হতো না বিধায় বলা যায়, "অন্ধবধূর স্বামী যদি ঝিলের স্বামীর মতো হতো তবে তার জীবনটা অন্যরকম হতো" মন্তব্যটি যথার্থ। 'অন্ধবধূ' কবিতায় দেখা যায়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের স্বাভাবিক মানুষরা অবহেলা করলেও তাদের জন্য প্রকৃতি হয়ে ওঠে মানবিক স্নেহের প্রতীক। নদীর জল তাকে মায়ের মতো সান্ত্বনা দেয়, কথা বলার সুযোগ দেয়। মানুষ যেখানেই তার ব্যথা শুনতে চায় না, প্রকৃতি সেখানে সহমর্মিতা দেখায়। তাদের জীবনের ব্যথা নিরাময়ে প্রকৃতি হয়ে ওঠে বড় আশ্রয়। উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, সদ্যবিবাহিত বোবা ও বধির ঝিলের স্বামীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে ঝিলের জীবন হয়ে উঠেছে ইতিবাচকতায় পরিপূর্ণ। স্বামীর ভালোবাসার কারণে তার জীবনে আর কোনো দুঃখ বা অপূর্ণতা নেই। উদ্দীপকের ঝিলের স্বামীর মতো 'অন্ধবধূ' কবিতার গৃহবধূটির স্বামী হলে তার জীবনে ঝিলের মতো কোনো দুঃখ বা অপূর্ণতা থাকত না। 'অন্ধবধূ' কবিতার ভাববস্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দৃষ্টিহীন গৃহবধূটি সবার অবজ্ঞা ও অবহেলায় ঘরের কোণে নিঃসঙ্গ ও বন্দি জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তার জীবনে কোনো সুখ নেই। স্বামী তার খোঁজখবর পর্যন্ত রাখে না। এক্ষেত্রে তার স্বামী যদি উদ্দীপকের ঝিলের স্বামীর মতো হতো তবে তার জীবন হয়ে উঠত সুখে ও শান্তিতে পরিপূর্ণ। তাই বলা যায়, অন্ধবধূর স্বামী যদি ঝিলের স্বামীর মতো হতো তবে তার জীবনটা অন্যরকম হতো।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

অসীম গত বছর এক দুর্ঘটনায় দুটি চোখই হারায়। এখন সে অন্ধ হয়ে এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। তাকে নিয়ে পরিবারের সবাই বড় কষ্টে আছে। এমনকি তার স্ত্রী এখন আর তাকে সহ্য করতে পারে না। মুখ ফুটে কিছু না বললেও তাদের কাজকর্ম তাকে জানিয়ে দেয় যে, সবাই তাকে নিয়ে খুব কষ্টে আছে। এদিকে অসীমও দুর্বিষহ জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছে। এখন সে সর্বদা নিজের মৃত্যু কামনা করে।
'অন্ধবধূ' কবিতায় কোন ফুলের উল্লেখ আছে?

উত্তর

অন্ধবধূ' কবিতায় বকুল' ফুলের উল্লেখ রয়েছে।
কীসের পরশ মায়ের স্নেহের মতো?- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

