উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৮১

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

“দেখিনু সেদিন রেলে, কুলি বলে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে! চোখ ফেটে এল জল, এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?”

Dinajpur · 2020

বোধন বাঁশি কী?

উত্তর

বোধন বাঁশি হলো বোধ জাগিয়ে তোলার বাঁশি।
'দেখিবে বিশ্ব তোমাকে নমস্কার করিবে।' ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'দেখিবে বিশ্ব তোমাকে নমস্কার করিবে।'- কথাটির মাধ্যমে লেখক সমাজের উপেক্ষিতদের আপন করে নেওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করেছেন। বিশ্বের বুকে মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর পূর্বশর্ত হলো মানুষের মধ্যকার ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণিবৈষম্য দূর করা। যেসব দেশ মানুষের মধ্যকার এসব বিভেদের প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে সেসব দেশ ইতোমধ্যে উন্নতি ও সমৃদ্ধি লাভ করেছে। তাই বিভেদ নয়, সব শ্রেণির মানুষকে আপন করে নিতে হবে। তবেই বিশ্ব আমাদের নমস্কার করবে। লেখক এখানে সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকের 'কুলি' 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের যাদের প্রতিনিধিত্ব করে তাদের সম্পর্কে আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের 'কুলি' 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের তথাকথিত ছোটলোক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে। শ্রমজীবী মানুষের অবদান সমাজে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সমাজের তথা রাষ্ট্রের ধনিক শ্রেণি তা ভুলে গিয়ে তাদের অবহেলা করে। অথচ এসব মানুষের শ্রমে ও ঘামে আমাদের সমাজ-সংসার টিকে থাকে। উদ্দীপকের 'কুলি' একজন শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ। সে বাবু সাহেবের নির্যাতনের শিকার। কুলি বলে বাবু সাহেব তাকে অবহেলার সঙ্গে ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। শোষিত ও নির্যাতিত হওয়ার দিক থেকে কুলি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের তথাকথিত ছোটলোক শ্রেণির প্রতিনিধি। প্রবন্ধে বলা হয়েছে সমাজের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষদের ছোটলোক বলে উপেক্ষা ও অবহেলা করা হয়। খেটে খাওয়া এসব মানুষের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ, মুক্ত ও উদার। অথচ তাদের উপেক্ষা ও ঘৃণা করে দূরে সারিয়ে রাখে ধনিক শ্রেণি। দেশের তথাকথিত সেই ভদ্রলোকেরা তাদের শোষন ও নির্যাতন করে। শ্রমজীবীদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। তাই বলা যায় যে, উপেক্ষিত ও নির্যাতিত হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের 'কুলি' আলোচ্য প্রবন্ধের তথাকথিত ছোটলোক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে।
“উদ্দীপকে উল্লিখিত বাবু' সা'ব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

"উদ্দীপকে উল্লিখিত বাবু সা'ব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের আভিজাত্যগর্বিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।”- মন্তব্যটি যথার্থ। একটি জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে সেই দেশের কর্মজীবী খেটে খাওয়া মানুষদের কর্মপ্রচেষ্টার ওপর। কারণ তারা দেশের বৃহৎ একটা শক্তি। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ আছে যারা এসব মানুষকে শোষণ ও নির্যাতন করে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে বলা হয়েছে আমাদের সমাজে এক শ্রেণির সুবিধাভোগী মানুষ রয়েছে। তারা নিজেদের ভদ্র সম্প্রদায় হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা সমাজের নির্মাতা শ্রমজীবী মানুষদের নানাভাবে শোষণ করে। তাদের কোণঠাসা করে রাখে। তাদের শক্তিকে উপেক্ষা করে সমাজে উঁচু-নিচু বিভেদ সৃষ্টি করে। আভিজাত্যের অহংকারে তারা শ্রমজীবী মানুষদের ওপর অত্যাচার চালায়। এসব বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে উদ্দীপকের বাবু সা'ব অভিজাত সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধি। কারণ সে স্টেশনের কুলিকে ছোটলোক বলে উপেক্ষা করে ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়ের যে অমানবিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন তা উদ্দীপকের বাবু সা'ব চরিত্রে প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

“দেখিনু সেদিন রেলে, কুলি বলে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে! চোখ ফেটে এল জল, এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?”