'অন্ধবধূ' কবিতায় দিঘির শীতল জলের পরশ মায়ের স্নেহের মতো। 'অন্ধবধূ' কবিতায় বলা হয়েছে, দিঘির শীতল জল অন্ধবধূর কাছে মায়ের স্নেহের মতো মনে হয়। কারণ এই জল তাকে প্রশান্তি দেয়, তার মনের ব্যথা কিছুটা হলেও ভুলিয়ে রাখে। একলা গৃহকোণে আবদ্ধ গৃহবধূ তার দুর্বিষহ জীবনে এই দিঘির জলে পেয়েছে স্নেহের ছোঁয়া। মা যেমন সন্তানকে স্নেহ দিয়ে আগলে রাখে, দিঘির জলও তেমনই তার ক্লান্ত আত্মাকে আশ্রয় দেয়, তার অন্তরের যন্ত্রণা লাঘব করে। তাই অন্ধবধূ মনে করে, এই জলের মধ্যে ডুবে গিয়ে সে যেন আবার মায়ের কোল ফিরে পাবে।
উদ্দীপকে 'অন্ধবধূ' কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে 'অন্ধবধূ' কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা হচ্ছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের অসহায়ত্ব। 'অন্ধবধূ' কবিতায় বধূটি বুঝে গেছে, তার নিজের দুঃখ শুধু সেই বুঝবে। কারও কাছে অভিযোগ বা কথা বলার কেউ নেই। তাই প্রকৃতির সাথে কথা বলেই সে বেঁচে থাকে। নদীর শীতলতা তাকে ব্যথা ভুলতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক মানুষদের কাছ থেকে অবহেলা অবজ্ঞা পেয়ে সে প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নিয়েছে নীরব আশ্রয়। উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় দুচোখ হারিয়ে অন্ধ হয়ে গেছে অসীম। পর্যায়ক্রমে তার পরিবারসহ সকলেই তার প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। সে নিজেও এই দুর্বিষহ জীবনে হাঁপিয়ে ওঠে এবং মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিত্রাণ পেতে চায়। উদ্দীপকের অসীমের সঙ্গে 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূটির জীবনচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ অন্ধবধূ তার এই দুর্বিষহ জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং দিঘির জলে নিজেকে সমর্পণ করে পরিত্রাণ পেতে চায়। এভাবে উদ্দীপকে 'অন্ধবধূ' কবিতার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের অসহায়ত্বের দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

মূলভাবের দিক থেকে বলা যায়, হ্যাঁ, উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। 'অন্ধবধূ' কবিতায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সাথে মানসিক যন্ত্রণার গভীর সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। অন্ধ নারী চারপাশ অনুধাবন করে স্পর্শ, গন্ধ ও শব্দে। তবু প্রতিটি পদক্ষেপে ভয়, অনিশ্চয়তা আর জীবনের ঝুঁকি তাকে অনুসরণ করে। এর মাধ্যমে কবি প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন। উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায় দুর্ঘটনায় দুচোখ হারিয়ে অসহায় জীবনযাপন করতে থাকে অসীম। তার এই অসহায় জীবনে তার পরিবারসহ সকলের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তার জীবনকে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তোলে। ফলে সে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জীবনের মুক্তি খুঁজে নিতে চায়। অসীমের জীবনের এই প্রতিচ্ছবি 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। 'অন্ধবধূ' কবিতায় দেখা যায়, অন্ধবধূটি দুচোখে দেখে না। তার এই অসহায় জীবনে সে সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়ে ঘরের এক কোণে বদ্ধ জীবনযাপন করছে। পরিণতিতে সে দিঘির জলে নিজেকে সমর্পণ করার মধ্য দিয়ে জীবনের মুক্তি খুঁজে নিতে চায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

অসীম গত বছর এক দুর্ঘটনায় দুটি চোখই হারায়। এখন সে অন্ধ হয়ে এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। তাকে নিয়ে পরিবারের সবাই বড় কষ্টে আছে। এমনকি তার স্ত্রী এখন আর তাকে সহ্য করতে পারে না। মুখ ফুটে কিছু না বললেও তাদের কাজকর্ম তাকে জানিয়ে দেয় যে, সবাই তাকে নিয়ে খুব কষ্টে আছে। এদিকে অসীমও দুর্বিষহ জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছে। এখন সে সর্বদা নিজের মৃত্যু কামনা করে।
'অন্ধবধূ' কবিতায় কোন ফুলের উল্লেখ আছে?

উত্তর

অন্ধবধূ' কবিতায় বকুল' ফুলের উল্লেখ রয়েছে।
কীসের পরশ মায়ের স্নেহের মতো?- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