Dinajpur · 2020

বোধন বাঁশি কী?

উত্তর

বোধন বাঁশি হলো বোধ জাগিয়ে তোলার বাঁশি।
'দেখিবে বিশ্ব তোমাকে নমস্কার করিবে।' ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

'দেখিবে বিশ্ব তোমাকে নমস্কার করিবে।'- কথাটির মাধ্যমে লেখক সমাজের উপেক্ষিতদের আপন করে নেওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করেছেন। বিশ্বের বুকে মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়ানোর পূর্বশর্ত হলো মানুষের মধ্যকার ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণিবৈষম্য দূর করা। যেসব দেশ মানুষের মধ্যকার এসব বিভেদের প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে সেসব দেশ ইতোমধ্যে উন্নতি ও সমৃদ্ধি লাভ করেছে। তাই বিভেদ নয়, সব শ্রেণির মানুষকে আপন করে নিতে হবে। তবেই বিশ্ব আমাদের নমস্কার করবে। লেখক এখানে সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকের 'কুলি' 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের যাদের প্রতিনিধিত্ব করে তাদের সম্পর্কে আলোচনা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের 'কুলি' 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের তথাকথিত ছোটলোক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে। শ্রমজীবী মানুষের অবদান সমাজে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সমাজের তথা রাষ্ট্রের ধনিক শ্রেণি তা ভুলে গিয়ে তাদের অবহেলা করে। অথচ এসব মানুষের শ্রমে ও ঘামে আমাদের সমাজ-সংসার টিকে থাকে। উদ্দীপকের 'কুলি' একজন শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ। সে বাবু সাহেবের নির্যাতনের শিকার। কুলি বলে বাবু সাহেব তাকে অবহেলার সঙ্গে ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। শোষিত ও নির্যাতিত হওয়ার দিক থেকে কুলি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের তথাকথিত ছোটলোক শ্রেণির প্রতিনিধি। প্রবন্ধে বলা হয়েছে সমাজের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষদের ছোটলোক বলে উপেক্ষা ও অবহেলা করা হয়। খেটে খাওয়া এসব মানুষের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ, মুক্ত ও উদার। অথচ তাদের উপেক্ষা ও ঘৃণা করে দূরে সারিয়ে রাখে ধনিক শ্রেণি। দেশের তথাকথিত সেই ভদ্রলোকেরা তাদের শোষন ও নির্যাতন করে। শ্রমজীবীদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। তাই বলা যায় যে, উপেক্ষিত ও নির্যাতিত হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের 'কুলি' আলোচ্য প্রবন্ধের তথাকথিত ছোটলোক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে।
“উদ্দীপকে উল্লিখিত বাবু' সা'ব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

"উদ্দীপকে উল্লিখিত বাবু সা'ব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের আভিজাত্যগর্বিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।”- মন্তব্যটি যথার্থ। একটি জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে সেই দেশের কর্মজীবী খেটে খাওয়া মানুষদের কর্মপ্রচেষ্টার ওপর। কারণ তারা দেশের বৃহৎ একটা শক্তি। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ আছে যারা এসব মানুষকে শোষণ ও নির্যাতন করে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে বলা হয়েছে আমাদের সমাজে এক শ্রেণির সুবিধাভোগী মানুষ রয়েছে। তারা নিজেদের ভদ্র সম্প্রদায় হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা সমাজের নির্মাতা শ্রমজীবী মানুষদের নানাভাবে শোষণ করে। তাদের কোণঠাসা করে রাখে। তাদের শক্তিকে উপেক্ষা করে সমাজে উঁচু-নিচু বিভেদ সৃষ্টি করে। আভিজাত্যের অহংকারে তারা শ্রমজীবী মানুষদের ওপর অত্যাচার চালায়। এসব বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে উদ্দীপকের বাবু সা'ব অভিজাত সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধি। কারণ সে স্টেশনের কুলিকে ছোটলোক বলে উপেক্ষা করে ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়ের যে অমানবিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন তা উদ্দীপকের বাবু সা'ব চরিত্রে প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

উদ্দীপক-১: "দেখিনু সেদিন রেলে, কুলি বলে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে! চোখ ফেটে এল জল, এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?” উদ্দীপক-২: "জেনেছি সত্য বহুদিন মনে মনে, মুক্তির পথ মিশে গেছে জনগণে। যেখানে লক্ষ লোকের রুক্ষ হাত, সৃষ্টির মাঝে নিয়োজিত দিনরাত। সেই জনতার দীপ্ত মিছিল ধরে, নবযুগ আসে রক্ত দিনের ভোরে।"

Barisal · 2020

ভারতে অসাধ্য সাধন করেছিলেন কে?

উত্তর

ভারতে অসাধ্য সাধন করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী।
“ছোটলোকদের অন্তর কাঁচের ন্যায় স্বচ্ছ"- এ কথা দ্বারা লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

“ছোটলোকদের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ” বলতে উপেক্ষিত সম্প্রদায়ের অতি সরল ও উদার মনমানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে। উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক সাম্যবাদী চেতনা এবং গণতন্ত্রের জন্য উপেক্ষিত শক্তির জাগরণের দিকটি তুলে ধরেছেন। প্রবন্ধে নিম্ন শ্রেণি সহজ-সরল মানুষকে তথাকথিত উচ্চ শ্রেণির লোকেরা ছোটলোক বলে অভিহিত করেছে। লেখক এই অবহেলিত সম্প্রদায়ের আচরণ সম্পর্কে বলেছেন এদের অন্তর কাচের ন্যায় স্বচ্ছ। কারণ এই উপেক্ষিত সম্প্রদায় মনোভাবের দিক থেকে অত্যন্ত সরল ও উদার। আর তথাকথিত ভদ্রলোকদের অন্তর অস্বচছ তারা অহংকারী এবং অভিজাত্যের গর্বে গর্বিত।
উদ্দীপক-১ এর বাবু সা'ব 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের কাদের, প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপক-১ এর বাবু সাব 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের আভিজাত্য গর্বে গর্বিত শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে। দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতি নির্ভর করে মানুষের সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টার ওপর। কোনো একটি বিশেষ শ্রেণি-গোষ্ঠীর পক্ষে এককভাবে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়। দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হয়। উদ্দীপকে একটি সমাজের উচ্চশ্রেণি ও নিম্নশ্রেণির বৈষম্যের দিক প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে বাবু সাহেব রেল গাড়িতে কুলি বলে এক ব্যক্তিকে ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। এই অমানবিক দৃশ্য দেখে নিয়ে কবির চোখ ফেটে জল আসে। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে- এমনি করে কি জগৎ জুড়ে দুর্বলেরা মার খাবে? 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের আভিজাত্য গর্বে গর্বিত উচ্চশ্রেণির লোকেরা ক্ষুদ্র শ্রেণি-পেশার মানুষকে ছোটলোক বলে আখ্যায়িত করেছেন। কবি যাদের বলেছেন দেশের দশ আনা শক্তি। অথচ এরা ছয় আনা শক্তির কাছে বৈষম্যের শিকার হয়ে অবহেলিত থাকে।
উদ্দীপক-২ এর মূলভাব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের মূলভাবের বহিঃপ্রকাশ- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপক-২ এর মূলভাব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের মূলভাবের বহিঃপ্রকাশ- মন্তব্যটি যথার্থ। সমাজে শ্রেণিবৈষম্যের কারণে নিম্ন শ্রেণিপেশার লোকেরা দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পারে না। তাদের সুযোগ দেওয়া হয় না। ধর্মীয়, জাতিগত ও অর্থনৈতিক বিভেদ তাদেরকে সব সময় দূরে সরিয়ে রাখে। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের লেখকের মতে সমাজে আভিজাত্যসম্পন্ন, উচ্চশ্রেণির গুটি কয়েক ব্যক্তি নিম্ন শ্রেণিপেশার লোকদেরকে ছোটলোেক বলে অভিহিত করে। তথাকথিত এই ছোটলোক সম্প্রদায় সমাজে নানাভাবে উপেক্ষিত হয়। ফলে তারা আজ নিজেদের শক্তি, অধিকার সব প্রায় ভুলতে বসেছে। জাতিকে উন্নতির দিকে ধাবিত করতে হলে এই বিভেদের প্রাচীর ভেঙ্গে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উদ্দীপকেও কবি বলছেন, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই জাতীয় মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। সেখানে লাখো শ্রমিকের হাত দিন-রাত কর্মে নিয়োজিত থাকে এবং নিম্ন শ্রেণিপেশার লোকদের হাত ধরে নব যুগ আসে। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক আমাদের সমাজের ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদের বিষয় ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থগত, জাতিগত বিবেচনায় যারা সমাজে নিচু শ্রেণি হিসেবে পরিচিত সমাজ গঠনে তারা অপরিহার্য। তাদের অবদানের মর্যাদা দেওয়া হয় না। তারা যা পায় তা হলো উপেক্ষা ও নির্যাতন। অথচ সমাজের সকল শ্রেণির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয় মুক্তির পথ যেমন প্রতিষ্ঠা পায় তেমনই উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