'অন্ধবধূ' কবিতায় দিঘির শীতল জলের পরশ মায়ের স্নেহের মতো। 'অন্ধবধূ' কবিতায় বলা হয়েছে, দিঘির শীতল জল অন্ধবধূর কাছে মায়ের স্নেহের মতো মনে হয়। কারণ এই জল তাকে প্রশান্তি দেয়, তার মনের ব্যথা কিছুটা হলেও ভুলিয়ে রাখে। একলা গৃহকোণে আবদ্ধ গৃহবধূ তার দুর্বিষহ জীবনে এই দিঘির জলে পেয়েছে স্নেহের ছোঁয়া। মা যেমন সন্তানকে স্নেহ দিয়ে আগলে রাখে, দিঘির জলও তেমনই তার ক্লান্ত আত্মাকে আশ্রয় দেয়, তার অন্তরের যন্ত্রণা লাঘব করে। তাই অন্ধবধূ মনে করে, এই জলের মধ্যে ডুবে গিয়ে সে যেন আবার মায়ের কোল ফিরে পাবে।
উদ্দীপকে 'অন্ধবধূ' কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে 'অন্ধবধূ' কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা হচ্ছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের অসহায়ত্ব। 'অন্ধবধূ' কবিতায় বধূটি বুঝে গেছে, তার নিজের দুঃখ শুধু সেই বুঝবে। কারও কাছে অভিযোগ বা কথা বলার কেউ নেই। তাই প্রকৃতির সাথে কথা বলেই সে বেঁচে থাকে। নদীর শীতলতা তাকে ব্যথা ভুলতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক মানুষদের কাছ থেকে অবহেলা অবজ্ঞা পেয়ে সে প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নিয়েছে নীরব আশ্রয়। উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় দুচোখ হারিয়ে অন্ধ হয়ে গেছে অসীম। পর্যায়ক্রমে তার পরিবারসহ সকলেই তার প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। সে নিজেও এই দুর্বিষহ জীবনে হাঁপিয়ে ওঠে এবং মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিত্রাণ পেতে চায়। উদ্দীপকের অসীমের সঙ্গে 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূটির জীবনচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ অন্ধবধূ তার এই দুর্বিষহ জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং দিঘির জলে নিজেকে সমর্পণ করে পরিত্রাণ পেতে চায়। এভাবে উদ্দীপকে 'অন্ধবধূ' কবিতার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের অসহায়ত্বের দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

মূলভাবের দিক থেকে বলা যায়, হ্যাঁ, উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। 'অন্ধবধূ' কবিতায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সাথে মানসিক যন্ত্রণার গভীর সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। অন্ধ নারী চারপাশ অনুধাবন করে স্পর্শ, গন্ধ ও শব্দে। তবু প্রতিটি পদক্ষেপে ভয়, অনিশ্চয়তা আর জীবনের ঝুঁকি তাকে অনুসরণ করে। এর মাধ্যমে কবি প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন। উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায় দুর্ঘটনায় দুচোখ হারিয়ে অসহায় জীবনযাপন করতে থাকে অসীম। তার এই অসহায় জীবনে তার পরিবারসহ সকলের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তার জীবনকে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তোলে। ফলে সে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জীবনের মুক্তি খুঁজে নিতে চায়। অসীমের জীবনের এই প্রতিচ্ছবি 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। 'অন্ধবধূ' কবিতায় দেখা যায়, অন্ধবধূটি দুচোখে দেখে না। তার এই অসহায় জীবনে সে সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়ে ঘরের এক কোণে বদ্ধ জীবনযাপন করছে। পরিণতিতে সে দিঘির জলে নিজেকে সমর্পণ করার মধ্য দিয়ে জীবনের মুক্তি খুঁজে নিতে চায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

প্রতিবন্ধীরা জীবনের স্বতঃস্ফূর্ত ধারায় অন্যদের মতো সমতালে পা মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু যথাযথ মনোযোগ, সহযোগিত ও সুযোগ পেলে তারাও দুঃখের অন্ধকার ছেড়ে স্বনির্ভর এক আলোচিত জীবনের অধিকারী হতে পারে, এমনকি হয়ে উঠতে পারে বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। অন্ধত্বকে অস্বীকার করে যেমন পেয়েছেন 'ইলিয়াড', 'ওডেসি' রচয়িতা মহাকবি হোমার কিংবা বিটোফেন, বি নিজের বধিরতা সত্ত্বেও সৃষ্টি করেছেন অপূর্ব সব সুর। আধুনিককালে সাড়া জাগানো বৈজ্ঞানিক স্টিফেন হকিংও প্রতিবন্ধিতাকে পরাভূ করে বিশ্বব্যাপী শ্রদ্ধা ও সম্মান অর্জন করে নিয়েছেন। এমন উদাহরণ অসংখ্য।
শীতল জল কার স্নেহের মতো?