উদ্দীপক-১: "দেখিনু সেদিন রেলে, কুলি বলে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে! চোখ ফেটে এল জল, এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?” উদ্দীপক-২: "জেনেছি সত্য বহুদিন মনে মনে, মুক্তির পথ মিশে গেছে জনগণে। যেখানে লক্ষ লোকের রুক্ষ হাত, সৃষ্টির মাঝে নিয়োজিত দিনরাত। সেই জনতার দীপ্ত মিছিল ধরে, নবযুগ আসে রক্ত দিনের ভোরে।"

Barisal · 2020

ভারতে অসাধ্য সাধন করেছিলেন কে?

উত্তর

ভারতে অসাধ্য সাধন করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী।
“ছোটলোকদের অন্তর কাঁচের ন্যায় স্বচ্ছ"- এ কথা দ্বারা লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

“ছোটলোকদের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ” বলতে উপেক্ষিত সম্প্রদায়ের অতি সরল ও উদার মনমানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে। উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক সাম্যবাদী চেতনা এবং গণতন্ত্রের জন্য উপেক্ষিত শক্তির জাগরণের দিকটি তুলে ধরেছেন। প্রবন্ধে নিম্ন শ্রেণি সহজ-সরল মানুষকে তথাকথিত উচ্চ শ্রেণির লোকেরা ছোটলোক বলে অভিহিত করেছে। লেখক এই অবহেলিত সম্প্রদায়ের আচরণ সম্পর্কে বলেছেন এদের অন্তর কাচের ন্যায় স্বচ্ছ। কারণ এই উপেক্ষিত সম্প্রদায় মনোভাবের দিক থেকে অত্যন্ত সরল ও উদার। আর তথাকথিত ভদ্রলোকদের অন্তর অস্বচছ তারা অহংকারী এবং অভিজাত্যের গর্বে গর্বিত।
উদ্দীপক-১ এর বাবু সা'ব 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের কাদের, প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপক-১ এর বাবু সাব 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের আভিজাত্য গর্বে গর্বিত শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে। দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতি নির্ভর করে মানুষের সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টার ওপর। কোনো একটি বিশেষ শ্রেণি-গোষ্ঠীর পক্ষে এককভাবে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়। দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হয়। উদ্দীপকে একটি সমাজের উচ্চশ্রেণি ও নিম্নশ্রেণির বৈষম্যের দিক প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে বাবু সাহেব রেল গাড়িতে কুলি বলে এক ব্যক্তিকে ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। এই অমানবিক দৃশ্য দেখে নিয়ে কবির চোখ ফেটে জল আসে। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে- এমনি করে কি জগৎ জুড়ে দুর্বলেরা মার খাবে? 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের আভিজাত্য গর্বে গর্বিত উচ্চশ্রেণির লোকেরা ক্ষুদ্র শ্রেণি-পেশার মানুষকে ছোটলোক বলে আখ্যায়িত করেছেন। কবি যাদের বলেছেন দেশের দশ আনা শক্তি। অথচ এরা ছয় আনা শক্তির কাছে বৈষম্যের শিকার হয়ে অবহেলিত থাকে।
উদ্দীপক-২ এর মূলভাব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের মূলভাবের বহিঃপ্রকাশ- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপক-২ এর মূলভাব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের মূলভাবের বহিঃপ্রকাশ- মন্তব্যটি যথার্থ। সমাজে শ্রেণিবৈষম্যের কারণে নিম্ন শ্রেণিপেশার লোকেরা দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পারে না। তাদের সুযোগ দেওয়া হয় না। ধর্মীয়, জাতিগত ও অর্থনৈতিক বিভেদ তাদেরকে সব সময় দূরে সরিয়ে রাখে। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের লেখকের মতে সমাজে আভিজাত্যসম্পন্ন, উচ্চশ্রেণির গুটি কয়েক ব্যক্তি নিম্ন শ্রেণিপেশার লোকদেরকে ছোটলোেক বলে অভিহিত করে। তথাকথিত এই ছোটলোক সম্প্রদায় সমাজে নানাভাবে উপেক্ষিত হয়। ফলে তারা আজ নিজেদের শক্তি, অধিকার সব প্রায় ভুলতে বসেছে। জাতিকে উন্নতির দিকে ধাবিত করতে হলে এই বিভেদের প্রাচীর ভেঙ্গে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উদ্দীপকেও কবি বলছেন, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই জাতীয় মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। সেখানে লাখো শ্রমিকের হাত দিন-রাত কর্মে নিয়োজিত থাকে এবং নিম্ন শ্রেণিপেশার লোকদের হাত ধরে নব যুগ আসে। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক আমাদের সমাজের ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদের বিষয় ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থগত, জাতিগত বিবেচনায় যারা সমাজে নিচু শ্রেণি হিসেবে পরিচিত সমাজ গঠনে তারা অপরিহার্য। তাদের অবদানের মর্যাদা দেওয়া হয় না। তারা যা পায় তা হলো উপেক্ষা ও নির্যাতন। অথচ সমাজের সকল শ্রেণির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয় মুক্তির পথ যেমন প্রতিষ্ঠা পায় তেমনই উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নাজিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের মেয়ের বিয়ে- এলাহি কাণ্ড। তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে-মেয়ের বন্ধুবান্ধব, শহর থেকে আসা আত্মীয়-স্বজনে গোটা বাড়ি গমগম করছে। কিন্তু দাওয়াতে আসা বাজারের চামার, মেথর থেকে শুরু করে কুলি, মজুর, মুটে সবার উপস্থিতি দেখে বড় ছেলে মাহফুজ বিরক্ত হলেন, আরও অবাক হলেন এসব লোকদের যখন তার বাবা হাত ধরে খাবার টেবিলে বসালেন, নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করলেন। ছেলে বলল, 'মান সম্মান আর কিছু বাকি রইল না।' ছেলের কথায় চেয়ারম্যান বললেন, 'এরাই দেশ ও জাতির সম্পদ, এসব মানুষই তো জাতির শক্তি।

Jessore · 2020

কোনটি আত্মার ধর্ম নয়?

উত্তর

মানুষ হয়ে মানুষকে ঘৃণা বা উপেক্ষা করা আত্মার ধর্ম নয়।
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে বোধন বাঁশিতে সুর দিতে - বলা হয়েছে কেন?

উত্তর

আমাদের সমাজের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি সাধনের জন্য লেখক বোধন-বাঁশিতে সুর দিতে বলেছেন। বোধন-বাঁশিতে সুর দেওয়া বলতে লেখক ভদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে বোধ জাগ্রত হওয়ার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন। আমাদের সমাজে মানুষে মানুষে বৈষম্য এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যেখানে তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায় বসেছেন সমাজের সর্বোচ্চ আসনে। তারা অপেক্ষাকৃত নিচু সম্প্রদায়কে ঘৃণা করেন, অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখেন। এ কারণেই আমাদের সমাজ এতখানি পশ্চাৎপদ। এ পশ্চাৎপদ সমাজকে টেনে তুলতে হলে ভদ্রলোক সম্প্রদায়ের মধ্যে বোধের জাগরণ ঘটাতে হবে। এজন্য লেখক বোধন-বাঁশিতে সুর দিতে বলেছেন।
উদ্দীপকের মাহফুজের মাধ্যমে 'উপেক্ষিত, শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের যে দিকটির ইঙ্গিত করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মাহফুজের মাধ্যমে 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের সমাজের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ের মনোভাবের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সমাজে মানুষে মানুষে বৈষম্য বিদ্যমান। এই শ্রেণিবৈষম্যের কারণে আমরা আজ পিছিয়ে পড়েছি। ধনিক শ্রেণির মানুষ নানাভাবে দরিদ্রদের অবহেলা ও শোষণ করে আসছে। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে সমাজের উন্নতি সম্ভব নয়। উদ্দীপকে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের প্রতি চরম অবহেলা ও ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে চেয়ারম্যানের ছেলে মাহফুজের আচরণে। সে তাদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে আসা নিম্নশ্রেণির মানুষদের দেখে বিরক্ত হয়। এ বিষয়টি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে প্রকাশিত সমাজের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ের আচরণ ও মানসিকতার প্রতি ইঙ্গিত করে। আমাদের দেশের দশ আনা শক্তি যাদের ওপর নির্ভর করছে তাদেরই শোষণ ও অবহেলা করে আসছে তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়। উদ্দীপকের মাহফুজের মাধ্যমে প্রবন্ধের এই ভদ্র সম্প্রদায়ের মানসিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
চেয়ারম্যান সাহেব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের লেখকের ভাবনাকেই ধারণ করেছেন- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