উত্তর

শীতল জল মায়ের স্নেহের মতো।
অন্ধবধূকে কেন অনুভবঋদ্ধ মানুষ বলা যায়?

উত্তর

চারপাশের সবকিছু অনুভব করতে পারে বলেই অন্ধবধূকে অনুভবঋদ্ধ মানুষ বলা যায়। অন্ধবধূ অন্ধত্বের কষ্ট গভীরভাবে অনুভব করে। ইন্দ্রিয় সচেতনতা দিয়ে সে অনেক কিছুই অনুভব করতে পারে। পায়ের তলায় নরম কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে সেটা যে ঝরা বকুল ফুল তা সে বুঝতে পারে। কোকিলের ডাক শুনে নতুন ঋতুর আগমন অনুমান করতে পারে সে। আত্মমর্যাদা বোধেও সে সমৃদ্ধ। সে শ্যাওলায় পা পিছলে ডুবে মরার শঙ্কা করে; অন্ধত্বের অভিশাপ ঘোচার কথা ভাবে। পুকুরঘাটের নতুন সিঁড়ি জেগে ওঠার ব্যাপারটা সে টের পায়। এসব বিবেচনায় অন্ধবধূ অনুভবঋদ্ধ মানুষ।,
উদ্দীপকটির সাথে 'অন্ধবধূ' কবিতার বৈসাদৃশ্যমূলক ভাবটি তুলে ধরো

উত্তর

অন্ধবধূর প্রতিবন্ধিতা অতিক্রম করতে না পারার বিষয়টিই উদ্দীপকের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 'অন্ধবধূ' কবিতায় বধূটি বুঝে গেছে, তার নিজের দুঃখ শুধু সে নিজেই বুঝবে। কারও কাছে অভিযোগ বা কথা বলার কেউ নেই। তাই প্রকৃতির সাথে কথা বলেই সে বেঁচে থাকে। দিঘির স্নিগ্ধ শীতল জল তাকে ব্যথা ভুলতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক মানুষদের কাছ থেকে অবহেলা অবজ্ঞা পেয়ে সে প্রকৃতির মাঝে নীরব আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে। 'অন্ধবধূ' কবিতায় অন্ধবধূটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও অনুভবের সাহায্যে জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। তথাপি প্রতিবন্ধিতাকে অতিক্রম করে সে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষদের মতো কর্মময় হয়ে উঠতে পারেনি। উদ্দীপকটিতে ঠিক এর বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। মহাকবি হোমার, বিটোফেন, স্টিফেন হকিং প্রমুখ বিশ্ববরণীয় ব্যক্তিবর্গ প্রতিবন্ধিতা সত্ত্বেও পুরো পৃথিবীতে নিজ নিজ কর্মগুণে প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। এভাবেই 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর প্রতিবন্ধিতাকে জয় করতে না পারার বিষয়টিই উদ্দীপকের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপক ও 'অন্ধবধূ' কবিতার প্রেক্ষিতে এটি বলা যায়, প্রতিবন্ধীরাও যথার্থ সুযোগ পেলে নিজেদের স্বাভাবিক মানুষের মতোই বিকশিত করে তুলতে পারে।"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