চেয়ারম্যান সাহেব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের লেখকের ভাবনাকেই ধারণ করেছেন- মন্তব্যটি যথার্থ। যুগ যুগ ধরে সমাজে শ্রমজীবী মানুষেরাই সভ্যতা গড়ে তুলতে এগিয়ে এসেছে। অথচ তারাই তথাকথিত ভদ্রলোকদের কাছে 'ছোটলোক' পরিচয়ে পরিচিত এবং তাদের দ্বারা নানাভাবে শোষিত ও অবহেলিত। আমাদের উচিত এসব মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো। 'উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, আমাদের দেশের বৃহৎ অংশ শ্রমজীবী মানুষ। তারা আজ ভদ্র সম্প্রদায় দ্বারা উপেক্ষিত ও অবহেলিত। দেশের মোট শক্তির হিসাবে এরা দশ আনা। এই দশ আনা শক্তি তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায় দ্বারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অথচ এরা ঐক্যবদ্ধ মহাশক্তিরূপে দেশ ও সমাজের কল্যাণ সাধন করে। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের মধ্যেও এই মানবিক বোধের প্রকাশ ঘটেছে। তিনি মনে করেন ছিন্নমূল হতদরিদ্র লোকেরাও মানুষ। তাই তিনি তাদের মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত করেছেন এবং নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করেছেন। তিনি দরিদ্র ও শ্রমজীবীদের অবহেলা না করে মূল্যায়ন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন এরাই দেশ ও জাতির সম্পদ। দেশের উন্নয়নে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব মানুষই দেশের সম্পদ, জাতির শক্তি। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক পতিত, চণ্ডাল, ছোটলোক ভাইদের বুকে টেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে বলেছেন। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবও মেয়ের বিয়েতে সাধারণ এসব মানুষকে আপ্যায়ন করার মধ্য দিয়ে এ কাজটিই করেছেন। এ দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

নাজিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের মেয়ের বিয়ে- এলাহি কাণ্ড। তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে-মেয়ের বন্ধুবান্ধব, শহর থেকে আসা আত্মীয়-স্বজনে গোটা বাড়ি গমগম করছে। কিন্তু দাওয়াতে আসা বাজারের চামার, মেথর থেকে শুরু করে কুলি, মজুর, মুটে সবার উপস্থিতি দেখে বড় ছেলে মাহফুজ বিরক্ত হলেন, আরও অবাক হলেন এসব লোকদের যখন তার বাবা হাত ধরে খাবার টেবিলে বসালেন, নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করলেন। ছেলে বলল, 'মান সম্মান আর কিছু বাকি রইল না।' ছেলের কথায় চেয়ারম্যান বললেন, 'এরাই দেশ ও জাতির সম্পদ, এসব মানুষই তো জাতির শক্তি।

Jessore · 2020

কোনটি আত্মার ধর্ম নয়?

উত্তর

মানুষ হয়ে মানুষকে ঘৃণা বা উপেক্ষা করা আত্মার ধর্ম নয়।
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে বোধন বাঁশিতে সুর দিতে - বলা হয়েছে কেন?