প্রতিবন্ধী মানুষদেরও ইন্দ্রিয়সচেতনা থাকায় "উদ্দীপক ও 'অন্ধবধূ' কবিতার প্রেক্ষিতে এটি বলা যায়, প্রতিবন্ধীরাও যথার্থ সুযোগ পেলে নিজেদের স্বাভাবিক মানুষের মতোই বিকশিত করে তুলতে পারে"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'অন্ধবধূ' কবিতায় বধূটির বাঁচার প্রধান শক্তি হয় অনুভূতি। চোখ নেই, তবুও স্পর্শ, গন্ধ ও শব্দ তাকে বাঁচিয়ে রাখে। এই তিন ইন্দ্রিয় তার পথপ্রদর্শক। কিন্তু এগুলোও সব সময় যথেষ্ট নয়- কারণ বিপদ লুকিয়ে থাকে প্রতিটি মুহূর্তে। কবি দেখিয়েছেন- প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন একই সাথে শক্তিহীনতা ও অসহায়ত্বের সমন্বয়। তাই তাদের প্রতি সকলের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূ যথেষ্ট অনুভবঋদ্ধ মানুষ। তবে একে তো বাংলার পল্লিগ্রামের বধূ তার উপর জন্মান্ধ, তাই সে কখনই বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। এ কারণেই সে স্বনির্ভর নয়। স্বামীর প্রতীক্ষা আর মনের কষ্টে গৃহকোণে বন্দি থাকাই তার জীবন-বাস্তবতা। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, যথাযথ মনোযোগ, সহযোগিতা ও সুযোগ পেলে প্রতিবন্ধীরাও দুঃখের অন্ধকার ছেড়ে স্বনির্ভর এক আলোচিত জীবনের অধিকারী হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ উদ্দীপকে হোমার, বিটোফেন, স্টিফেন হকিংয়ের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের কথা উঠে এসেছে। প্রতিবন্ধীরাও মানুষ। তারাও অন্যদের মতো স্বনির্ভর ও বিকশিত হয়ে উঠতে পারে। তবে এর জন্য তাদের প্রয়োজন সমাজের সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষদের সহযোগিতা ও ভালোবাসা। তাই উদ্দীপক ও 'অন্ধবধূ' কবিতার পরিপ্রেক্ষিতে দ্ব্যর্থহীনভাবেই বলা যায়, যথার্থ সুযোগ, সহযোগিতা, সুবিধা ও ভালোবাসা পেলে প্রতিবন্ধীরাও সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতো নিজেদের বিকশিত করে তুলতে পারে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

প্রতিবন্ধীরা জীবনের স্বতঃস্ফূর্ত ধারায় অন্যদের মতো সমতালে পা মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু যথাযথ মনোযোগ, সহযোগিত ও সুযোগ পেলে তারাও দুঃখের অন্ধকার ছেড়ে স্বনির্ভর এক আলোচিত জীবনের অধিকারী হতে পারে, এমনকি হয়ে উঠতে পারে বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। অন্ধত্বকে অস্বীকার করে যেমন পেয়েছেন 'ইলিয়াড', 'ওডেসি' রচয়িতা মহাকবি হোমার কিংবা বিটোফেন, বি নিজের বধিরতা সত্ত্বেও সৃষ্টি করেছেন অপূর্ব সব সুর। আধুনিককালে সাড়া জাগানো বৈজ্ঞানিক স্টিফেন হকিংও প্রতিবন্ধিতাকে পরাভূ করে বিশ্বব্যাপী শ্রদ্ধা ও সম্মান অর্জন করে নিয়েছেন। এমন উদাহরণ অসংখ্য।
শীতল জল কার স্নেহের মতো?

উত্তর

শীতল জল মায়ের স্নেহের মতো।
অন্ধবধূকে কেন অনুভবঋদ্ধ মানুষ বলা যায়?

উত্তর

চারপাশের সবকিছু অনুভব করতে পারে বলেই অন্ধবধূকে অনুভবঋদ্ধ মানুষ বলা যায়। অন্ধবধূ অন্ধত্বের কষ্ট গভীরভাবে অনুভব করে। ইন্দ্রিয় সচেতনতা দিয়ে সে অনেক কিছুই অনুভব করতে পারে। পায়ের তলায় নরম কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে সেটা যে ঝরা বকুল ফুল তা সে বুঝতে পারে। কোকিলের ডাক শুনে নতুন ঋতুর আগমন অনুমান করতে পারে সে। আত্মমর্যাদা বোধেও সে সমৃদ্ধ। সে শ্যাওলায় পা পিছলে ডুবে মরার শঙ্কা করে; অন্ধত্বের অভিশাপ ঘোচার কথা ভাবে। পুকুরঘাটের নতুন সিঁড়ি জেগে ওঠার ব্যাপারটা সে টের পায়। এসব বিবেচনায় অন্ধবধূ অনুভবঋদ্ধ মানুষ।,
উদ্দীপকটির সাথে 'অন্ধবধূ' কবিতার বৈসাদৃশ্যমূলক ভাবটি তুলে ধরো