উত্তর

আমাদের সমাজের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি সাধনের জন্য লেখক বোধন-বাঁশিতে সুর দিতে বলেছেন। বোধন-বাঁশিতে সুর দেওয়া বলতে লেখক ভদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে বোধ জাগ্রত হওয়ার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন। আমাদের সমাজে মানুষে মানুষে বৈষম্য এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যেখানে তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায় বসেছেন সমাজের সর্বোচ্চ আসনে। তারা অপেক্ষাকৃত নিচু সম্প্রদায়কে ঘৃণা করেন, অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখেন। এ কারণেই আমাদের সমাজ এতখানি পশ্চাৎপদ। এ পশ্চাৎপদ সমাজকে টেনে তুলতে হলে ভদ্রলোক সম্প্রদায়ের মধ্যে বোধের জাগরণ ঘটাতে হবে। এজন্য লেখক বোধন-বাঁশিতে সুর দিতে বলেছেন।
উদ্দীপকের মাহফুজের মাধ্যমে 'উপেক্ষিত, শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের যে দিকটির ইঙ্গিত করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকের মাহফুজের মাধ্যমে 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের সমাজের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ের মনোভাবের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সমাজে মানুষে মানুষে বৈষম্য বিদ্যমান। এই শ্রেণিবৈষম্যের কারণে আমরা আজ পিছিয়ে পড়েছি। ধনিক শ্রেণির মানুষ নানাভাবে দরিদ্রদের অবহেলা ও শোষণ করে আসছে। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে সমাজের উন্নতি সম্ভব নয়। উদ্দীপকে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের প্রতি চরম অবহেলা ও ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে চেয়ারম্যানের ছেলে মাহফুজের আচরণে। সে তাদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে আসা নিম্নশ্রেণির মানুষদের দেখে বিরক্ত হয়। এ বিষয়টি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে প্রকাশিত সমাজের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ের আচরণ ও মানসিকতার প্রতি ইঙ্গিত করে। আমাদের দেশের দশ আনা শক্তি যাদের ওপর নির্ভর করছে তাদেরই শোষণ ও অবহেলা করে আসছে তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়। উদ্দীপকের মাহফুজের মাধ্যমে প্রবন্ধের এই ভদ্র সম্প্রদায়ের মানসিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
চেয়ারম্যান সাহেব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের লেখকের ভাবনাকেই ধারণ করেছেন- বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

চেয়ারম্যান সাহেব যেন 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের লেখকের ভাবনাকেই ধারণ করেছেন- মন্তব্যটি যথার্থ। যুগ যুগ ধরে সমাজে শ্রমজীবী মানুষেরাই সভ্যতা গড়ে তুলতে এগিয়ে এসেছে। অথচ তারাই তথাকথিত ভদ্রলোকদের কাছে 'ছোটলোক' পরিচয়ে পরিচিত এবং তাদের দ্বারা নানাভাবে শোষিত ও অবহেলিত। আমাদের উচিত এসব মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো। 'উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, আমাদের দেশের বৃহৎ অংশ শ্রমজীবী মানুষ। তারা আজ ভদ্র সম্প্রদায় দ্বারা উপেক্ষিত ও অবহেলিত। দেশের মোট শক্তির হিসাবে এরা দশ আনা। এই দশ আনা শক্তি তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায় দ্বারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। অথচ এরা ঐক্যবদ্ধ মহাশক্তিরূপে দেশ ও সমাজের কল্যাণ সাধন করে। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের মধ্যেও এই মানবিক বোধের প্রকাশ ঘটেছে। তিনি মনে করেন ছিন্নমূল হতদরিদ্র লোকেরাও মানুষ। তাই তিনি তাদের মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত করেছেন এবং নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করেছেন। তিনি দরিদ্র ও শ্রমজীবীদের অবহেলা না করে মূল্যায়ন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন এরাই দেশ ও জাতির সম্পদ। দেশের উন্নয়নে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব মানুষই দেশের সম্পদ, জাতির শক্তি। 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধে লেখক পতিত, চণ্ডাল, ছোটলোক ভাইদের বুকে টেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে বলেছেন। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবও মেয়ের বিয়েতে সাধারণ এসব মানুষকে আপ্যায়ন করার মধ্য দিয়ে এ কাজটিই করেছেন। এ দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSC বাংলা ১ম পত্র — উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন MCQ | Prosthuti