উত্তর

অন্ধবধূর প্রতিবন্ধিতা অতিক্রম করতে না পারার বিষয়টিই উদ্দীপকের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 'অন্ধবধূ' কবিতায় বধূটি বুঝে গেছে, তার নিজের দুঃখ শুধু সে নিজেই বুঝবে। কারও কাছে অভিযোগ বা কথা বলার কেউ নেই। তাই প্রকৃতির সাথে কথা বলেই সে বেঁচে থাকে। দিঘির স্নিগ্ধ শীতল জল তাকে ব্যথা ভুলতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক মানুষদের কাছ থেকে অবহেলা অবজ্ঞা পেয়ে সে প্রকৃতির মাঝে নীরব আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে। 'অন্ধবধূ' কবিতায় অন্ধবধূটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও অনুভবের সাহায্যে জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। তথাপি প্রতিবন্ধিতাকে অতিক্রম করে সে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষদের মতো কর্মময় হয়ে উঠতে পারেনি। উদ্দীপকটিতে ঠিক এর বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। মহাকবি হোমার, বিটোফেন, স্টিফেন হকিং প্রমুখ বিশ্ববরণীয় ব্যক্তিবর্গ প্রতিবন্ধিতা সত্ত্বেও পুরো পৃথিবীতে নিজ নিজ কর্মগুণে প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। এভাবেই 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর প্রতিবন্ধিতাকে জয় করতে না পারার বিষয়টিই উদ্দীপকের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপক ও 'অন্ধবধূ' কবিতার প্রেক্ষিতে এটি বলা যায়, প্রতিবন্ধীরাও যথার্থ সুযোগ পেলে নিজেদের স্বাভাবিক মানুষের মতোই বিকশিত করে তুলতে পারে।"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর

প্রতিবন্ধী মানুষদেরও ইন্দ্রিয়সচেতনা থাকায় "উদ্দীপক ও 'অন্ধবধূ' কবিতার প্রেক্ষিতে এটি বলা যায়, প্রতিবন্ধীরাও যথার্থ সুযোগ পেলে নিজেদের স্বাভাবিক মানুষের মতোই বিকশিত করে তুলতে পারে"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'অন্ধবধূ' কবিতায় বধূটির বাঁচার প্রধান শক্তি হয় অনুভূতি। চোখ নেই, তবুও স্পর্শ, গন্ধ ও শব্দ তাকে বাঁচিয়ে রাখে। এই তিন ইন্দ্রিয় তার পথপ্রদর্শক। কিন্তু এগুলোও সব সময় যথেষ্ট নয়- কারণ বিপদ লুকিয়ে থাকে প্রতিটি মুহূর্তে। কবি দেখিয়েছেন- প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন একই সাথে শক্তিহীনতা ও অসহায়ত্বের সমন্বয়। তাই তাদের প্রতি সকলের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূ যথেষ্ট অনুভবঋদ্ধ মানুষ। তবে একে তো বাংলার পল্লিগ্রামের বধূ তার উপর জন্মান্ধ, তাই সে কখনই বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। এ কারণেই সে স্বনির্ভর নয়। স্বামীর প্রতীক্ষা আর মনের কষ্টে গৃহকোণে বন্দি থাকাই তার জীবন-বাস্তবতা। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, যথাযথ মনোযোগ, সহযোগিতা ও সুযোগ পেলে প্রতিবন্ধীরাও দুঃখের অন্ধকার ছেড়ে স্বনির্ভর এক আলোচিত জীবনের অধিকারী হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ উদ্দীপকে হোমার, বিটোফেন, স্টিফেন হকিংয়ের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিদের কথা উঠে এসেছে। প্রতিবন্ধীরাও মানুষ। তারাও অন্যদের মতো স্বনির্ভর ও বিকশিত হয়ে উঠতে পারে। তবে এর জন্য তাদের প্রয়োজন সমাজের সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষদের সহযোগিতা ও ভালোবাসা। তাই উদ্দীপক ও 'অন্ধবধূ' কবিতার পরিপ্রেক্ষিতে দ্ব্যর্থহীনভাবেই বলা যায়, যথার্থ সুযোগ, সহযোগিতা, সুবিধা ও ভালোবাসা পেলে প্রতিবন্ধীরাও সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতো নিজেদের বিকশিত করে তুলতে পারে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSC বাংলা ১ম পত্র — অন্ধবধূ MCQ | Prosthuti